মশার প্রকোপ না কমা পর্যন্ত চলবে ক্রাশ প্রোগ্রাম: চসিক মেয়র

নবযাত্রা প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম, ৪ আগস্ট ২০২৫:
নগরবাসীকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া থেকে সুরক্ষা দিতে মশার প্রকোপ না কমা পর্যন্ত বিশেষ ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
সোমবার বিকেলে আগ্রাবাদ কমার্স কলেজের সামনে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে মশক নিধন কার্যক্রম এবং জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নিয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন।

মেয়র বলেন, “আগামী চার মাস প্রতিটি ওয়ার্ডে সকালের শিফটে লার্ভিসাইড এবং বিকেলে ফগিং কার্যক্রম চলবে। মশার লার্ভা ধ্বংসে আমেরিকার শিকাগো শহর থেকে আনা জৈবিক ওষুধ বিটিআই (Biological Larvicide) প্রয়োগ করা হচ্ছে।”
তিনি জানান, ওয়ার্ডভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টনের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মকর্তাদের মোবাইল নম্বর সরবরাহ করা হয়েছে। নাগরিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এলাকার পরিচ্ছন্নতায় যেকোনো সমস্যা সরাসরি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানান। কর্মীদের তদারকি করুন, গাফিলতি হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ডা. শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, “ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোধে শুধু সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়—জনগণের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ অপরিহার্য। বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি সরিয়ে ফেলতে হবে। প্লাস্টিক, কর্কশিট ও অন্যান্য অপচনশীল বর্জ্য সঠিকভাবে ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “খোলা জায়গায় ডাবের খোসা, বালতি কিংবা টব ফেলে রাখা যাবে না যাতে পানি জমে। জমা পানিতেই এডিস মশার লার্ভা জন্মায়। বাড়ির টব বা বালতিতেও দু’দিনের বেশি পানি জমিয়ে রাখা ঠিক নয়।”

চসিক মেয়র জানান, পর্যাপ্ত পরিমাণে মশক নিধনের ওষুধ মজুদ আছে এবং প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে দুই শিফটে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। তিনি নিজেও সরেজমিনে অভিযান তদারকি করছেন এবং ওয়ার্ডভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করছেন।

সড়ক ও জলাবদ্ধতা বিষয়ে আপডেট

নগরীর সড়ক পরিস্থিতি নিয়ে মেয়র বলেন, “টানা বৃষ্টিতে বহু সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা ছয়টি জোনে ভাগ করে প্রতিটি জোনে একজন নির্বাহী প্রকৌশলীর নেতৃত্বে সংস্কার কাজ শুরু করেছি। বৃষ্টির কারণে গতি কিছুটা কম হলেও কাজ থেমে নেই।”

জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা একসময় অভিশাপ ছিল। বর্তমানে আমরা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ সমস্যার সমাধান করতে পেরেছি। খাল খনন, ড্রেন সংস্কার, সুইস গেট নির্মাণসহ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”

তিনি জানান, ভবিষ্যতে দ্রুত সমস্যা শনাক্তে নালা-নর্দমায় সেন্সর প্রযুক্তি সংযোজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। চসিক, সিডিএ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ওয়াসার সমন্বয়ে একটি সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সমাপ্তি বক্তব্যে মেয়রের আহ্বান

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “আমি আশাবাদী, নগরবাসী এই জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষার লড়াইয়ে আমাদের পাশে থাকবেন। একসাথে কাজ করলে একটি ক্লিন, গ্রিন, হেলদি এবং সেফ চট্টগ্রাম গড়ে তোলা সম্ভব।”

ফটো ক্যাপশন:
আগ্রাবাদ কমার্স কলেজ এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম তদারকি করছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *