অনলাইন ডেস্ক
বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশ একটি নির্ভরশীল ও গঠনমূলক সহযোগিতা গড়ে তুলতে আন্তরিকভাবে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, একটি প্রতিযোগিতামূলক, নিরপেক্ষ ও স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় বিনিয়োগের প্রধান গন্তব্য হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় বাংলাদেশ।
শনিবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে একটি বিশেষ সম্মেলনের আয়োজন করে। ‘বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনীতিক কর্মপরিকল্পনা ও ঝুঁকি মোকাবেলায় স্থিতিস্থাপকতার সদ্ব্যবহার’ শীর্ষক এই সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তিই হচ্ছে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক ঝুঁকিগুলো সফলভাবে মোকাবেলায় ‘অর্থনৈতিক কূটনীতি’র কোনো বিকল্প নেই। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। একই সাথে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে একটি টেকসই, স্বচ্ছ এবং পূর্বাভাসযোগ্য নীতিগত পরিবেশ তৈরি করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে চলমান জ্বালানি সংকটকে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় বাধা হিসেবেও তিনি চিহ্নিত করেন।
অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে প্রথাগত খাতের বাইরে যাওয়ার তাগিদ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সৃজনশীল শিল্প (Creative Economy) এবং ক্রীড়া খাতের মতো উদীয়মান বৈশ্বিক ক্ষেত্রগুলোতে সুনির্দিষ্ট সরকারি নীতিমালা ও পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানো হবে। এর মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে সফলভাবে তুলে ধরা সম্ভব।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সম্মেলনটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের মধ্যে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে একটি অর্থবহ সংলাপের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। সরকারি সংস্থা, বেসরকারি খাত এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপান্তর ও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য।
দিনব্যাপী এই সম্মেলনে মোট তিনটি গুরুত্বপূর্ণ থিমেটিক প্লেনারি সেশন বা বিষয়ভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
প্রথম অধিবেশন, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নীতিগত দিক নিয়ে আলোচনা।
দ্বিতীয় অধিবেশন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও অর্থায়ন বিষয়ক পরিকল্পনা।
তৃতীয় অধিবেশন নতুন প্রবৃদ্ধির চালিকা শক্তি এবং উদ্ভাবননির্ভর উন্নয়ন সম্ভাবনা।
‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে সামনে রেখে আয়োজিত এই সম্মেলন থেকে দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কূটনীতির ভবিষ্যৎ রোডম্যাপ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মুন্নি