সুপার ফুড দুধে অপকারিতারচেয়ে উপকারিতাই বেশি

নবযাত্রা প্রতিবেদক


দুধকে বলা হয় সুপার ফুড বা সর্বগুণ সম্পন্ন খাবার। এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, প্রোটিন, ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি-১২, নিয়াসিন ও রিবোফ্লভিন। দুধের  নানা পুষ্টিগুণ সুস্থ, সবল ও নিরোগ রাখতে সাহায্য করে মানব শরীরে।
দুধের প্রধান গুণগুলোর মধ্যে এসিডিটির সমস্যা, পিরিয়ডের সময় তীব্র যন্ত্রণা, কাজের স্ট্রেসে অস্থিরতা এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে। প্রতিদিন মাত্র এক গ্লাস দুধ পানেই এমন অনেক সমস্যা থেকে মুক্তি  মিলে। দুধের উপকারিতা সম্পর্কে পুষ্টিবিদরা বলেন, দুধে থাকা ক্যালসিয়াম দাঁত ও হাড়ের গঠন মজবুত করে। প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ পানে অন্যান্য খাবারের চাহিদা অনেকাংশে মিটে যায়। নাস্তার সময় দুধ পান করলে অনেক সময় ধরে তা পেটে থাকে। ফলে ক্ষুধা কম থাকে। এছাড়া দেহের অনেক ধরণের পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয়। তাই ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকেনা। এতে থাকা ভিটামিন ও মিনারেল ফিটনেস বাড়ায় ও মানসিক চাপ দূর করে। দুধ পানে ঘুমের উদ্রেক হয়, যার ফলে মস্তিষ্ক শিথিল থাকে ও মানসিক চাপমুক্ত হয়। সারাদিনের মানসিক চাপ দূর করে শান্তির ঘুম নিশ্চিত করতে প্রতিদিন রাতে এক গ্লাস কুসুম গরম দুধ পান করা উত্তম। শরীর রি-হাইড্রেট করতে সাহায্য করে দুধ। কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর করে। শরীরে ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়ামের মাত্রা ঠিক না থাকলে প্রি মেনস্ট্রুয়াল সিন্ড্রোম হতে পারে। তাই পিরিয়ডের সময় পেট ব্যথা ও এসিডিটির সমস্যা থেমে মুক্তি পেতে এক গ্লাস দুধ খেতে পারেন। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন যা মাংশপেশির গঠনে সহায়তা করে ও মাংশপেশির আড়ষ্টতা দূর করে। শিশুদের মাংশপেশির গঠন উন্নত করতেও প্রতিদিন দুধ পান করা উচিত। দুধ পাকস্থলী ঠা-া রাখে ও বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যা দূর করে। দুধ থাকা ভিটামিন ও মিনারেল দেহের ইমিউন সিস্টেম উন্নত করে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। প্রতিদিন দুধ পানে ত্বক নরম, কোমল ও মসৃণ হয়। কোলেস্টোরল নিয়ন্ত্রণে রাখে ও রক্ত পরিষ্কারের পাশাপাশি রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে।
দুধের অপকারিতা:
পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ দুধেও রয়েছে কিছু অপকারিতা। তাই কিছু নিদিষ্ট শারীরিক অসুস্থতা থাকলে দুধ এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। যেমন- যাদের কিডনিতে পাথর তাদের দুধের ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। যাদের শরীরে ‘ল্যাক্টেজ’ নামক এনজাইমের অভাব আছে, তাদের উচিত দুধ খাওয়ার ব্যাপারে সাবধান হওয়া। এলার্জি থাকলে, যাদের পাকস্থলীর আলসার তথা গ্যাস্ট্রিক আলসারের রোগী তাদেরও দুধ খাওয়া উচিত নয়। এই সকল রোগীদের দুধ খেলে পেটে ব্যথা ও ডায়রিয়া হতে পারে। এছাড়া যাদের পেটে অপারেশান করা হয়েছে, তাদের দুধ খাওয়া উচিত নয়। অতি মাত্রায় দুধ খেলে উপকারের চেয়ে অপকারিতা বেশি হতে পারে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *