নবযাত্র ডেস্ক

২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নতুন করে রাজনৈতিক দল গঠনের হিড়িক পড়েছে বাংলাদেশে। এ সময়ের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি সহ দেশে অন্তত দুই ডজন রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করেছে।
সর্বশেষ শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘গড়বো মোরা ইনসাফের বাংলাদেশ’ এই স্লোগান নিয়ে দেশে আরও একটি রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ হয়েছে। নতুন এ দলের নাম ‘জনতা পার্টি বাংলাদেশ’। নবগঠিত এই দলের চেয়ারম্যান ঢাকাই সিনেমার এক সময়ের তুমুল জনপ্রিয় অভিনেতা চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন এবং মহাসচিব হিসেবে রয়েছেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ। নির্বাহী চেয়ারম্যান ও মুখপাত্র জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা ও মন্ত্রী গোলাম সারোয়ার মিলন।

এছাড়া শনিবার (২৬ এপ্রিল)ও ‘বাংলাদেশ নতুনধারা জনতার পার্টি’ নামে নতুন আরেকটি রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করেছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়ে রাজধানী সেগুনবাগিচার তোপখানা রোডে বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদের ভিআইপি কনফারেন্স রুমে সকালে এক অনুষ্ঠানে দলটির আত্মপ্রকাশের ঘোষণা দেওয়া হয়। এই দলের আহ্বায়ক মুহাম্মাদ আবদুল আহাদ নূর ও সদস্যসচিব মামুনুর রশীদ মামুন।

এছাড়া কয়েকদিন আগে ১৭ এপ্রিল ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীন ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক নেত্রী ফাতিমা তাসনিমের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আ-আম জনতা পার্টি নামে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
তবে একমাত্র জুলাই-আগষ্টের ছাত্র জনতার গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্রনেতাদের নেতৃত্বে গড়ে উঠা রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি – এনসিপি ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক দল জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনায়ও আসতে পারেনি।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারী রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বিশাল এক জনসভার মধ্য দিয়ে এ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ হয়। জুলাই শহীদ মো. ইসমাইল হোসেন রাব্বির বোন মিম আক্তার জাতীয় নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তিনি দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নাম ঘোষণা করেন। পরে আংশিক কমিটির অন্যান্য সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন আখতার হোসেন।
নতুন এ দলে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা ও নাহিলা সারওয়ার নিবা, মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ (দক্ষিণাঞ্চল) ও সারজিস আলম (উত্তরাঞ্চল), মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী এবং সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে আব্দুল হান্নান মাসউদ দায়িত্বে রয়েছে।
দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এনসিপি বর্তমানে দেশের রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করছে। জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি এনসিপি আলোচিত আর্ন্তজাতিক অঙ্গনেও।
৫ আগষ্টের পর থেকে আত্মপ্রকাশ করা উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক দলগুলো হলো, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টি (বিজিপি), জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ, দেশ জনতা পার্টি, আমজনতার দল, নিউক্লিয়াস পার্টি অব বাংলাদেশ (এনপিবি), জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক পার্টি, ওয়ার্ল্ড মুসলিম কমিউনিটি, সমতা পার্টি, বাংলাদেশ জনপ্রিয় পার্টি (বিপিপি), বাংলাদেশ জন-অধিকার পার্টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি, জনতার বাংলাদেশ পার্টি, জনতার দল, গণতান্ত্রিক নাগরিক শক্তি, ভাসানী জনশক্তি পার্টি ও আ-আম জনতা পার্টি (বিএজেপি), সার্বভৌমত্ব আন্দোলন, বাংলাদেশ সংস্কারবাদী পার্টি (বিআরপি), বাংলাদেশ মুক্তির ডাক ৭১, বাংলাদেশ জাগ্রত পার্টি, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক শক্তি, বাংলাদেশ সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (বিএসডিপি)।
বাংলাদেশে বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে অর্ধশত নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে। এতগুলো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল থাকলেও দেশের সাধারণ মানুষ মাত্র কয়েকটি রাজনৈতিক দল নিয়ে আগ্রহ দেখায়। সাধারণ মানুষের চায়ের টেবিল ও ঘরোয়া আলোচনায় নিদিষ্ট কয়েকটি রাজনৈতিক দল নিয়ে আলোচনা সমালোচনা হয়। অন্য দলগুলো নিয়ে সামান্যতম আগ্রহও সাধারণ মানুষের মধ্যে দেথা যায়না। তবে জাতীয় নির্বাচন আসলে বড় দলের কাছে অদৃশ্য কারণে ছোট দলগুলোর কদর বেড়ে যায়। আর এবারও তার ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, দল গঠনের এই প্রবণতা নতুন কিছু নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে এমন নতুন নতুন দল গঠন করতে দেখা গেছে। আর নির্বাচনকেই এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন তারা। মূলত ভোটের সময় জোট-রাজনীতির সঙ্গে এই প্রবণতার সংযোগ রয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচন এগিয়ে এলে এই ধরনের দল গঠনের তোড়জোড় দেখা যায়। তবে এই সকল রাজণৈতিক দল সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশের রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে উঠে।