বিভাগের মধ্যে প্রথম স্থানে
রয়েছে চট্টগ্রাম জেলা
মরিয়ম জাহান মুন্নী
চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলায় সাক্ষরতার হার বেড়েছে। এ বিভাগে সাক্ষরতার হার এখন ৭৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ। এরমধ্যে সাক্ষরতার দিক থেকে এগিয়ে আছে চট্টগ্রাম জেলা। এ জেলায় সাক্ষরতার হার ৮০ দশমিক ৮৫ শতাংশ। যা ২০১১ সাল থেকে ২৮ দশমিক ১৬ শতাংশ বেড়েছে। জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ সালের তথ্য সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জেলায় সাক্ষরতার হার বাড়ার চারটি কারণ উল্লেখ্য করেছেন শিক্ষাবিদরা। এসব কারণ হচ্ছে- বাবা-মায়ের মধ্যে সন্তানদের নিয়ে সচেতনতা বেড়েছে। ছেলে-মেয়েতে ভেদাভেদ কমেছে। নারীরা তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়ায় নারী শিক্ষার হার বেড়ে গেছে। এছাড়া মেয়েরা কর্মমুখী হয়েছেন। এসব কারণেই জেলায় সাক্ষরতার হার বেড়েছে।
চট্টগ্রাম জেলায় সাক্ষরতার হারে এগিয়ে আছে পুরুষ। নারীরা রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে। তবে পিছিয়ে নেই হিজড়া জনগোষ্ঠীও। এজেলায় পুরুষ সাক্ষরতার হার এখন ৮২ দশমিক ৬৬ শতাংশ এবং নারী সাক্ষরতার হার ৭৯ দশমিক ০৭ শতাংশ। এছাড়া হিজড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৫২ দশমিক ২৫ শতাংশ সাক্ষরতার হার বেড়েছে।
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ সালের তথ্যে দেখা যায়, গ্রামের চেয়ে এগিয়ে আছে শহরাঞ্চল। শহরাঞ্চলে বর্তমানে পুরুষ সাক্ষরতার হার ৮২ শতাংশ ৪০ শতাংশ, নারী ৭৯ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং হিজড়া ৫১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। ১১ বছর আগে পুরুষ ছিল ৬৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ ও নারী সাক্ষরতার হার ছিল ৬১ দশমিক ২১ শতাংশ। পুরুষের সাক্ষরতার হার বেড়েছে ১৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং নারী সাক্ষরতার হার বেড়েছে ১৮ দশমিক ০৯ শতাংশ।
একইভাবে চট্টগ্রাম জেলার আওয়াধীন গ্রামাঞ্চলে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। এরমধ্যে পুরুষ ৭৫ দশমিক ১৪ শতাংশ। ১১ বছর আগে এ জেলার গ্রামাঞ্চলে পুরুষ সাক্ষরতার হার ছিল ৪৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এসময়ের মধ্য পুরুষ সাক্ষরতার হার বেড়েছে ২৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ পর্যন্ত। এছাড়া নারী সাক্ষরতার হার ৪৮ দশমিক ৫২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ হয়েছে।
শিক্ষাবিদ প্রফেসর হাসিনা জাকারিয়া বেলা বলেন, সাক্ষরতার হার বেড়েছে মূলত অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে। পাশাপাশি নারীরা তাদের শিক্ষা ও অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়েছেন। মা বাবারা এখন তাদের সন্তানদের ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানীসহ বড় বড় মানুষ তৈরি করতে চার। ছেলে মেয়েতে ভেদাবেদ কমেছে। এসব কারণেই দেশে সাক্ষরতার হার বেড়েছে। যদিও এখনো পুরুষ এগিয়ে তবে দেশের বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল দেখলে বুঝা যায় নারীরা কতটা এগিয়ে আছে। অল্প সময়ের মধ্যে নারীরা পুরুষদের ছাড়িয়ে যাবে। এসময় খুব একটা দূরে নয়। কারণ যেকোনো অসমতা সমান সমান হতে সময় লাগে। এটিও তার ব্যতিক্রম নয়। এটা বলা বাহল্য নারীরা অব্যশই পুরুষের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে আছে।
আগ্রাবাদ মহিলা কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ আনোয়ারা আলম বলেন, সাক্ষরতার হার বাড়ার একটি বড় কারণ হচ্ছে চট্টগ্রাম জেলার শহরটি দেশের দ্বিতীয় রাজধানী। বন্দরনগরী খ্যাত এ শহরে কর্মের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষ বসবাস করে। তাদের মধ্যে জীবন-মান উন্নয়নের জন্য শিক্ষার গুরুত্ব বেশি দেখা যায়। এ কারণেই চট্টগ্রামে শিক্ষার হার বেড়ে গেছে। এসময় তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রামের স্থায়ী বাসিন্দাদের মধ্যে এখনো শিক্ষার হার কম। তবে এক্ষেত্রেও উন্নতি হয়েছে বলতে হবে। চট্টগ্রামের স্থানীয়দের মধ্যে কিছু ধর্মীয় গোড়ামির কারণে একটা সময় শিক্ষায় নারীরা পিছিয়ে ছিল।