খালেদা জিয়া প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা: মির্জা ফখরুল

নবযাত্রা প্রতিবেদক

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা কেউ যদি থাকেন তিনি হচ্ছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়াকে আজকে মিথ্যা মামলায় বন্দি করে রাখা হয়েছে। ৪০ বছর ধরে যিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করলেন তাকে আজকে এই সরকার আটক করে রেখেছে। অসুস্থাবস্থায় তাকে চিকিৎসার সুযোগ দিচ্ছে না তারা।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন ফখরুল এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, যে নেত্রী একজন গৃহবধূ ছিলেন। প্রথম জিয়াউর রহমান সাহেবের বিদ্রোহের পরে তিনি সেদিন যখন সোয়াত জাহাজের দিকে এগোচ্ছিলেন, তখন পাকিস্তানি কমান্ডার অষ্টম বেঙ্গল রেজিমেন্টের কমান্ডার সোহরাব হোসেন সেনাবাহিনীর সৈনিকদের নিরাস্ত্র করবার চেষ্টা করছিলেন, সেই সময়ে কিন্তু দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রথম বলেছিলেন, তোমরা অস্ত্র সমর্পণ করবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না জিয়াউর রহমান ফিরে আসেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের দলের নেতা তারেক রহমান সাহেবও ওই সময় কিন্তু তার ছোট ভাইসহ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে বন্দি ছিলেন। সুতরাং মুক্তিযুদ্ধে ওই ছোট মানুষটির অবদানও কেউ অস্বীকার করার উপায় নেই। এই নেতাকে আজকে দেশে ফিরতে দেওয়া হচ্ছে না।

এ সময় আওয়ামী লীগের একটা কেমিস্ট্রি আছে বলেও মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, আমি হালকা করে বলি, আওয়ামী লীগের একটা কেমেস্ট্রি আছে যেটাকে বলা হয়, রসায়ন। রসায়নটা হচ্ছে, ফার্সিদের বলা হয় ‘আনচু ডিজাবেস্ট’, মানে আমি ছাড়া আর কেউ নেই। এক মেগো অদ্বিতীয়া। এটাই তাদের সমস্যা।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, সরকারের স্বাধীনতা যুদ্ধ-মুক্তিযুদ্ধ প্রোগ্রামগুলোতে মুক্তিযুদ্ধে যারা সেদিন নেতৃত্ব দিয়েছিলেন প্রবাসী সরকার, এমএজি ওসমানি, সেক্টার কমান্ডার, তাজউদ্দিন আহমেদ এদের নাম ক‘বার উচ্চারণ করা হয়েছে- আপনারা নিজেরাই তো বুঝবেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা চতুর্দিক থেকে জাতিগতভাবে খুব বিপদজনক অবস্থায় পড়ে আছি। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে আমাদের যে লক্ষ্য একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণ করা সেটাই আজকে সবচেয়ে বিপদের সম্মুখীন হয়েছে। দেশে গণতন্ত্র নেই, মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। সারা বিশ্বে আমরা চিহ্নিত হয়েছি মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী একটা দেশ হিসেবে। দেশে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে একটা বড় ষড়যন্ত্র হচ্ছে। রাজনীতিকে নির্মূল করে দেওয়া, বিএনপিকে নির্মূল করে দেওয়ার চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র করছে তারা ।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও সদস্য সচিব আবদুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *