
ফলের দোকান।
ফলমন্ডিতে দৈনিক ফলের গাড়ি ঢুকছে
৫-১০ কন্টিনার। আগে ২০- ২৫
কন্টিনার ফলের গাড়ি আসতো।
তিন বছরে আমদানি কমেছে প্রায়
সাড়ে ৫১ দশমিক শতাংশ ১৭।
মরিয়ম জাহান মুন্নী
তিন বছরের ব্যবধানে বাজারে দেশী বিদেশি নয় জাতের ফলের দাম বেড়েছে ৩৮ দশমিক ২৩ শতাংশ। এসব ফল হচ্ছে মাল্টা, কমলা, আপেল, নাশপাতি, ডালিম, আঙ্গুর, ড্রাগন, আম ও ডাব। করোনার কারণে আমদানি বন্ধ থাকায় আন্তজার্তিক বাজারে ফলের দাম বাড়ে ও দেশে ডলার সংকটের অজুহাতে গত বছর থেকে আবারো বেড়েছে ফলের দাম। কিন্তু বর্তমানে দেশে ডেঙ্গুজ্বর ও ভাইরাসজনিত জ্বরের প্রকোপে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এসব ফল খাওয়ার পরামর্শ দেন। এ কারণে বাজারে উল্লেখ্য এসব ফলের চাহিদা বেড়ে গেছে। এ সুযোগকে নতুন করে কাজে লাগিয়ে চলতি বছর কয়েক দফা দাম বেড়েছে এসব জাতের ফলের। এমনটাই অভিযোগ করেন ক্রেতাসাধারণ।
কদমতলীর ফলমন্ডির চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির তথ্য মতে, মূলত ছয় কারণে দুই বছর ধরে দেশের বাজারে ফলের দাম বেড়ে গেছে। এরমধ্যে প্রায় সাত জাতের ফলই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। উল্লেখ্য- বিদেশি ফল আমদানিতে ডলার সংকটের কারণে এলসি পাওয়া যাচ্ছে না। যা গত বছর থেকেই চলমান। বিদেশ থেকে যে পরিমাণ ফল আসছে তা ভোক্তাদের চাহিদার তুলনায় প্রায় চারভাগ কম। ডলারের দাম বাড়ায় অনেক আমদানিকারক আমদানি করতে পারছে না। প্রতি কেজি ফল আমদানিতে সরকারি ট্যাক্স খরচ পড়ে ৮৯ টাকা এবং বন্দর ও এজেন্ট খরচসহ ১০০ এটি টাকা খরচ পড়ে যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে এখন ফলের মৌসুম না হওয়ায় সেখানেও দাম চড়া। আবার সারাদেশে ডেঙ্গু ও ভাইরাসজনিত জ্বরের কারণেও ফলের চাহিদা বেড়ে গেছে।
গতকাল সোমবার সরেজমিনে খুচরা বাজারে দেখা যায়, বিদেশি ফল কমলা ও মাল্টা বিক্রি হচ্ছে ৩০০- ৩৫০ টাকায়, আকারে ছোট আপেল বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়, আকারে বড় আপেল ২৫০ টাকায়, আঙ্গুর ৫০০- ৫৫০ টাকায়, ডালিম ৪৫০ টাকায়, নাশপাতি ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেশী ফলের মধ্যে প্রতি পিস ডাব ১০০- ১১০ টাকায়, মুনকাঠি আম ৩০০ টাকায়, ড্রাগন ৩৫০ টাকায়, কলা ডজন ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, প্রতিকেজি পেঁপে ১০০- ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
২০২১ সালে ফলের দাম:
তিন বছর আগে এসময় কমলা, মাল্টা গড়ে বিক্রি হয়েছিল ২০০ টাকায়, আপেল ১৫০ টাকায়, ডালিম ২০০- ২৫০ টাকায়, আঙ্গুর ২৭০- ২৮০ টাকায়, নাশপাতি ২০০- ২৫০ টাকায়, আম ১৮০- ২০০ টাকায়, ড্রাগন ২০০- ২২০ টাকায় ও ডাব ৭০- ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। খুচরা বাজার দর বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এসময়ের ব্যবধানে প্রতিটি ফলে গড়ে ১০০ থেকে ৩০০ টাকার বেশি দাম বেড়েছে।
নগরীর বৃহত্তর ফলের আড়ত কদমতলীর ফলমন্ডি এলাকার ব্যবসায়ীরা বলেন, তিন বছর আগে আমদানি করা ফলের মধ্যে বিভিন্ন জাতের ফল প্রতি কাটন (১৫ কেজিতে এক কাটন) বিক্রি হয়েছে তিন হাজার থেকে ৩৫শ’ টাকার মধ্যে। কিন্তু এখন দাম বেড়ে সেই ফল পাইকারিতে প্রতি কাটন (১৫ কেজি) মান ভেদে ৩৫শ’ থেকে ৩৮শ’ টাকায়। কিছু কিছু ফল চার হাজার টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে, গতকাল ফলমন্ডির পাইকারি বাজারে মাল্টা, কমলা প্রতিকেজি ২৪০- ২৫০ টাকায়, আকারে ছোট আপেল বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৫০ টাকায়, আকারে বড় আপেল ২০০ টাকায়, আঙ্গুর ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়, নাশপাতি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এছাড়া দেশী ফলের মধ্যে কাঠিমন আম ২২০ থেকে ২৩০ টাকায়, ড্রাগন ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।
চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. তৌহিদুল আলম বলেন, আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ার ব্যবসায়ীরা আমদানি করতে পারছেন না। আগে দিনে ২০ থেকে ২৫ কন্টিনার ফলের গাড়ি এখানে ঢুকতো। সেটি এখন কমে পাঁচ থেকে ১০ কন্টিনার গাড়ি ফলমুন্ডিতে ঢুকে। একারণে চাহিদার তুলনায় বাজারে ফল কম। তাই দাম বেড়েছে। তবে খুচরায় পাইকারির চেয়ে দামের পার্থক্য ৫০ থেকে ৮০ টাকার বেশি দেখা যায়।
এবিষয়ে বহদ্দারহাটের খুচরা বিক্রেতা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পাইকারিতেও ফলের দাম বেশি। আমাদের বেশি দামে কিনে আবার পরিবহন খরচ বেড়েছে, দোকান বাড়া বেড়েছে এছাড়া অনেক ফল পচে যায়। তাই খরচ মেটাতে হিসাব করে দাম নির্ধারণ করা হয় খুচরায়।
চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির তথ্য মতে, ২০২০-২১ অর্থবছরে চট্টগ্রামে ফল আদমানি হয়েছে ১২০ কোটি কেজি। ২০২১-২২ অর্থবছরে এসে আমদানি কমে হয়েছে প্রায় ৮১ কোটি কেজি। অন্যদিকে ২০২২-২৩ অর্থবছরে আমদানি আরো কমে হয়েছে ৫৮ কোটি ৬০ লাখ কেজি। অর্থাৎ তিন বছরে আমদানি কমেছে প্রায় সাড়ে ৫১ দশমিক শতাংশ ১৭।
এসব বিদেশি ফল আমদানি হয় মূলত চায়না, মিশর, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও ব্রাজিল থেকে। অল্প পরিমানে কিছু ফল আমদানি হয় অষ্ট্রেলিয়া, ইউএসএ, ফ্রান্স, নিউজিল্যান্ড থেকে।