নবযাত্রা ডেস্ক
আগামী শুক্রবার দেশের ২২টি জেলায় অনুষ্ঠিত হবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে প্রথম ধাপের লিখিত পরীক্ষা। এই পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে বিভিন্ন নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে গোয়েন্দা নজরদারি ও পরীক্ষা কেন্দ্রের আশপাশে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন রাখতে জ্যামার বসানো হচ্ছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে গত মঙ্গলবার এক সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহাম্মদ মনসুরুল আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে যাতে কেউ পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বন করতে না পারেন, সেজন্য প্রত্যেকটি পরীক্ষা কেন্দ্রের আশপাশের এলাকায় জ্যামার বসানো হবে। পরীক্ষা শুরুর ১৫ মিনিট আগে থেকে পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন রাখা হবে।
সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করার লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারিও অব্যাহত থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হবে। ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে প্রশ্নপত্র ও অন্যান্য ডকুমেন্ট ঢাকা থেকে জেলার ট্রেজারি সংরক্ষণ এবং উত্তরপত্র পৌঁছানো হবে। যে কোনো প্রকার ইলেকট্রনিকস কমিউনিকেটিভ ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষার্থীরা যাতে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না পারেন, সেজন্য প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে মেটাল ডিটেক্টর থাকবে। নারী প্রার্থীদের কানে কোনো ডিভাইস আছে কি না- তা কঠোরভাবে যাচাই করা হবে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব প্রতিরোধে বিটিআরসি ও গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে ওই সভায়।
জানা গেছে, প্রথম ধাপে ২২টি জেলার মধ্যে ১৪টির সব উপজেলা এবং আটটি জেলার কয়েকটি উপজেলার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) রাতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন) মনীষ চাকমা স্বাক্ষরিত এক চিঠি থেকে এ তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্টদের কাছে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২০-এর লিখিত পরীক্ষা আগামী ২২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নিজ নিজ জেলায় এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
চিঠি থেকে জানা যায়, আগামী ২২ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মাগুরা, শেরপুর, গাজীপুর, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মাদারীপুর, মুন্সীগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার, লালমনিরহাট জেলার সব উপজেলার লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
এ ছাড়া সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া, বেলকুচি, চৌহালী, কামারখন্দ, কাজীপুর, যশোর জেলার ঝিকরগাছা, কেশবপুর, মণিরামপুর, শার্শা, ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা, ধোবাউড়া, ফুলবাড়িয়া, গফরগাঁও, গৌরীপুর, হালুয়াঘাট, ঈশ্বরগঞ্জ, নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া, বারহাট্টা, দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, কেন্দুয়া, কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম, বাজিতপুর, ভৈরব, হোসেনপুর, ইটনা, করিমগঞ্জ, কটিয়াদি, টাঙ্গাইল জেলার সদর, ভূয়াপুর, দেলদুয়ার, ধনবাড়ি, ঘাটাইল, গোপালপুর, কুমিল্লা জেলার বরুয়া, ব্রাহ্মণপাড়া, বুড়িচং, চান্দিনা, চৌদ্দগ্রাম, সদর, মেঘনা, দাউদকান্দি এবং নোয়াখালী জেলার কবিরহাট, সদর, সেনবাগ, সোনাইমুড়ি, সুবর্ণচর উপজেলার প্রার্থীদের পরীক্ষা ২২ এপ্রিল নেওয়া হবে।