চকবাজারের মতি টাওয়ার-মতি কমপ্লেক্সে সাশ্রয়- মানানসই পোশাকের জন্য সব শ্রেণীর ক্রেতার সমাগম

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঐহিত্যবাহী মার্কেট হিসেবেই বিশেষ পরিচিতি রয়েছে চকবাজারের মতি টাওয়ার,  মতি কমপ্লেক্সের। বরাবরই সাশ্রয় ও মানানসই কাপড়ের জন্য ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় থাকে এই দু’টি মার্কেট। পাশাপাশি এক ছাদের নিচেই পাওয়া যায় প্রয়োজনীয় সকল ধরণের পণ্য। ফলে ক্রেতাদের কাছে জনপ্রিয়তা রয়েছে চকবাজারের মতি টাওয়ার, মতি কমপ্লেক্স।

এদিকে ঈদ উপলক্ষে রোজা শুরুর আগে থেকেই ঈদ কেনাকাটা শুরু হয়েছে মার্কেট দু’টিতে। এরমধ্যে আরো বেশি জমজমাট হয়ে গেছে কেনাকাটা। রোজার শেষ মূহুর্তে এসে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিক্রেতারা। শুধু বিক্রেতাই নয়, শেষ কেনাকাটায় ব্যস্ত ক্রেতারও।

সরেজমিনে গতকাল দুই মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, সন্ধ্যার পর তিল ঠাইয়ে জায়গা নেই কোনো দোকানে। ছোট থেকে বড় সকলের চাহিদা অনুযায়ী একই ছাদের নিচে সবধরণের কাপড়ের সমাহার রয়েছে এখানে। জানা যায়, ৪তলা বিশিষ্ট মতি টাওয়ারে রয়েছে ১৫০টি দোকান এবং ৩তলা মতি কমপ্লেক্সে দোকান রয়েছে ১৪৯টি। দুই মার্কেটের মধ্যে প্রথম ফ্লোরে শাড়ি, থ্রিপিস, রেডিমেট গার্মেন্টস, কসমেটিকসের দোকান, দ্বিতীয় ফ্লোরে জুয়েলারি, রেডিমেপ গার্মেন্টস, কসমেটিকস, তৃতীয় ফ্লোরে টেইলার্স, জুতোর দোকান, আর চতুর্থ ফ্লোরে রয়েছে মোবাইল শপ। একই ছাদের নিচে প্রায় সবধরণের প্রয়োজনীয় পণ্যের সমাহার দুই মার্কেট জুড়েই আছে।

মতি টাওয়ারের লিজা শাড়ি কালেকশনের মো. ফরহাদ বলেন, ঈদ মৌসুমে ভালোই বেচাবিক্রি হচ্ছে। এবার অন্যান্য বারের মত ক্রেতার চাপ তুলনামূলক কম। কিন্তু ক্রেতা কম হলেও বেচাবিক্রি বেশি হচ্ছে। এতে কাস্টমার সামলাতে খুব একটা বেগ পেতে হচ্ছে না।  

ঈদ উপলক্ষে প্রতিটি দোকানে রয়েছে থান কাপড়, থ্রিপিস, শাড়ি, রেডিমেট গামর্ন্টেস, জুয়েলারির বিশাল সংগ্রহ। তবে অন্যান্য মার্কেটের মতো এখানেও জায়গা করে নিয়েছে এবার ঈদের পরিচিত আলেয়া, নায়েরা, মধ্যপ্রাচ্যের পোশাকসহ নারীদের বেনারসী, কাতানের শাড়ি থ্রিপিস। পাশাপাশি বিপুল কলি, রাণী কটন, পিউর কটন, পাটোল, রানাআচ, জোবাইদা, ওমটেক্স নামের থ্রিপিসের সংগ্রহ। তবে দেশীয় বুটিকসের বেশ ভালো চাহিদা রয়েছে বললেন দোকানিরা। থ্রিপিস গুলোর দাম পড়ছে ৫শ’ থেকে প্রায় চার হাজার টাকার মতো। থ্রিপিসের পাশাপাশি বাহারি গাউন এসেছে রেডিমেট গার্মেন্টসের দোকানগুলোতে। চুমকি, জারদৌসি, পাথর, কুন্দনের ব্যবহারে ফ্লোর টাচ ও হাটুর নিচের গাউনগুলো নজর কাড়ছে তরুণীদের। তেমনি একজন মুক্তা আক্তার। পাকিস্তানি একটা গাউন কিনেছেন তিনি। সঙ্গে রয়েছেন তার মা আছিয়া বেগম ও বোন মুন্নী।

তারা বলেন, অন্যান্য মার্কেটের চেয়ে এখানে সাশ্রয়মূল্যে কেনাকাটা করা যায়। শুধু থ্রিপিস কিংবা গাউন নয়, থান কাপড় ও শাড়ির বিশাল সামাহার এখানে। পিউর কটন, লিনেন, বেক্সি বয়েল, গুজরাটি কাজ, নেটসহ বিচিত্র কালেকশন আছে। বাহারি কাতান, চেন্নাই কাতান, ইন্ডিয়ান কাতান, সানন্দা কাতান, পিউর কাতানের কালেকশন রয়েছে দোকানগুলোতে। এছাড়া রয়েছে গাদোয়াল, কাঞ্চিপুরম, মসলিন, জামদানি, তাঁত, রাজশাহী সিল্ক। বিভিন্ন ক্যাটাগরির শাড়ির দাম ৫শ থেকে প্রায় ২০ হাজার টাকার বেশি।

পাশাপাশি দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত জুয়েলারি, ব্যাগ ও কসমেটিকসের দোকানগুলোতেও রয়েছে নতুন কালেকশন। লেদারের স্টাইলিশ ব্যাগ যেমন রয়েছে তেমনি বয়স্কদের জন্যও রয়েছে কালেকশন। ৪শ থেকে দেড়হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে ব্যাগগুলো। জুয়েলারিতেও চমক আছে এখানে। পাথর, কুন্দন, গ্লোড প্লেইট, মেটালসহ নান্দনিক ডিজাইনের কালেকশন পাওয়া যাচ্ছে সাশ্রয়মূল্যে ।

মতি টাওয়ার দোকান মালিক ও ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেক বলেন, এমার্কেটে সব শ্রেণির ক্রেতার সমাগম হয়। তাই সব ধরণের ক্রেতার রুচি অনুযায়ী কালেকশন আছে দুই মার্কেট জুড়ে। কেনাকাটায় যেন ক্রেতাদের কোনো রকম সমস্যা না হয় এর জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সার্বক্ষণিক মহিলা ও পুরুষ পুলিশ নিয়োজিত আছেন নিরাপত্তার স্বার্থে। পাশাপাশি মালিক সমিতির পক্ষ থেকে নিজস্ব সিকিউরিটি ও নিরাপত্তাকর্মী রয়েছে। এছাড়া কোনো ক্রেতা কোনো অভিযোগ করলে সমিতির পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়। ক্রেতার সমস্যা অল্প সময়ের মধ্যে সমাধান করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *