কাপড়ের দাম বেশি হলেও জমজমাট ঈদ কেনাকাটা

ভোগ্যপণ্যের লাগামহীন দামের
প্রভাব পড়বে ঈদের শপিংয়ে।

ডলারের চড়া দাম ও উৎপাদন খরচ
বেশি হওয়ায় আমদানির কাপড় ও
দেশীয় উৎপাদিত কাপড়ের দাম বেশি।

মরিয়ম জাহান মুন্নী


নেটের উপর জরি সুতার কাজ। তারমধ্যে পাথর বসানো। দোকানি কাপড়টির নাম জানায় পাকিস্তানি ‘খুবসুরাত’। অনেকক্ষণ ধরে মা বিবি কুলসুম ও মেয়ে পারুল আক্তার কাপড়টি নিয়ে দর কষাকষি করছেন। কিন্তু প্রতি গজ কাপড় ১৫শ’ টাকা দাম জুড়ে দিয়েছেন টেরিবাজার থান কাপড়ের পাইকারি ও খুচরা বিক্রির দোকান ‘রিস্তা ফ্যাশন’র এক কর্মী। এদিকে মা-মেয়ে গজ ৮শ’ টাকা বলার পরও রাজি নন বিক্রেতা। শেষমেষ প্রতি গজ হাজার টাকায় তিন গজ কাপড় কিনেন তারা।

পাশের দোকানে বেশ ভীড় নারী ক্রেতাদের। তাদের পছন্দের কাপড় বের করে দেখাচ্ছেন কর্মী সোহেল। ভাজ থেকে একের পর এক কাপড় দেখাচ্ছেন আরেক বিক্রেতা ইলিয়াস। পছন্দ হলে কিনে নিচ্ছেন থান কাপড় বা কাটা থ্রিপিসটা। আবার কেউ দামে না মিললে চলে যাচ্ছেন অন্য দোকানে।

আসন্ন রমজানের ঈদকে কেন্দ্র করে এখনই থান কাপড়ের কেনাবেচায় সরগম হয়ে উঠেছে নগরীর বিভিন্ন শপিংমল। শবে বরাতের পর থেকে বিকেল হলেই পরিবার নিয়ে ঈদের পোশাক কিনতে ভীড় করছে নগরীর দুই পাইকারি বাজার টেরিবাজার, রিয়াজউদ্দিন বাজারসহ বিভিন্ন শপিংমলে। তবে এসব শপিংমল ঘুরে দেখা যায়, এবার কাপড়ের দাম বেশ চড়া। ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, ডলারের দাম বেশি এবং পরিবহণ খরচ বেশি হওয়ায় আমদানি করা কাপড়ের দাম বেড়েছে। এছাড়া দেশীয় পোশাকগুলোর এখন ভালো মার্কেট রয়েছে। কিন্তু এ কাপড়গুলোও বুননে খরচ বেড়েছে। তাই সব ধরণের কাপড়ের দাম বেড়েছে। এছাড়া ঈদের কেনাকাটা শুরু হলেও বেচাবিক্রি খুব বেশি হবে আশা করছেন না ব্যবসায়ীরা। কারণ ভোগ্যপণ্যের লাগামহীন দামে নাকাল সাধারণ মানুষ। খেয়ে পড়ে বাঁচা দায় বেশিরভাগ পরিবারের। তাই করোনার আগের সেই আমেজ এবারও আশা করছেন না অনেক ব্যবসায়ী।

সরেজমিনে এসব শপিংমলে দেখা যায়, এমূহুর্তে থান কাপড়, আনস্টিজ থ্রিপিস, ফোরপিস, ছেলেদের পাজামা-পাঞ্জাবি, শার্ট-প্যান্টের গজ কাপড় বেচাবিক্রি শুরু হয়েছে। বিক্রেতারাও ক্রেতার হাতে পছন্দের কাপড়টি তুলে দেয়ার চেষ্টা করছেন। তবে নারী ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি সুতার পাকিস্তানি ও ভারতীয় কাপড়ে। এছাড়া দেশীয় হাতের কাজের কাপড়ে আগ্রহ ক্রেতাদের। শুধু নারীই নয় ভিড় ছিল ছেলেদের থান কাপড়ের দোকানে।

নগরীর চকবাজার, সেন্ট্রাল প্লাজা, শপিং সেন্টার ও আগ্রাবাদের বিভিন্ন শপিংমলের ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনার কারণে গত কয়েকবছর ঈদে বিকিকিনি হয়নি। তারউপর ভোগ্যপণের দাম অনেক বেড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে ঈদ শপিংয়ের উপর। তবে এবার আশা করছি মানুষ ঈদ কেনাকাটায় হাত খোলা হবেন। যেকারণে প্রচুর ঈদ কালেকশন আনা হয়েছে।

টেরিবাজার রাজস্থান শপিং সেন্টারের মো. রহিম বলেন, রাজস্থানে অত্যাধুনিক সেলাইবিহীন থ্রিপিস, ফোরপিসের কালেকশন রয়েছে। এসব পোশাক পাইকারি দামে বিক্রি হচ্ছে। এখন বেচাবিক্রি শুরু হয়েছে। যারা সেলাই কাপড় পড়তে পছন্দ করে তারা শবে বরাতের পর থেকেই শপিং শুরু করেছে। তাই বেচাকেনায় এখনি ঈদের আমেজ শুরু হয়েছে।

টেরিবাজার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি ছালে আহমেদ চৌধুরী বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে আমাদের প্রস্তুতি আছে। কিন্তু দেশের আর্থিক অবস্থা এখন খুব একটা ভালো না। ভোগ্যপণ্যের দামও বেশি। যেকারণে সাধারণ মানুষও আর্থিক সংকটে রয়েছে। বেশি দামে পোশাক আমদানি করছে ব্যবসায়ীরা। আবার ডলারের উচ্চ মূল্যের কারণে যেপরিমাণ পোশাক আমাদনি করা প্রয়োজন সেপরিমান কাপড় আমদানি হচ্ছেনা। এতে এবারের ঈদ পোশাকের দাম বেশি। সব মিলে খুব একটা আশাবাদি নই। বাকিটা সময়ের হাতে।

টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান বলেন, করোনার আগে শবেবরাতে যেভাবে ঈদের বেচাকেনা শুরু হয় করোনার পর কোনো ঈদে সেই চিত্র দেখা যায়নি বললেই চলে। তবে এখন ঈদকে কেন্দ্র করে কিছুটা জমে উঠেছে বেচাবিক্রি।

চকবাজার মতি টাওয়ারের এনা ফেব্রিক মালিক বলেন, কাপড়ের দাম বেশি দেখে আমাদেরও সমস্যা হচ্ছে। কারণ ক্রেতারা এখন বেশি দামে কাপড় কিনতে চায়না। কিন্তু ঈদকে কেন্দ্র করে আমাদের সব রকমের কাপড় তুলতে হয়েছে। তবে ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি অল্প দামের সুতার কাপড়ের উপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *