সবজির দামে স্বস্তি বেড়েছে আলুর দাম


নিজস্ব প্রতিবেদক
উর্ধ্বমুখী সবজির দামে সপ্তাহের শুরুতেই ফিরেছে স্বস্তি। প্রায় সব ধরণের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ৫০ টাকার বেশি কমেছে। তবে ব্যতিক্রম আলুর দামে। সপ্তাহের ব্যবধানে পাঁচ টাকা বেড়ে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে আলু।
এদিকে, গত সপ্তাহের মতই অপরিবর্তিত রয়েছে মুরগি, গরুর মাংস, ডিম, মাছ, চাল, চিনি, ভোজ্যতেল, আটাসহ অন্যসব ভোগ্যপণ্যের দাম।
গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর বহদ্দারহাটের পাইকারি সবজি ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত একমাস বন্যার কারণে সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়ে যায়। এতে সব সবজির দাম চড়া ছিল। এখন আবার সবজির সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে যে কারণে গত দু’দিন ধরে সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। সরবরাহ বাড়লে আরো কমবে দাম। বাজারে প্রতিটি সবজি কেজিতে ১০ থেকে ৫০ টাকার বেশি দাম কমেছে।
এ বাজারে সাতদিন আগেও বন্যায় সবজির ক্ষেত নষ্টের অজুহাতে ১শ’ থেকে আড়াইশ টাকার উপরে বিক্রি হয়েছে নয়টি সবজি। এসব সবজি এখন দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, ১০০- ১১০ টাকা দামের বরবটি দাম কমে কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৭০- ৮০ টাকায়, টমেটো ২০০- ২২০ টাকা থেকে দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ১৫০- ১৬০ টাকায়, ২৫০ টাকায় কাঁচামরিচ দাম কমে ১৮০- ২০০ টাকার, তিতাকরলা ১১০ টাকা থেকে কমে ৭০- ৮০ টাকার, বেগুন, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা থেকে কমে ৫০- ৬০ টাকায়, জিঙ্গা ১০০ টাকা থেকে কমে ৬০- ৭০ টাকায়, মিষ্টি কুমড়ো, লাউ, শসা ও পেঁপে ৬০ টাকা থেকে কমে ৩০- ৪০ টাকায়, লতি ৮০ টাকা থেকে কমে ৪০- ৫০ টাকায় এছাড়া ১০০ টাকার কচুর ফুল দাম কমে ৩০- ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।  
সবজির দাম কমায় কিছুটা স্বস্থি ফিরেছে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে। তবে মুরগি, ডিম ও মাছের দাম না কমায় অসন্তুষ প্রকাশ করেন ক্রেতারা।
মো. নাছির নামের এক ক্রেতা বলেন, সবজির দাম কমেছে। এটি ভালো দিক। তবে আলুর দামে আবার পাঁচ টাকা বেড়ে গেছে। একটার দাম কমলে অন্য কয়েকটা পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এটি যেন নিয়ম হয়ে গেছে দেশে। আমরা সাধারণ মানুষও এভাবেই চলছি। বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রসাশনকে বাজার তদারকি বাড়াতে হবে। ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের জিম্মি করে রেখেছে। এথেকে সাধারণ মানুষকে রেহাই দেয়া দরকার।
বহদ্দারহাটের ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন বলেন, চাক্তাইয়ে পাইকারিতে আলুর কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে ৩৮- ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তাই খুচরায় কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলুর দাম বেড়েছে মূলত বৃষ্টিতে সবজির ক্ষতি যখন নষ্ট হয়ে যায় তখন বাজারে আলুর চাহিদা বেড়ে গেছে। একারণে হিমাগারে আলু কমে গেছে। চাক্তাইয়ে ব্যবসায়ীরা বলছেন, যেখানে দিনে এক ট্রাক আলু বিক্রি হতো। বৃষ্টির পর গত মাসে এখানে দিনে ১০ ট্রাকের বেশি আলু বিক্রি হয়েছে। চাহিদা বাড়ার কারণে আলুর মজুত কমে গেছে। এতেই দাম ব্যাপক হারে বেড়েছে।
এদিকে, এখনো ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭০-১৭৫ টাকায়। কোথাও কোথাও ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতেও দেখা যায়। এদাম গত সপ্তাহেও একই ছিল। ডিমের ডজন ১৬০-১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের মধ্যখানে ডিমের ডজন কোনো কোনো স্থানে ১৮০ টাকা বিক্রি হতেও দেখা যায়।
এ ছাড়া হাড়ছাড়া গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০০- ৮৫০ টাকায়। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে এক হাজার টাকায়।
ইলিশের ভরা মৌসুমেও কমছে না ইলিশের দাম। মাছের বাজারে আকারভেদে প্রতি কেজি ইলিশ এখনো বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায়। এ ছাড়া অন্যান্য মাছের মধ্যে মাঝারি আকারের রুই ও কাতলা ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩০০, কোরাল ৬৫০ ও লইট্টা ২০০- ২৫০ টাকায় ও পাঙ্গাস ১৯০- ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *