নবযাত্রা প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম জেলায় গত ৩৯ মাসে পারিবারিক কলহের বিরোধ সংক্রান্ত বিষয় বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) ২৭০টি সালিশি বিরোধ নিষ্পত্তি করে। এসব পারিবারিক বিরোধগুলোর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ হচ্ছে যৌতুকের কারণে নারী নির্যাতন, পরকীয়া সংক্রান্ত বিষয় ও কাবিনের টাকা আদায়ের বিষয় অভিযোগ। এসব অভিযোগের মধ্যে ৯৮ ভাগ অভিযোগই নারীদের পক্ষ থেকে হয়ে থাকে।
করোনার মধ্যে কমেছিল অভিযোগ। কিন্তু চলতি বছরের তিন মাসের তথ্যচিত্র মতে আবার বাড়ছে এ অভিযোগের হার। সম্পূর্ণ বিনামূলে ব্লাস্ট ভ্রাম্যমান আইন সহায়তা সংস্থার সহায়তায় তিন বছর তিন মাসে চট্টগ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে অভিযোগ করা তথ্যের ভিত্তিতে ২৭০টি অভিযোগ মিমাংসা করেছে এবং এ সময়ে আইনি সহায়তা প্রদান করতে ২৭৬টি মামলা করেছে ব্লাস্ট।
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটির দেয়া তথ্যে দেখা যায়, ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম জেলায় নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন পারিবারিক কলহের বিষয়ে অভিযোগ পড়ে ৫৮০টি। সেবছর সালিসের মাধ্যমে মীমাংসা হয়েছে ৯৭টি। জেলা লিগ্যাল এইডে ফরমালি রেফার করা হয়েছে ৯১টি। এরমধ্যে সালিশি বৈঠকে মিমাংসা না হলে ব্লাস্টের পক্ষ থেকে মামলা করে আইনি সহায়তা দেয়া হয় ৫৮ জনকে। অভিযোগের পরবর্তীতে অভিযোগকারীদের অনীহায় অভিযোগ বাতিল করা হয় ৮১টি। একই বছরে চলমান মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ৭৩টি এবং ডাক্তারসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থার পরামর্শ নিতে রেফার করা হয় ৩৬ জনকে। দেশে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে ২০২০ সালে অভিযোগ কমে পড়েছে ২৭৮টি। সেবছর সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা হয়েছে ৪৭টি। জেলা লিগ্যাল এইডে ফরমালি রেফার করা হয়েছে ২১টি। এরমধ্যে সালিশি বৈঠকে মিমাংসা না হলে ব্লাস্ট মামলা করে ৫১ টি। পরবর্তীতে অভিযোগকারীদের অনীহায় বাতিল হয়েছে ৭০টি। একই বছরে চলমান মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ৪২টি এবং অভিযোগের ভিত্তিতে ডাক্তারসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থার পরামর্শ নিতে রেফার করা হয় ৫৪ জনকে। ২০২১ সালে অভিযোগ পড়েছে ৪৩৭টি। সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা হয়েছে ৯০টি। ফরমালি রেফার করা হয়েছে ১টি। মিমাংসা না হলে মামলা করা হয় ৮৫ টি। অভিযোগকারীদের অনীহায় অভিযোগ বাতিল হয়েছে ৪৪টি। চলমান মামলাগুলোর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ৩৭টি এবং অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন সেবা সংস্থার পরামর্শ নিতে রেফার করা হয় ১ জনকে। এছাড়াও চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত অভিযোগ পড়ে ১০৪টি। সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা হয়েছে ৩৬টি। জেলা লিগ্যাল এইডে রেফার করা হয়েছে ২টি। সালিশি বৈঠকে মিমাংসা না হলে ব্লাস্টের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে ৪২টি। বাতিল করা হয় ১৩টি। এসময়ের মধ্যে চলমান মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ২৫টি এবং অভিযোগের ভিত্তিতে পরামর্শ নিতে রেফার করা হয় ৮১ জনকে।
ব্লাস্ট চট্টগ্রাম ইউনিটের আইনজীবী এডভোকেট জিন্নাত আমিন বলেন, প্রতিদিনই কোনো না কোনো অভিযোগ আসছে। এ অভিযোগগুলো বেশি করছে নারীরা। ঘটনা বিশ্লেষণ করে যখন দেখা যায় এ সমস্যায় ব্লাস্টের সহযোগিতা প্রয়োজন আছে তখনই ব্লাস্ট সম্পূর্ণ বিনামূলে আইনি সহায়তা দিচ্ছে। এক্ষেত্রে কিছু অভিযোগ দেখা যায় দুই পক্ষকে নিয়ে সালিশের মাধ্যমে সমাধান করা যায় সম্ভব সে অভিযোগগুলো এখানেই সমাধান হয়। আবার কিছু অভিযোগ দেখা যায় দুই পক্ষের মধ্যে সংসার করার প্রবণতা নেই এমন কিছু জটিল সমস্যা হলে এটি আদালত পর্যন্ত যায়। যেহেতু নারীরা আইনগতভাবে কাবিনের টাকা পাওয়ার অধিকার রাখে এক্ষেত্রে ছেলে কাবিনের টাকা দিতে না চাইলে ব্লাস্টের পক্ষ থেকে একজন আইনজীবী ভোক্তভুগীর পক্ষে মামলার মাধ্যমে আইনি সহায়তা করে থাকে।
ব্লাস্ট চট্টগ্রাম ইউনিটের কো-অর্ডিনেটর এডভোকেট রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম একটি বেসরকারি আইন সহায়তা সংস্থা ব্লাস্ট। সারাদেশে ১৬টি বিষয়ের উপর ব্লাস্টের ২৫টি শাখায় সম্পুন্ন বিনামূলে সালিশি ও আইনি সহায়তা দিচ্ছে। আর্থিক বা অন্য কোন অক্ষমতার কারণে কোনো নাগরিক যেন ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত না হয় সেটাই নিশ্চিত করতে ব্লাস্ট কাজ করছে। এরমধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হচ্ছে নারী অধিকার।