নবযাত্রা প্রতিবেদক
সুস্থধারার চলচ্চিত্র সুস্থ প্রজন্ম তৈরি হতে সাহায্য করে। বর্তমান প্রজন্ম অনেক বেশি মোবাইল-ইন্টারনেটে আসক্ত। যা তাদের উন্নত মানসিক বিকাশে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যদি নতুন প্রজন্মকে এখনি সাংস্কৃতিমনা না করা যায় তবে তারা ভুল পথে ধাবিত হবে। তাই শিশুদের কথা মাথায় রেখে ‘দিপু নম্বর টু, আমার বন্ধু রাসেল’এর মত ভালোমানের শিশুতোষ চলচ্চিত্র আরো তৈরি করা উচিত। ১৫তম আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধীন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও চিলড্রেন’স ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা মোরশেদুল ইসলাম।
গতকাল সকালে চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমিতে দুই দিনের ১৫তম আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করেন ‘চিলড্রেন’স ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশ’। চট্টগ্রাম বিভাগীয় উৎসব আহবায়ক তানজীল রশীদের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন, চিলড্রেন’স ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা মোরশেদুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মু. মাহমুদ উল্লাহ মারূফ, চলচ্চিত্র নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মুনিরা মোরশেদ মুননী।
সভায় অতিথিরা বলেন, শিশুদের নিয়ে এ চলচ্চিত্র উৎসব শুধু শিশুদের কোনো সাধারণ মুভি দেখানো নয়। এ মুভিগুলোর মধ্যে রয়েছে এক একটি ম্যাসেজ। যেগুলো তাদের মধ্যে চিন্তা-চেতনা সৃষ্টি করতে, ভালো-মন্ধ বুঝতে সাহায্য করে এবং সিদ্ধান্ত নিতে শিখতে সাহায্য করে। শিশু চলচ্চিত্র উৎসবের এ আয়োজনটা ৬ থেকে ২৫ বছরের শিশু-তরুণ-তরুণীরাই করে। এতে শুধু একজন শিশু বা তরুণ একটি দিক শিখে না। এখানে তারা ফিল্ম মেকার, ডিরেক্টর, স্ক্রিপ্ট রাইটার, অভিনেতা-অভিনেত্রীসহ লাইট, সাউন্ড, শব্দ ডিরেকশন এমন সব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করে ও শিখতে পারে। এখানে এসে অনেক শিশু-কিশোর নিজেরাই ছোট গল্প, স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র তৈরি করতে শিখেছে। পরবর্তীতে তারা অনেকে চলচ্চিত্র তৈরি করেছে। আমাদের শিশু-কিশোরদের এমন কিছু চলচ্চিত্র চরকি’তে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। আলোচনা সভা শেষে গতকাল পাঠশালা, কাঁঠাল, শুমস অডেসি ও কুং ফু গার্ল চলচ্চিত্রগুলো প্রদর্শন করা হয়।
এছাড়া বিকাল ৩টায় শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার হলে চলচ্চিত্র নির্মাণ বিষয়ে একটি কর্মশালার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ক্লাস নিয়েছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী।