৩৭টি ছবি দিয়ে চট্টগ্রামের ৫
চিত্রশিল্পীর চিত্র প্রদর্শনী শুরু।
নবযাত্রা প্রতিবেদক
করোনার সময় অতি পরিচিত পোশাক পিপিই (করোনা থেকে সুরক্ষার জন্য ব্যক্তিগত পোশাক) পড়া, মুখে মাস্ক ও চোখে চেপ্টি চশমা পড়ে দাঁড়িয়ে আছে এক ব্যক্তি। তার পেছনে করোনা আক্রান্ত রোগিদের সেবা দিচ্ছেন নার্সরা। আবার করোনায় আক্রান্ত অসুস্থ স্বামীর দিয়ে দূর থেকে তাকিয়ে কান্না করছেন স্ত্রী। তার চোখে প্রিয় মানুষকে হারানো ভয় ফুটে উঠেছে স্পষ্ট। চিত্রের একাংশে মুখে মাস্ক পড়া মানুষের লম্বা লাইন। ভ্যাক্সিন গ্রহণ করতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে তারা। এরপাশেই আঁকা হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ড। চোখের পানি নিয়ে বাইরে অপেক্ষমান আপনজনরা। আবার খাবার সামুগ্রীর ব্যাগ হাতে এগিয়ে আসছেন কিছু স্বেচ্ছাসেবি। তুলে দিচ্ছেন অসহায় মানুষ ও রিকশাচালকের হাতে।
দুই বছর আগে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে ঘটে যাওয়া করোনাকালেন সেই করুণ সময়ের দৃশ্য যেন একটি দেয়ালে ঝুলানো চিত্রে ফুটে উঠেছে। চিত্রের কোনো অংশে দেখা যায়, এম্বুলেন্স রোগী নিয়ে ছুটছেন হাসপাতালের দিকে, লাশ কবর দিচ্ছেন মাত্র চার-পাঁচ জন মানুষ। দূর থেকে আহাজারি করছেন স্বজনরা। গত দুই বছর আগে সবার জীবনে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনাগুলো চোখের সামনে রংতুলির আঁচড়ে আবার তুলে ধরেছেন চট্টগ্রামের পাঁচ গুণী শিল্পী। মনে করিয়ে দিয়েছেন উপস্থিত দর্শকদের। ছবিগুলোর দিকে চোখ পড়তেই সেই সময়ের দিনগুলোতে হারিয়ে যাচ্ছে সবাই। কেউ কেউ ছবি দেখছেন আর একে অন্যের সাথে স্মৃতিচারণ করছেন কষ্টের দিনগুলোর কথা মনে করে। কেউ বলছেন সেই সময়ে হারানো প্রিয় মানুষদের কথাও। সাথে রয়েছে কিছু ভিন্নধর্মীয় ছবিও।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের ৫ গুণী শিল্পীর আঁকা ৩৭টি চিত্র নিয়ে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ চট্টগ্রাম সপ্তাহব্যাপী একটি চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে। সপ্তাহব্যাপী চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন স্বনামধন্য শিল্পী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক খাজা কাইয়ুুম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিটার এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শিশির দত্ত।
এসময় উপস্থিত অতিথিরা বলেন, একটি ছবি হাজারটা কথার সমান। দুই বছর আগে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে করোনার সেই ভয়াল থাকা এখন আমাদের সবার কাছেই অতীত। কিন্তু সে কি রুদ্ধশ্বাস সময় কাটিয়েছি আমরা সেটি এখন আর ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। আমরাও জীবনের তাগিয়ে সবই ভুরে গেছি। কিন্তু আজ আবার শিল্পীদের আঁকা ছবিগুলো টেনে সে দিনগুলোতে নিয়ে গেছে। একটি ছবির এখানেই মাহাত্য। ভুলে যাওয়া স্মৃতিকে মনে করিয়ে দেয়। দেয়ালে ঝুলানো ছবি যে শুধু অতিথিদের মন কেড়েছে তাই নয়, আবেগআপ্রত করে তুলে উপস্থিত দর্শকদেরও। তাইতো দেয়ালে ঝুলানো ছবিগুলোর সাথে দাঁড়িয়ে কেউ ছবি তুলছেন কেউ ভিডিও করছেন।

চিত্র প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা হচ্ছেন- চিত্রশিল্পী সঞ্জয় দাস, উত্তম কুমার তালুকদার, অনুপ কুমার শীল, জাবের আহমেদ, ও সঞ্জীব বড়–য়া। প্রদর্শনীটি প্রতিদিন (রবিবার বন্ধ থাকবে) বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত।
