৫৬৩তম জরুরি সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত জানিয়ে চবি প্রশাসনের প্রেস ব্রিফিং

নবযাত্রা ডেস্ক

সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী-স্থানীয়দের সাথে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে আজ (২ সেপ্টেম্বর ২০২৫) বিকাল ৩টায় ৫৬৩তম জরুরি সিন্ডিকেট সভায় বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। জরুরি সিন্ডিকেট সভা শেষে রাত ৮:১৫ মিনিটে চবি উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এবং সিন্ডিকেট সচিব প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ পেশ করেন। এ সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ হাসমত আলী, ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক ড. মো. আনোয়ার হোসেন ও সহকারী প্রক্টরবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জরুরি সিন্ডিকেট সভায় নিম্নলিখিত সিদ্ধান্তসমূহ গ্রহণ করা হয়:-

১। ৩০ এবং ৩১ আগস্ট ২০২৫ তারিখ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের উপর স্থানীয় দুস্কৃতকারী কর্তৃক হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং উদ্ভুত পরিস্থিতিতে আহত সকলের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহানুভূতি জ্ঞাপন করা হয়।

২। আহত সকল শিক্ষার্থীর উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা ও ব্যয়ভার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক বহন করার সিদ্ধান্ত হয়।

৩। উদ্ভুত ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীদের একটি তালিকা প্রস্তুতের সিদ্ধান্ত হয়।

৪। সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিধানের স্বার্থে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন একটি মডেল থানা স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন রেলগেটে নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাটল ট্রেনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।

৫। যেসব ভবন/কটেজে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বসবাস করে, সেসব ভবন/কটেজের মালিকদের সাথে আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের ঘরভাড়াসহ অন্যান্য সমস্যাজনিত অসন্তোষ নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।

৬। বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ২টি এমবুলেন্স ক্রয় ও ৫০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতালে রূপান্তরের জন্য ডিপিপি প্রণয়ন করে সরকারের নিকট দাখিলের সিদ্ধান্ত হয়।

৭। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার লক্ষ্যে ১০ তলাবিশিষ্ট ৫টি ছাত্র হল এবং ৫টি ছাত্রী হল নির্মাণের লক্ষ্যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ডিপিপি প্রস্তুত করে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দাখিলের সিদ্ধান্ত হয়।

৮। বিদ্যমান আবাসিক হলগুলো সংস্কার করে শিক্ষার্থীদের বসবাস উপযোগী করার সিদ্ধান্ত হয়।

৯। বিদ্যমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্ট্রাইকিং ফোর্স (সেনাবাহিনী) মোতায়েন রাখার এবং টহল কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত হয়।

১০। ৩০ এবং ৩১ আগস্ট ২০২৫ তারিখ সংঘটিত ঘটনা তদন্ত করে এর কারণ অনুসন্ধান এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপনসহ দোষীদের চিহ্নিত করার জন্য একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত হয়।

১১। ৩০ এবং ৩১ আগস্ট ২০২৫ তারিখ সংঘটিত ঘটনা তদন্ত করে এর কারণ অনুসন্ধান, দোষীদের চিহ্নিতকরণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপনের জন্য নিম্নরূপে কমিটি গঠন করা হয়:

আহ্বায়ক
ক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী- ডিন, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ, চ.বি

সদস্যরা হলেন—
খ) প্রফেসর ড. রেজাউল আজিম, পদার্থবিদ্যা বিভাগ, চ.বি

গ) প্রফেসর ড. সৈয়দ মুহাম্মদ শামসুল হুদা, ইন, অব ফরেস্ট্রি এন্ড এ. সায়েন্স

ঘ) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আমান উল্লাহ, প্রশাসক, নিরাপত্তা দপ্তর, চ.বি.

ঙ) জনাব সাইদ বিন কামাল চৌধুরী, সহকারী প্রক্টর, চ.বি.

চ) জনাব তাহমিদা খানম, সহকারী পরিচালক, ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা, চ.বি.

সদস্য-সচিব

ছ) জনাব সৈয়দ ফজলুল করিম, ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন), গোপনীয় শাখা-

১২। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেকহোল্ডারদের সাথে পর্যায়ক্রমে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হয়।

১৩। উদ্ভুত ঘটনায় স্থানীয় নিরীহ মানুষের সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপন করে তা পূরণের জন্য সরকারকে অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং পাশাপাশি উক্ত কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারের সাথে সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।

স্বাক্ষরিত/-
ড. মোঃ শহীদুল হক
প্রশাসক
তথ্য ও ফটোগ্রাফি শাখা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *