আবার বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। কেজি
প্রতি ৮০ টাকা। জিরা ৮৫০ টাকা।
মরিয়ম জাহান মুন্নী
দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকার পর আবার অস্থির হতে শুরু করেছে মসলার বাজার। এক বছরের ব্যবধানে সাত জাতের মসলা জিরা, ধুনিয়া, দারুচিনি, লবঙ্গ, পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম কেজিতে দ্বিগুণ বেড়েছে।
গতকাল শনিবার নগরীর বহদ্দারহাট, চকবাজার ও দুই নম্বর গেট কর্ণফূলী কমপ্লেক্স ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। মসলার দাম খুচরা বাজারের পাশাপাশি বেড়েছে চাক্তাইখাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারেও এ সাত জাতের মসলায় কেজি প্রতি ৪০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের আমদানিকারকরা জানায়, বিশ্ববাজারে বুকিং রেট বেড়ে যাওয়া, ভারত, চায়না থেকে আমদানি বন্ধ থাকায় এবং সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে পেঁয়াজ, রসুন, আদাসহ সাত ধরণের মসলার দাম বেড়েছে।
গতকাল শনিবার এ তিন বাজারে খুচরায় প্রতি কেজি জিরা মান ভেদে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গতবছর কেজি প্রতি ৩৮০-৪০০ টাকা ছিল। সপ্তাহের ব্যবধানে জিরায় দাম বেড়েছে ৪৭০ টাকা। একইভাবে ধনিয়া ১৬০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকায়। এক বছরের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা। আগে থেকেই চড়া পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম। গতকাল এক দিনের ব্যবধানে আবারো খুচরা এবং পাইকারি বাজারে বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। খুচরায় ৬৫ টাকা থেকে পেঁয়াজের দাম বেড়ে এখন বিক্রি ৭৫-৮০ টাকায়। রসুন ১৯০ টাকা থেকে বেড়ে ২৩০-২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আদা ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৯০ থেকে ৩০০ টাকায়।
খাতুনগঞ্জের পেঁয়াজ আমদানিকারক মো. আহসান খালেদ বলেন, দেশের বাজারে পেঁয়াজ, রসুন, আদার আমদানি বন্ধ। কিন্তু চাহিদা বেশি। যেকারণে এসব পণ্যের দাম বেড়েছে।
বহদ্দারহাটের ব্যবসায়ি মফিজুর রহমান বলেন, আমদানি বন্ধের কথা বলে পাইকারি ব্যবসায়িরা পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। এখনো আবার ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই এ দাই বাজারে পানি উঠে যায়। পানি উঠলেতো দাম আরো বেড়ে যাবে। গতকাল পাইকারিতে পেঁয়াজ বিক্রি করেছে ৬৫-৭০ টাকায়। তাহলে খুচরায়তো দাম বাড়বেই। তাই আজ (গতকাল) বাজারে পেঁয়াজ ৮০ টাকায় বিক্রি হয়। চলতি সপ্তারে আরো বাড়বে রসুনের দাম। রসুন পাইকারিতে বিক্রি হয়েছে ১৮০-২২০ টাকায়। এটি এখন বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকার বেশি দামে। একই অবস্থা আদারও। চায়নার আদা আমদানি বন্ধ রয়েছে এখন বাজারে বার্মা, ভিয়েতনাম ও থ্যাইল্যান্ডের আদা বিক্রি হচ্ছে। পাইকারিতে বার্মার আদা বিক্রি হচ্ছে ১৮৫-১৯০ টাকায়, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের আদা ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এগুলো খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ২৯০-৩০০ টাকায়।
এদিকে লবঙ্গ এক বছরের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ৭০০ টাকা। গত বছর প্রতিকেজি লবঙ্গ বিক্রি হয় এক হাজার টাকায়। কিন্তু গতকাল বাজারে এক হাজার ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে লবঙ্গ। দারুচিনি ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫২০ টাকায়। কিন্তু গতবছর এসময় দারুচিনির ২৮০ টাকায়।
খাতুনগঞ্জের মসলা আমদানিকারক মো. জসিম বলেন, বিশ্ববাজারে বুকিং রেট বেড়ে যাওয়ায় মসলার দাম বেড়েছে। যে কারণে অনেকে আমদানি কমিয়ে দিয়েছে। এতে বাজারে পর্যাপ্ত পণ্য নেই। পাইকারি বাজারে দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে ৩৭০-৪০০ টাকায়। ধনিয়া ২৮৭-৩০০ টাকায় বিক্রি হয়। জিরা বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকায়।
ক্রেতা মুহাম্মদ আজগর আলী বলেন, কোরবানের আগেই মসলার দাম বাড়াতে শুরু করেছে ব্যবসায়ীরা। ৪০০ টাকার জিরা ৮৫০ টাকা। এভাবে চলছে মানুষ কিভাবে খেয়ে পড়ে বাঁচবে। এখনই প্রশাসনকে বাজার তদারকি করা দরকার।