আবারও ইসলাম-বিদ্বেষ উস্কে দেয়ার চেষ্টা করলেন অমিত শাহ

নবযাত্রা ডেস্ক

মহানবী (সাঃ) কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে সমালোচিত হয়েছে ভারতের রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকা দলর বিজেপি। সম্প্রতি হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে বিজেপি নেত্রী নূপুর শর্মার মন্তব্যে ব্যাকফুটে রয়েছে কেন্দ্র সরকার। ঘরে-বাইরে তুমুল সমালোচনার মুখে অনেকটাই সুর নরম করেছে দেশের শাসকদল। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, মহানবী (সাঃ) কে নিয়ে বিজেপির দুই নেতা-নেত্রী নূপুর শর্মা ও নবীন জিন্দলের কটূক্তি কিন্তু বিনা মেঘে বজ্রপাত নয়। নিরঙ্কুশ ক্ষমতায় আসা-ইস্তক বিজেপির শীর্ষ নেতাদের প্রশ্রয়ে ভারতে উগ্র-হিন্দুত্ববাদের প্রসার যেভাবে ঘটে চলেছে, সংবিধান ও আইনের তোয়াক্কা না করে ঘৃণার বীজ যেভাবে বোনা হয়েছে, তাতে এমন হওয়াটাই স্বাভাবিক।

এবার ভিন্নভাবে আবার ইসলাম-বিদ্বেষ উস্কে দেয়ার চেষ্টা করলেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

আগুনে আরও খানিকটা ঘি ঢেলে অমিত শাহর মন্তব্য, মৌর্য, গুপ্ত বা পাণ্ডদের নয়, মুঘলদেরই গুরুত্ব দিয়েছেন ইতিহাসবিদরা। শুক্রবার দিল্লিতে একটি বইপ্রকাশ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ইতিহাসবিদদের কিছু বলতে চাই। আমাদের দেশে অনেক সাম্রাজ্য ছিল। কিন্তু ইতিহাসবিদরা শুধুমাত্র মুঘলদের গুরুত্ব দিয়েছেন এবং তাদের বিষয়ে লিখেছেন। বাস্তবে, পাণ্ডরা প্রায় ৮০০ বছর রাজত্ব করেছে। আসামের আহোম সাম্রাজ্যের আয়ু ছিল অন্তত ৬৫০ বছর। আহোমরা বখতিয়ার খিলজি ও আওরঙ্গজেবকে পরাজিত করেছে। পল্লব ও চোল সাম্রাজ্যের শাসনকাল ছিল প্রায় ৬০০ বছর। আফগানিস্তান থেকে লঙ্কা পর্যন্ত শাসন করেছে মৌর্যরা। চারশো বছর রাজত্ব করেছে গুপ্তরা। ‘অখণ্ড ভারত’ তৈরির প্রথম চেষ্টা করেন সমুদ্রগুপ্ত। কিন্তু তাদের নিয়ে কোনও বই নেই।’

এদিন ‘মহারণ: সহস্র বর্ষের ধর্মযুদ্ধ’ শীর্ষক বইয়ের উদ্বোধনে এসে শাহ বলেন, ‘দেশের সংস্কৃতি, ভাষা ও ধর্মকে বাঁচাতে হাজার বছর ধরে যে লড়াই চলছে তা বৃথা যায়নি। বিশ্বের সামনে ফের সগর্বে দাঁড়িয়েছে ভারত। যখন নিরপেক্ষ ইতিহাসবিদরা ইতিহাস লেখেন তখন তথ্য সামনে আসে। তাই আমি মনে করি সত্যি তুলে ধরে তথ্যসম্বলিত ইতিহাস নিয়ে বই লেখা প্রয়োজন।’

সূত্র: এনডিটিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *