নবযাত্রা প্রতিবেদক
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের উপর নির্যাতনসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অপহরণ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সংঘর্ষসহ নানারকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলো নোয়াখালী জেলার সেনবাগ থানার ইয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা বাচ্চু মিয়ার ছেলে মো. এনামূল হক প্রকাশ সাগর (৩০)।
নোয়াখালীর স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার ক্ষমতার দাপটে বেসামাল হয়ে উড়েছেন সাগর। একসময় এলাকার মানুষ থেকে বিভিন্ন রকম ব্যবসার কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে দেন, এলাকায় ইয়াবা, গাজা, মদসহ বিভিন্ন রকম নেশা জাত দব্য বিক্রি করে তরুণ প্রজন্মের ক্ষতি করতে শুরু করেন।
২০১৫ সালে চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্র নিয়ে ধরা খেয়ে মামলা খেয়ে পালিয়ে যান সেনবাগ নিজ এলাকায়। তার এমন কর্মকাণ্ডের জন্যও এলাকার মানুষ তার বিরুদ্ধে আইনতো ব্যবস্থা গ্রহণে ভয় পেতেন। এমনি নানারকম বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন সাগর।

এদিকে, সাগরের এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শুধু তার গ্রামেই ছিলা। নগরীর মেডিকেল এলাকায় ফলের ব্যাবসার আড়ালে করতো চাঁদাবাজি। কোনো হকার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালেই জোরপূর্বক হকারদের থেকে টাকা আদায়সহ পুলিশ দিয়ে হয়রানি করতো।
এছাড়াও চট্টগ্রাম নগরীতে জুলাই আগস্টের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাগর ছিলো বেশ স্বকীয়। শিক্ষার্থীদের উপর চালিয়েছেন অমানবিক নির্যাতন। তার নামে নগরীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা হয়েছে। সম্প্রতি নগরীর পাঁচলাইশ থানা এলাকার এক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার গ্রেপ্তারে খুশি তার নিজ এলাকায় বাসিন্দাসহ চট্টগ্রাম মেডিকেল এলাকার ব্যবসায়ীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী সাগরের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, আমরা সাগরের অপরাধে অতিষ্ঠ হয়ে গেছি। সে নগরীর এক যুবলীগ নেতার ছত্রছায়ায় থেকে চাঁদাবাজি করতো। কোনো ব্যবসায়ী কথা বললেই তাকে মারধর করতো, পুলিশ দিয়ে হয়রানি করতো। তার এমন অত্যাচারে আমরা প্রায় অতিষ্ঠ হয়ে গেছি। এখন খুব খুশি আমরা বর্তমান উপদেষ্টার কাছে তার উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি।
বিশ্বস্ত সূত্রে আরো জানা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থানে তার নামে একাধিক মামলা রয়েছে। যার সবগুলোই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত।