বিশ্ব সাইকেল দিবস আজ

নবযাত্রা প্রতিবেদক

আজ ৩ জুন বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব সাইকেল দিবস। সহজ, সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব এই বাহনের গুরুত্ব তুলে ধরতে জাতিসংঘ এই দিনটি নির্ধারণ করেছে।

বিশ্ব সাইকেল দিবসের সূচনা হয়েছিল একেবারে ভিন্নভাবে। মার্কিন সমাজবিজ্ঞানী লেশেক সিবিলস্কি তাঁর ক্লাসে শিক্ষার্থীদের কাছে সাইকেলের সামাজিক ও পরিবেশগত গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে একটি একাডেমিক প্রকল্প চালু করেন। ২০১৫ সালের সীমিত পরিসরের সেই উদ্যোগ ধীরে ধীরে রূপ নেয় বৈশ্বিক আন্দোলনে। পরিবেশবিদ, গবেষক ও নাগরিক সমাজের প্রচেষ্টায় ২০১৮ সালে জাতিসংঘ এদিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিশ্ব সাইকেল দিবস’ ঘোষণা করে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সর্বসম্মত সমর্থনে সাইকেল হয়ে ওঠে বৈশ্বিক টেকসই উন্নয়নের অনন্য প্রতীক।

উনিশ শতকের শুরুতে সাইকেল ছিল প্যাডেলবিহীন; পা দিয়ে মাটির ওপর ঠেলে ঠেলে চালাতে হতো। ধাপে ধাপে যুক্ত হয় প্যাডেল, চেইন, ব্রেক এবং আধুনিক সব নকশা। সাইকেল কেবল একটি জড়যন্ত্র হয়ে থাকেনি, হয়ে উঠেছে মানুষের চলাচলের সহজতম মাধ্যম। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, সাধারণ নাগরিকের জীবনে অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী হয়ে ওঠে বাইসাইকেল।
আধুনিক শহরগুলো তীব্র যানজট, বায়ুদূষণ আর জ্বালানি সংকটে জর্জরিত। অথচ সাইকেলে কোনো জ্বালানি নেই, বিষাক্ত ধোঁয়া নেই, নেই শব্দদূষণও। শহরের ভেতরে অথবা স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতে সাইকেল সবচেয়ে কার্যকর বাহন।

পৃথিবীতে মোট সাইকেলের সংখ্যা আনুমানিক এক বিলিয়নেরও বেশি। এর মধ্যে চীনে সাইকেল আছে প্রায় ৫০ কোটিরও ওপরে, যা একক দেশ হিসেবে সর্বোচ্চ। যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি সাইকেল, জাপানে সাত কোটির বেশি এবং জার্মানিতে ছয় কোটির কাছাকাছি। ইউরোপের মধ্যে নেদারল্যান্ডসে মানুষের চেয়ে সাইকেলের সংখ্যাই বেশি; এখানে রোজকার যাতায়াতে সিংহভাগের সঙ্গী দুই চাকার এই বাহন। ডেনমার্ক, সুইডেন ও নরওয়েতেও নগর পরিবহনের মূল চালিকাশক্তি সাইকেল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব দেশে সাইকেল জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে নিরাপদ অবকাঠামো, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং নাগরিক অভ্যাস বড় ভূমিকা রেখেছে।

চিকিৎসকদের মতে, সাইকেল চালানো স্বাস্থ্যকর ব্যায়ামও। নিয়মিত সাইকেল চালালে শরীর ও মনে জাদুকরী পরিবর্তন আসে। রক্তসঞ্চালন বাড়ে, হৃদযন্ত্র শক্তিশালী হয় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। একই সঙ্গে কমে মানসিক চাপ, বাড়ে মনোযোগ। দিনের শুরু বা শেষে কিছুক্ষণ সাইকেল চালানোও শরীরে দীর্ঘমেয়াদি স্বস্তি এনে দেয়।
ঢাকাসহ দেশের বড় শহরেও জনপ্রিয় হচ্ছে সাইকেল। বিশেষ করে তরুণ, চাকরিজীবী এবং কুরিয়ার সার্ভিসে নিয়োজিত কর্মীরা যানজট এড়াতে সাইকেলেই ভরসা করছেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশেও বিশ্ব সাইকেল দিবসের গুরুত্ব বেড়েছে। তাই সাইকেলের দিকে ঝুঁকছে স্বাস্থ্য সচেতন তরুণদের একটা বড় অংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *