এক নজরে গত ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল

নবযাত্রা ডেস্ক

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকা স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন, এমনটিই প্রত্যাশা দেশবাসীর। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে আজ। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। এক নজরে ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনঃ ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিলেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। ওই তফসিলে মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখ ছিল ৩০ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ ১৮ ডিসেম্বর। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনঃ ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিলের তৎকালীন নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা। ওই নির্বাচনি তফসিলে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল ২৮ নভেম্বর, মনোনয়ন যাচাই-বাছাই ২ ডিসেম্বর ও মনোনয়ন প্রত্যাহারের তারিখ ছিল ৯ ডিসেম্বর। ভোটগ্রহণের তারিখ ছিল ৩০ ডিসেম্বর। নির্বাচনে দেশের বড় দুটি রাজনৈতিক দল—বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্বে গঠিত মহাজোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জোটসহ বাংলাদেশের নিবন্ধিত সর্বমোট ৩৯টি দল অংশগ্রহণ করে। ‘রাতের ভোট’ হিসেবে পরিচিত পাওয়া ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এককভাবেই ২৫৮টি আসনে জয়ী বলে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করে।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনঃ ২০১৩ সালের ২৫ নভেম্বর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিলেন তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দিন আহমদ। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি। বিরোধী জোট নির্বাচন বর্জন করায় ওই নির্বাচনটি বেশ বিতর্কিত ছিল। ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লিগ ২৩৪টি আসনে জয়লাভ করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করে। নির্বাচনের দিন সহিংসতায় নিহত হয়েছিলের ১৯ জন সাধারণ মানুষ। নির্বাচনপূর্ব সহিংসতার দিক থেকেও ওই নির্বাচন অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ২০১৩ সালের ২৫ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোটের আগের দিন পর্যন্ত ৪১ দিনে মারা গেছেন ১২৩ জন। ভোটের দিন এতসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি এর আগে দেশে আর দেখা যায়নি।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনঃ ২০০৮ সালের ২ নভেম্বর বহুল আলোচিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়। পুনঃতফসিলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত ওই বছরের ২৯ ডিসেম্বর।

অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনঃ অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয় ২০০১ সালের ১৯ অগাস্ট। ৪২ দিন পর ১ অক্টোবর হয় ভোট।

সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনঃ ১৯৯৬ সালের ২৭ এপ্রিল সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ওই বছরের ১২ জুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনঃ ১৯৯৫ সালের ৩ ডিসেম্বর ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ৫৫ দিন পর ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি (পুনঃতফসিল) ভোট হয়। নির্বাচিত সরকারের প্রথম সংসদ অধিবেশন শুরু হয়েছিল ১৯ মার্চ ১৯৯৬ সালে এবং অধিবেশন স্থায়ী ছিল চার কার্যদিবস ২৫ মার্চ ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত। ৩০ মার্চ ১৯৯৬ সালে সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। সংসদ স্থায়ী ছিল মাত্র ১২ দিন।

পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনঃ ১৯৯০ সালের ১৫ ডিসেম্বর পঞ্চম জাতীয় সংসদের তফসিল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় পরের বছর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি।

চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনঃ চতুর্থ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয় ১৯৮৭ সালের ২৬ ডিসেম্বর। ভোট হয় ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ।

তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনঃ তৃতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয় ১৯৮৬ সালের ২ মার্চ। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ওই বছরের ৭ মে।

দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনঃ ১৯৭৮ সালের ২ ডিসেম্বর দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ভোট হয় পরের বছর ১৮ ফেব্রুয়ারি।

প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনঃ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ। ওই বছরের ৭ জানুয়ারি ঘোষণা করা হয় নির্বাচনি তফসিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *