ডিজেল সংকটে গাড়ি সংকট, ভাড়া নৈরাজ্যে পরিবহণ শ্রমিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সকাল সাতটায় ঘর থেকে বেরিয়েছি স্কুলে যাওয়ার জন্য। ৫০ মিনিটের উপরে দাঁড়িয়ে আছি কিন্তু গাড়িতে উঠতে পারছি না। অনেকক্ষণ পরে একটি লোকাল বাস বা সিএনজি টেক্সি আসলেও সেগুলোতে জায়গা নিই। তারউপর মেয়ে মানুষ ধাক্কাধাক্কি করেও উঠতে পারছি না। তাই বাধ্য হয়ে সিএনজি নিয়ে কর্মস্থরে আসি। তবে এখানেও রয়েছে বিপত্তি। এক’শ টাকার সিএনজি ভাড়া রেখেছে ১৮০ টাকা। এমনটাই বলছিলেন নগরীর এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষিকা সামিরা আক্তার। শুধু সামিরা আক্তারই নয়, রবিবার সকাল থেকে কর্মস্থলে যাওয়া সব যাত্রীরাই বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করছেন। দেশে ডিজেল সংকটের কারণে রাস্তায় যানবাহন কমে গেছে। এতে যাত্রীদের কর্মস্থল ও বাসাবাড়ি পৌছতে চরম দূভোর্গ পৌহাকে হচ্ছে । আবার এ সুযোগ লুপে নিচ্ছেন পরিবহন শ্রমিকরা। যাতায়াত ভাড়া বাড়িয়েছেন দ্বিগুনেরও বেশি। এমনটাই অভিযোগ করছেন নগরীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য অপেক্ষমান যাত্রীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্গ সময় লোকাল পরিবহনের জন্য অপেক্ষা করে অপারগ হয়ে সিএনজি রিকশা কিংবা পাঠাও মোটরচাইকেলে করে কর্মস্থলে যাচ্ছেন অনেক যাত্রী। সেখানেও তাদের দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে। আবার পর্যাপ্ত পাওয়া যাচ্ছেনা এসব যানবাহনগুলো। এদিকে, অন্য সাধারণ দিনের চেয়ে সড়কে লোকাল পরিবহন কম দেখা যায়।
আসমা সুলতার ও ফারজানা আক্তার নামের দুই যাত্রীকে দেখা যায়, তারা কেউ কাউকে চিনেনা। তবে দীর্গক্ষণ নগরীর বহদ্দারহাট মোড়ে দাঁড়িয়ে আছেন। এমন মুখ চেনার মধ্যেই তারা একে অন্যের সাথে আলোচনা করে জিইসি মোড়ের জন্য একটি সিএসজি ভাড়া করেন ১৯০ টাকায়। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, একজন চাকরি করেন জিইসির মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে এবং আরেকজন ভিসা এজেন্সিতে চাকরি করেন। একার পক্ষে এতো ভাড়া বহন করা সম্ভব হচ্ছে না দেখেই তারা একে অন্যের সাথে আলোচনা করে একসাথে সিএনজি ভাড়া করে কর্মস্থলে যান।
এদিকে, নগরীর নতুনব্রীজ থেকে ছেড়ে আসা চার নম্বর, কালুঘাটের থেকে আসা ১০ নম্বর ও ১ নম্বর বাসের হেল্পারা যাত্রী উঠা নামা ১০ বলে যাত্রীদের উঠার সুযোগ দিচ্ছেন।
চার নম্বর বাসের একাধী যাত্রীকে এ নিয়ে ড্রাইভার ও হেল্পারের সাথে কথা কাটাকাটি করতেও দেখা যায়।
নাছির হোসের নামের এক যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, দেশে ডিজেল নেই ঠিক আছে। কিন্তু গ্যাসের গাড়ির কেন দাম বাড়তি রাখা হচ্ছে। তারাও এ সুযোগে ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে। যাত্রীরা যেন পরিবহণ শ্রমিকদের কাছে বন্ধি। এমন শুধু বাংলাদেশেই সম্ভব। যাদের সমস্যা তাদেরতো আছেই, কিন্তু যাদের সমস্যা না তারাও সুযোগ হাতছাড়া করছে না। এখন ডিজেল নেই বলে দাম বাড়ালো কিন্তু যখন ডিজেল আবার এভেইলএভল হবে তখনকি তারা আবার দাম কমাবে? প্রশাসনের নজরদাড়ি বাড়ানো দরকার। তারা হলে এ অরাজকরা চলতে থাকবে।
হয়রানি শিকার হচ্ছেন বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্বাবদ্যালয়গামি শিক্ষার্থীরা। তাদের সড়কে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে দেয়া যায়। অনেকে হেটে যাতাযাত করতে দেখা যায়।
এদিকে পরিবহন শ্রমিকরাও অভিযোগ করছেন পেট্টল পাম্পে তেল নেই। বেশি দামে তেল কিনছি। আবার তেল নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। গ্যাস নিতেও দীর্ঘ লাইন ধরে তারপর গ্যাস নিতে হচ্ছ। ডিজেলের গাড়ি কমায় গ্যাসের গাড়ির উপর চাপ বেড়েছে। যাত্রীদের এতো চাপ দামতো বাড়বেই। এদিকে রাস্তায় পুলিশ আছেই বিরক্ত করার জন্য। আমরা বেশি নিচ্ছি দেখেন কিন্তু খরচও যে গড়েছে সেটাওতো দেখতে হবে। ডিজেলেও সাথে সম্পৃক্ত সব কিছুরই দাম বেড়েছে। তাই আমরাও কম হয়রানি হয়রানরি শকিার হচ্ছিনা।
এদিকে, প্রতিদিনের মত আজও নগরীর সব পেট্টলপাম্পে ডিজেল চালিত গাড়ির বেশ ভিড় দেখা যায়। লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে কাঙ্খিত ডিজেল পাচ্ছেন না অনেকে। এনিয়ে অভিযোগেও শেষ নেই মানুষের মধ্যে।

চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি বেলায়েত হোসেন বেলাল বলেন, ডিজেলের দামের কারণে গাড়ি ভাড়া বেড়েছে। তবে গ্যাসের গাড়ির ভাড়া যারা ভাড়াচ্ছে তারা সুযোগ সন্ধানী। এছাড়া যেকোনো বৈশিক্য সমস্যা আমোদের সবাইকে এক সাথে মোকাবিলা করতে হবে। ডিজেলের দাম বাড়ায় শুধু যাত্রীরাই দূর্ভোগে পড়েনি, স্বল্প আয়ের পরিবহন শ্রমিকদেরও জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। আগে তাদের আয় বেশি ছিলো এখন কমেছে। তাই যেটা বেশি মনে হচ্ছে সেটি হিসেব করলে বেশি নয়। এছাড়া আমাদের সংগটনের আওয়ায় যেসব পরিবহস আছে তারা কোনো অনৈতিক কাজ করলে আমরা অভিযোগ তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *