বিজিএমইএ’র সভায় নীতি সহায়তা, সহজ ঋণ ও এফওসি নীতিমালা সংস্কারের ওপর জোর
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতকে টিকিয়ে রাখতে সরকার, ব্যাংকিং খাত ও সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন তৈরি পোশাক খাতের নেতারা।
বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)’র উদ্যোগে এসএমই মালিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ৫ এপ্রিল চট্টগ্রামে বিজিএমইএ ভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রথম সহ-সভাপতি সেলিম রহমান।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। কয়েকটি ব্যাংক একীভূত হওয়ায় ব্যাংকিং কার্যক্রমে ধীরগতি তৈরি হয়েছে, ফলে অনেক ব্যাংক ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খুলতে এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়ন দিতে পারছে না। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এসএমই কারখানাগুলো।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এফওসি নীতিমালা সংশোধন সময়ের দাবি। বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো পুনরায় চালু করে এফওসির আওতায় কাজের সুযোগ তৈরি করা এবং বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা তুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করা গেলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এছাড়া এসএমই খাতের জন্য পৃথক নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে সেলিম রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে এসএমই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, ব্যাংকিং জটিলতা, এনবিআর ও কাস্টমস প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং নীতিগত সীমাবদ্ধতার কারণে এই খাত বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এসএমই খাতকে টিকিয়ে রাখতে সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা, কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজীকরণ, বন্ড সুবিধা সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দ্রুত ও কার্যকর নীতি সহায়তা প্রয়োজন।
সভায় এসএমই উদ্যোক্তারা তাদের নানা সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন এবং এ বিষয়ে করণীয় নিয়ে মতামত দেন। বিজিএমইএ নেতারা তাদের বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় জানানো হয়, এসএমই খাতের উন্নয়নে বিজিএমইএ বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিআরডিপি-৭ সার্কুলারের আওতায় এসএমই সুবিধা অন্তর্ভুক্তি, নন-বন্ডেড এমএমই আমদানিতে ব্যাংক গ্যারান্টি সুবিধা চালু, প্রণোদনা তহবিল বিতরণ এবং মাসিক ভিত্তিতে প্রণোদনা প্রদানের উদ্যোগ। এছাড়া এসএমই কারখানার জন্য স্যালারি সাপোর্ট ঋণ সুবিধাও প্রদান করা হয়েছে।
সভায় বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রফিক চৌধুরীসহ পরিচালকবৃন্দ, এসএমই বিষয়ক স্থায়ী কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।