মহাষ্টমী কুমারী পূজা আজ

নবযাত্রা ডেস্ক

বোধন। অধিবাস। আমন্ত্রণ। মৃণ্ময়ীতে প্রাণসঞ্চারের মধ্যদিয়ে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। আজ মহাষ্টমী। নতুন বস্ত্র পরিধান করে ছোট-বড়, নারী-পুরুষ সকলে মিলে দেবীকে পুষ্পাঞ্জলি দিবে আজ। আজই হবে সন্ধিপূজা। দুর্গাপূজার অন্যতম আকর্ষণ কুমারী পূজাও আজ। আর এই দেবী বরণের আয়োজনকে ঘিরে মেতে উঠেছে পুরো সনাতনী গোষ্ঠী। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খ-উলুর ধ্বনি ও মন্ত্রচারণের মাধ্যমে মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে দেবীর আরাধনা।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, আজ সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটের মধ্যে মহাষ্টমী তিথিতে দেবী দুর্গার মহাষ্টমাদ্যি কল্পারম্ভ ও মহাষ্টমী বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

সকাল ৭টা ৫৫ মিনিট গতে ৮টা ৪৩ মিনিটের মধ্যে হবে সন্ধিপূজা। এরপরই পরমাতৃরূপে কুমারী কন্যাকে জীবন্ত প্রতিমা কল্পনা করে হবে ‘কুমারী পূজা’। শাস্ত্রমতে, এদিন পূজিত কুমারী কন্যার নামকরণ করা হয় দেবীর ষষ্ঠরূপ ‘উমা’। ভক্তদের মতে, এটি একাধারে ঈশ্বরের উপাসনা, মানববন্দনা আর নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা। মূলত নারীর সম্মান, মানুষের সম্মান আর ঈশ্বর আরাধনাই কুমারী পূজার অন্তর্নিহিত শিক্ষা। সাধারণত এক থেকে ১৬ বছরের অজাতপুষ্প সুলক্ষণা ব্রাহ্মণ বা অন্য গোত্রের অবিবাহিত কুমারী নারীকে দেবীজ্ঞানে পূজা করা হবে আজ। শ্রী রাম কৃষ্ণের কথামতে, কুমারী পূজার বিষয়ে বলা হয়েছে- শুদ্ধাত্মা কুমারীতে ভগবতীর রূপ বেশি প্রকাশ পায় এবং মাতৃরূপ উপলব্ধি করাই কুমারী পূজার উদ্দেশ্য।

বয়সের ক্রমানুসারে পূজাকালে কুমারীদের বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়। যেমন এক বছরের কন্যাকে বলা হয় ‘সন্ধ্যা’, দুই বছরের কন্যাকে বলা হয় ‘সরস্বতী’, তিন বছরের কন্যাকে বলা হয় ‘ত্রিধামূর্তি’, চার বছরের কন্যাকে বলা হয় ‘কালীকা’, পাঁচ বছরের কন্যাকে বলা হয় ‘সুভগা’, ছয় বছরের কন্যাকে বলা হয় ‘উমা’, সাত বছরের কন্যাকে বলা হয় ‘মালিনী’, আট বছরের কন্যাকে বলা হয় ‘কুব্জিকা’, নয় বছরের কন্যাকে বলা হয় ‘কালসন্দর্ভা’, দশ বছরের কন্যাকে বলা হয় ‘অপরাজিতা’, এগারো বছরের কন্যাকে বলা হয় ‘রূদ্রাণী’, বারো বছরের কন্যাকে বলা হয় ‘ভৈরবী’, তেরো বছরের কন্যাকে বলা হয় ‘মহালক্ষ্মী’, চৌদ্দ বছরের কন্যাকে বলা হয় ‘পীঠনায়িকা’, পনেরো বছরের কন্যাকে বলা হয় ‘ক্ষেত্রজ্ঞা’, ষোলো বছরের কন্যাকে বলা হয় ‘অন্নদা বা অম্বিকা’। তাই ছয় বছরের কন্যাশিশুর মধ্যে জীবন্ত ‘উমা’ কল্পনা করে পূজা করা হবে আজ।

চণ্ডীতে বলা হয়েছে- ‘যা দেবী সর্বভূতেষু; মাতৃরূপেণ সংস্থিতা। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্য মধ্যে মায়ের রূপ’।
প্রতিবারের মতো এবারো ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনসহ দেশের বিভিন্ন মণ্ডপে আড়ম্বরপূর্ণ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে আয়োজন করা হয়েছে কুমারী পূজার। রামকৃষ্ণ মিশন সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কুমারী পূজা শুরু সকাল সাড়ে ৯টায়। এর আগে মহাষ্টমী পূজা ও পুষ্পাঞ্জলি দেয়া হবে মা’কে।

শাস্ত্রমতে, কোলাসুর নামক অসুর এক সময় স্বর্গ-মর্ত্য অধিকার করে নেয়। কোলাসুর স্বর্গ-মর্ত্য অধিকার করায় বাকি বিপন্ন দেবগণ মহাকালীর শরণাপন্ন হোন। সকল দেবগণের আবেদনে সাড়া দিয়ে দেবী দেবতাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে দেবী মানবকন্যারূপে জন্মগ্রহণ করে কুমারীরূপে কোলাসুরকে বধ করেন। এরপর থেকেই মর্ত্যে কুমারী পূজার প্রচলন শুরু হয়। প্রতি বছর দুর্গাদেবীর মহাষ্টমী পূজাশেষে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে আগামীকাল মহানবমী তিথিতে সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে মহানবমী কল্পারম্ভ ও মহানবমী বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজা শেষে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে। সর্বশেষ ২১শে অক্টোবর দশমী তিথিতে দর্পণ বিসর্জনের মধ্যদিয়ে বিদায় জানানো হবে দেবী দুর্গাকে। এবার নৌকায় চড়ে কৌলাশে ফিরবেন মা দুর্গা। শাস্ত্রমতে, মা দুর্গার ঘোড়ায় আগমন হলে ছত্রভঙ্গ বা রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার ইঙ্গিত বোঝায়। আর নৌকায় গমন হলে শস্য বৃদ্ধি, ভালো ফলন এবং অনেক সময় অতিবৃষ্টি বা বন্যার আশঙ্কার কথা বলা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *