সাফজয়ী ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমাকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার

নবযাত্রা ডেস্ক

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের তারকা খেলোয়াড় ঋতুপর্ণা চাকমার গৃহনির্মাণে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ঋতুপর্ণা চাকমার হাতে গৃহনির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়।

এ সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক তারেক রহমানের নির্দেশনায় ক্যানসারে আক্রান্ত ঋতুপর্ণার মা ভূজোপতি চাকমার চিকিৎসার জন্যও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল পরিবারের হাতে চিকিৎসা সহায়তার অর্থ তুলে দেয়।

পাহাড়ি অঞ্চলের একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা ঋতুপর্ণা চাকমা কঠোর পরিশ্রম, মেধা ও প্রতিভার মাধ্যমে জাতীয় নারী ফুটবল দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দেশের ক্রীড়াঙ্গন ও আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে তিনি ধারাবাহিকভাবে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছেন।

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের ২০২২ ও ২০২৪ সালের সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ঋতুপর্ণা। এছাড়া ২০২৫ সালে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এএফসি উইমেন্স এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেওয়ার অভিযানে তার অবদান ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

ক্রীড়াক্ষেত্রে তার এই সাফল্য শুধু দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনেনি, বরং পার্বত্য অঞ্চলের অসংখ্য তরুণীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। একজন সংগ্রামী নারী ফুটবলারের জীবনমান উন্নয়নে গৃহনির্মাণ সহায়তার এই উদ্যোগকে ক্রীড়াঙ্গনের জন্য ইতিবাচক ও উৎসাহব্যঞ্জক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে খেলাধুলায় আরও আগ্রহী করে তুলবে এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ঋতুপর্ণা চাকমার এই সম্মাননা ও সহায়তা দেশের নারী ফুটবলের অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের আর্থিক সহযোগিতায় এই বিশেষ উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়।

ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের প্রতিভাবান যুবসমাজকে মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে এবং তাদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ঋতুপর্ণাকে দেওয়া এই উপহার তারই একটি চমৎকার দৃষ্টান্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *