শিল্প-সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য চট্টগ্রামের ৫ গুণীজনকে শিল্পকলা সম্মাননা-২০২৩ প্রদান

নবযাত্রা প্রতিবেদক


শিল্প-সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ চট্টগ্রামের ৫ গুণীজনকে জেলা শিল্পকলা সম্মাননা প্রদান করেছে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি।


গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে বর্ণাড্য আয়োজনের মাধ্যমে চট্টগ্রামের ৫ গুণীজনকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। এবারের সম্মাননা প্রাপ্ত গুণীজনরা হলেন কন্ঠসঙ্গীত বিভাগে বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়ন্তী লালা, চারুকলা বিভাগে চন্দ্র শেখর দে, ফটোগ্রাফি বিভাগে মউদুদুল আলম, নৃত্যকলায় স্বপন কুমার দাশ ও নাট্যকলায় শুভ্রা বিশ্বাস।


চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের সভাপতিত্বে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব খলিল আহমদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সচিব বলেন, বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে চট্টগ্রামে অনেক গুণীশিল্পীদের অবদান রয়েছে। অনেক গুণী ব্যাক্তিত্ব যারা বিভিন্ন পরিপার্শ্বকতার কারণে একুশে পদক বা শিল্পকর্মে তাদের অবদান স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শিল্পকলা একাডেমি তাদের শিল্পকর্ম এবং তাদেরকে সম্মানিত করতে চেষ্টা করছে। শিল্পকলা একাডেমি মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান প্রথা থেকে বেরিয়ে এসে শিল্পীদের জীবদ্দশায় প্রাপ্ত সম্মান দেওয়ার প্রচেষ্টায় দৃঢ়তাবদ্ধ ।


তিনি আরো বলেন, সংস্কৃতি চর্চার প্রসারের জন্য দেশব্যাপী সংস্কৃতি- সাহিত্য মেলাসহ, টেলেন্ট হান্ট প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে আগামী প্রজন্মকে সংস্কৃতি প্রেমী করে গড়ে তুলতে গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান ও তাদের শিল্পকর্মের স্বীকৃতি প্রেরণা ও উৎসাহিত করবে।


এসময় অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে সম্মাননা প্রাপ্ত গুণীজনদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান জেলা কালচারাল অফিসার মো. মোসলেম উদ্দিন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পরিষদ সদস্য একুশে পদক প্রাপ্ত বিশিষ্ট নাট্যজন আহমেদ ইকবাল হায়দার, জেলা শিল্পকলা একাডেমি চট্টগ্রাম কমিটির নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বাবু।  অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. সাদি উর রহমান জাদিদ শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। এসময় আরো বক্তব্য রাখেন সম্মাননা প্রদান কমিটির সদস্য অলক ঘোষ পিন্টু।


সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, তরুণ-তরুণীদেরকে ডিজিটাল ডিভাইস আসক্ত থেকে দূরে সরিয়ে খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন চট্টগ্রাম জেলার প্রতিটি উপজেলায় খেলার মাঠ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করেন।


আলোচনা পর্ব শেষে সম্মাননা প্রাপ্ত গুণীজনদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও উত্তরীয় এবং সম্মননা ক্রেস্ট, সনদ তুলে দেন সচিব খলিল আহমদ। সম্মাননা প্রাপ্ত গুণীজনদের মধ্য থেকে অনুভূতি ব্যক্ত করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়ন্তী লালা।


আবৃত্তি শিল্পী ফারুক তাহেরের সঞ্চলনায় সম্মাননা প্রদান শেষে শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীত ও নৃত্যশিল্পী এবং অতিথি শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *