নবযাত্রা ডেস্ক
সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
আস্সালামু আলাইকুম। আপনাদের সকলকে জানাচ্ছি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা।
যশোর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি বদিউজ্জামান ধনিকে ঈদের ২য় দিনে দিন-দুপুরে প্রকাশ্যে তার বাড়ির সামনে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। ঘটনার সময় বদিউজ্জামান ধনী নিজের বাড়ির সামনে একটি দোকানে বসে চা পান করছিলেন। এসময় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে চলে যায়। এলাকাবাসী তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়াও গতকাল কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলাধীন কালীগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শফিকুল ইসলামকে মধ্যযুগীয় কায়দায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা নৃশংসভাবে হত্যা করে।
বন্ধুরা,
বাংলাদেশে প্রকৃত আইনের হাতের চেয়েও অবৈধ ক্ষমতার হাত অনেক লম্বা। ছাত্রলীগ, যুবলীগ এক সর্বনাশা- সময় সৃষ্টি করেছে। বর্তমান এই ঘোর দুর্দিনে জনগণের জান-মাল এখন ভয়ানক বিপন্ন। তাদের অব্যাহত গুম, খুন, নারী শিশু নির্যাতনে সারাদেশে এক বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে। সরকারের নির্দেশেই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের হত্যা ও নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। দেশব্যাপী সরকার হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছে। দেশে বেকারত্ব, দারিদ্র, অনাহার, জিনিসপত্রের অগ্নিমূল্য থেকে দৃষ্টি সরাতেই এই সকল হত্যাকান্ড। এর উপর দেশে ভয়াবহ লোডশেডিং চলছে, তথাকথিত উন্নয়নের মাধ্যমে লুটপাটের স্বর্গরাজ্য গড়ে তোলা হয়েছে, দেশ থেকে লাখ-লাখ কোটি টাকা পাচার করে অর্থনীতিকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ তলানীতে ঠেকেছে- যা দেশের ইতিহাসে সর্বনি¤œ, সমাজ থেকে ন্যায় বিচার উচ্ছেদ করা হয়েছে, দলীয়করণের মাধ্যমে প্রশাসনকে তছনছ করে দেয়া হয়েছে, বিচার বিভাগ এখন সরকারের অবৈধ সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নের যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। নানা কালাকানুনের মাধ্যমে কেড়ে নেয়া হয়েছে মানুষের বাকস্বাধীনতা, মানুষের ভোটের অধিকার নেই, মুক্তভাবে কথা বলার অধিকার নেই, দেশের সকল সেক্টরে এখন নৈরাজ্য চলছে। দেশের চার বারের সাবেক প্রধামন্ত্রী গণতন্ত্র উদ্ধার ও প্রতিষ্ঠা এক অবিসংবাদীত নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে প্রতিহিংসামূলক আওয়ামী বিচারের বন্দিশালায় বন্দি করে রাখা হয়েছে। মিথ্যা মামলায় একের পর এক সাজা দেয়া হচ্ছে দেশ নায়ক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানকে। এতেই দেশের যে বিপজ্জনক পরিস্থিতির উপলব্ধি করা যায়। আওয়ামী মরণঘাতি ভাইরাস গোটা রাষ্ট্র ও সমাজকে কুরে কুরে খাচ্ছে।
এখন যেদিকে তাকানো যায় নৈরাশ্য, নৈরাজ্য আর প্রহসনের ছবি। শ্রীলঙ্কার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি বর্তমানে বাংলাদেশেও বিদ্যমান। এই যখন দেশের অবস্থা তখন বাংলাদেশের জনগণ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করে কিনা সেই আতঙ্ক থেকে বিরোধী দল নিধনে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই যুবদল নেতা বদিউজ্জামান ধনীকে পৈশাচিকভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যা করা হয়েছে কুড়িগ্রামের শফিকুল ইসলামকে। এই সমস্ত হত্যাকান্ড পরিকল্পিত, এক বৃহত্তর মাস্টার প্ল্যানেরই অংশ। মানুষ যাতে সরকারের বিরুদ্ধাচ্চারণ করার সাহস না পায় এই হত্যাকান্ডের মাধ্যমে জনগণকে সেই মরণবার্তা দেয়া হলো।
মূলত: পায়ের নিচ থেকে শেখ হাসিনা সরকারের মাটি সরে যাওয়া টের পেয়ে আওয়ামী সরকার দেশে এখন মৃত্যুদূতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। ক্ষমতাসীনদের সীমাহীন দূর্নীতি ও স্বজন পোষণ এবং বিলাসী জীবনযাপন এবং বিপুল সম্পত্তি অর্জন সংকটাপন্ন হবে ভেবেই ক্ষমতার শেষ সময়ে এসে তারা এখন মরণ কামড় দিচ্ছে। ক্ষমতা হারানোর ভয়ে তারা উন্মাদ হয়ে গেছে। তাই সহিংস রক্তপাতের মধ্য দিয়ে নিজেদের অবৈধ ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আমরা সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই প্রতিটি হত্যাকান্ডেরই বিচার হবে বাংলাদেশের মাটিতে। সময় আর বেশি নাই। এই সরকারের পতন আসন্ন।
সাংবাদিক বন্ধুরা,
বর্তমান আওয়ামী শাসন পুরনো বাকশালীরই পূন:মুদ্রন। নব্যবাকশালী আওয়ামী শাসন যন্ত্রের কাছে এদেশের সংগ্রামী জনগণ কখনো মাথা নত করবে না। জনগণের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটবে যেকোন সময়। বর্তমান বিপন্ন সময়ে দাঁড়িয়ে জনগণ তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। জনগণ এই অপশক্তির কাছে কখনোই আত্মসমর্পন করবে না।
সাংবাদিক বন্ধুরা,
সাম্প্রতিক সহিংস রক্তপাতের যে ভয়ানক পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে তাতে ঘোটা জাতি স্তম্ভিত ও শঙ্কিত। মনে হচ্ছে যেন শয়তান লুসিফারের অত্যুল্লাস। ১/১১’র অসাংবিধানিক সরকারের সহায়তায় আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় বসার পর থেকে বিরোধী দল তথা বিএনপিকে নির্মূলের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে অবৈধ সরকার। গুম, খুন, বিচারবর্হিভূত হত্যা, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের উপর হামলা ও নির্যাতন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এরা ক্ষণে ক্ষণে জনগণকে শাসাচ্ছে। কোন কারণ ছাড়াই থানায় থানায় মিথ্যা মামলার হিড়িক চলে। গত ১৪ বছরে প্রায় সারাদেশে হাজার-হাজার নেতাকর্মী হত্যা ও নির্যাতনের শিকার। গুম ও বিচারবর্হিভূত হত্যার শিকার হয়েছেন বেশ কয়েক হাজার নেতাকর্মী। দেড় লক্ষাধিক মিথ্যা মামলায় আসামী করা হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ নেতাকর্মীকে। বিএনপি’র মৃত নেতা, পবিত্র হজ্ব পালনরত নেতা, পক্ষাঘাতগ্রস্থ নেতার নামেও তারা মামলা দিয়ে জনগণের কাছে হাসির পাত্র হয়েছে। তারা নিজেরাই প্রমানিত করলো তারা যে মিথ্যা মামলা দেয়। গুম ও বিচারবর্হিভূত হত্যা প্রত্যেকটির সাথে ক্ষমতাসীনরা জড়িত। এদের আমলে নারী ও শিশুর উপর নির্যাতন চলছে নারকীয় কায়দায় ধারাবাহিকভাবে। প্রতিনিয়ত আওয়ামী নেতাদের দ্বারা শিক্ষকরা লাঞ্ছিত হচ্ছেন। এই সরকারের আমলে নারীর জীবন, সম্ভ্রম, লজ্জা, সম্মান উপেক্ষিত। মায়ের পেটের শিশুও তাদের হাতে নিরাপদ নয়।
এই সরকারের আমলে ৪৫ জন সাংবাদিক হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে। সাগর-রুনির হত্যার বিচার আজও হয়নি। স্বাধীন মতপ্রকাশের কারণেই বেছে বেছে সাংবাদিকদেরকে হত্যা করা হয়েছে এবং বন্দি করা হচ্ছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে গণতন্ত্রের কষ্টিপাথর মনে করা হয়। অথচ মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে শত্রুবলে মনে করে সরকার। এই কারণেই আজ স্বাধীন বিবেকের উপর অবৈধ সরকারের ক্রমাগত সন্ত্রাসী হামলা অব্যাহত রয়েছে।
আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষে যশোরে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত যুবদল নেতা বদিউজ্জামান ধনী ও কুড়িগ্রামে যুবদল নেতা মোঃ শফিকুর রহমান হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের জোর দাবী জানাচ্ছি।
সাংবাদিক বন্ধুরা,
এছাড়াও চট্টগ্রামের মীরের সরাইয়ে উপজেলা বিএনপি নেতা শহীদুল ইসলাম চৌধুরীর বাড়িতে আওয়ামী সন্ত্রাসী কর্তৃক অগুন লাগানোর ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং ময়মনসিংহ জেলার গফরগায়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বাচ্চুর বাড়িতে হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।