নবযাত্রা প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের হাজী মোহাম্মদ মহসিন কলেজ থেকে অর্থনীতিতে এম. এ পাস করার পর বেকার মুবিনুল হক (২৬) চাকুরি খুঁজছিলেন। তিন মাস পর সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নে শীতলপুর এলাকায় বিএম কনটেইন্টার ডিপোতে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন।
চাকুরিতে দায়িত্ব নেয়ার পর তার পিতা অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক ফরিদুল আলম ছেলে মুবিনুল হকের বিয়ের জন্য এলাকার বিভিন্ন সম্ভান্ত পরিবার থেকে মেয়ে খুঁজছিলেন। অবশেষে মেয়েরও সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। সে কথা ছেলেকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু কে জানত? শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় বিএম কনটেইন্টারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটবে!
শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মুবিনুল হক মোবাইল ফোনে ভিডিও কলের মাধ্যমে তার বাবা ফরিদুল আলমকে জানান, বাবা এখানে আগুন লাগছে, আমার এক পা পুড়ে গেছে। বাবা আমার হয়তো আর বাঁচা হবে না। সবাই আমাকে মাফ করে দিও? এ বলে তার সাথে ফোনালাপ বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে কথাগুলো বলছিলেন নিহতের ভাই মো. ফয়সাল। তিনি জানান, তার পিতা মুবিনের লাশের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অপেক্ষা করেছেন।
এলাকাবাসী জানান, কয়েক দিন পরে মুবিনুল হকের বিয়ের কথা ছিল। কিন্তু সেই আশায় গুড়ে বালি হয়েছে। ফরিদুল আলমের সংসারে বড় ছেলে মো. ফয়সাল ঔষধ কোম্পানিতে চাকুরি করেন, ছোট ছেলে মুবিনুল হক তিন মাস পূর্বে বিএম কনটেইন্টারে চাকুরিতে যোগদান করেন। ছোট বোন গোলাপীর বিয়ে হয়ে গেছে। ছনুয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মধুখালী ইছাক মুন্সির বাড়ি এলাকায় বেশ সুনাম রয়েছে। রবিবার রাত ৯টায় মধুখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাযা শেষে পারিবারিক খবরে দাফন করা হবে।