নবযাত্রা প্রতিবেদক
নিয়মবহির্ভুত জোরপূর্বক দীর্ঘদিন দায়িত্বে থাকা কমিটি ভেঙে ব্যবসাবান্ধব নতুন কমিটি গঠন করাসহ চার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে চট্টগ্রাম ওমেন চেম্বারের সদস্য ও নারী উদ্যোক্তারা।
গতকাল বুধবার বিকেলে নগরীর একটি হলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিক হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চেম্বারের সদস্য ও নারী উদ্যোক্তা নুসরাত হোসাইন।
বক্তব্যে তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে চট্টগ্রাম ওমেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ স্বৈরশাসন ও ভোটবিহীন কমিটি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই সিডব্লিউসিসিআই’র পরিচালনা কমিটি ও সভাপতি নির্বাচন সিলেকশন প্রক্রিয়ায় হয়ে আসছে। যেখানে সাধারণ সদস্যদের কোন অংশগ্রহণ নেই এবং তাদের মতামতের তোয়াক্কা না করে দু’একজন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে কে কোন পদে থাকবেন। স্বৈরশাসন দিয়ে তৃনমুল ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে। বিগত কমিটিগুলো এই সংগঠনে তৃনমুল ব্যবসায়ীদের সুযোগ না দিয়ে স্বজনপ্রীতি করে আসছে। এক্ষেত্রে তৃনমুল পর্যায়ে নারী উদ্যোক্তাদের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, আমরা চাই, ব্যবসাবান্ধব চট্টগ্রাম ওমের চেম্বার নিশ্চিত করে নতুন কমিটি গঠন করা হোক। বাণিজ্যিক সংগঠনে স্বৈরশাসন ও অনিয়মের কমিটি ভেঙে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা হোক। মেম্বারশিপ সহজীকরণ করা হোক। ওমের চেম্বারের বর্তমান কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিচার করে যোগ্য নেতৃত্ব বাছাই করার জন্য গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সুষ্ঠ ও অবাধ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।
এসময় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বর্তমান কমিটির কিছু অনিয়ম তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে ওমেন চেম্বারের প্রারম্ভিক সদস্য ফি ৩৭শ’ টাকা এবং প্রতিবছর নবায়ন ফি ১৯শ’ টাকা। যা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বান্ধব নয়। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন ট্রেডে ট্রেইনার হিসেবে সদস্যদের সুযোগ দেয়া হয় না। চেম্বারের সদস্যদের থেকেও বিভিন্ন ট্রেনিংয়ের নাম দিয়ে ফি আদায় করে। দিনব্যাপি ট্রেনিংয়ের ক্ষেত্রে নি¤œমানের খাবার পরিবেশন করে। ওমেন ট্রেড ফেয়ারে সদস্যদের দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয় লোকসমাগম কম হয় এমন জায়গায় ও বাধ্যতামুলক দুটো করে দোকান বরাদ্ধ দেয়া হয়।

এছাড়াও মেলায় অতিরিক্ত স্টল, বিদ্যুৎ ও সিকিউরিটি বিল আদায় করে। বিগত কয়েকবছর যাবত ওমেন ট্রেড ফেয়ার নারী উদ্যোক্তা বান্ধব না হওয়ায় অন্যান্য জেলার নারী উদ্যোক্তারা মেলায় অংশগ্রহন করছে না এবং দিন দিন স্থানীয় উদ্যোক্তাও হ্রাস পাচ্ছে। বেশি অর্থের লোভে ওমেন ট্রেড ফেয়ার সেকেন্ড ও থার্ড পার্টির কাছে হাত বদল করা হচ্ছে। যার কারণে মেলার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। চেম্বারের সদস্যদের বিভিন্ন কর্মকান্ডের পাওনাদী সঠিক সময়ে পরিশোধ করা হয় না। বিগত কয়েকবছর প্রতিবন্ধী ও হত দরিদ্র নারী উদ্যোক্তাদের জন্য দোকান বরাদ্ধ দেওয়া হয়না। সদস্য হওয়া সত্ত্বেও প্রতিনিয়ত পরিচালনা পরিষদের কর্মচারী দ্বারা রুঢ় আচরণ ও হেনস্থার স্বীকার হতে হয়েছে। মহামারী ও দূর্যোগ কালীন সময়ে তৃনমুল সদস্যদের খোঁজ খবর রাখা হয়নি।
এসময় নারী উদ্যোক্তারা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আগামী ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্তমান ওমেন চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদকে পদত্যাগ করতে হবে। তা না হলে ওমেন চেম্বার ভবন ঘেরাও ও অবস্থান কর্মসূচিসহ আন্দোলনের ঘোষণা দেন।
এসময় সদস্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন শাহানাজ খান, জান্নাতুল মাওয়া মুন্নি। উদ্যোক্তাদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সাদিয়া আফরিন, আমেনা বেগম, মনোয়ারা বেগম সাকি ও নার্গিস রিক্তা