নবযাত্রা প্রতিবেদন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে ঘিরে দীর্ঘদিনের জটিলতা ও আইনি প্রক্রিয়া অবশেষে কাটলো আপিল বিভাগের রায়ে। হাইকোর্টের স্থগিতাদেশকে চ্যালেঞ্জ করে করা শুনানির পর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ বুধবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই।
রায়ের পটভূমি
ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী এস এম ফরহাদের প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট মামলার পর হাইকোর্ট নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আবেদনের পর চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত রাখেন। আজ প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে সেই আদেশ বহাল রাখা হয়।
আদালতে রিটকারীর পক্ষে ব্যারিস্টার জোতির্ময় বড়ুয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে অ্যাডভোকেট শিশির মনির এবং ফরহাদের পক্ষে ব্যারিস্টার ইমরান এ সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন। আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ রায় শিক্ষার্থীদের বহু প্রতীক্ষিত নির্বাচনের পথে সব বাধা দূর করেছে।
শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা
ডাকসু নির্বাচন বাংলাদেশে শুধু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, জাতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ এক ইভেন্ট। দীর্ঘ সময় পর এই নির্বাচন হতে যাচ্ছে বলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। অনেকেই মনে করছেন, নির্বাচনের মাধ্যমে তরুণদের মতপ্রকাশ, নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে নতুন করে শক্তিশালী করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
চ্যালেঞ্জ ও প্রশ্ন
তবে নির্বাচন ঘিরে প্রশ্নও কম নয়। একদিকে প্রার্থীদের যোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক, অন্যদিকে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা আছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হয়, তবে এটি তরুণ সমাজে আস্থা ও গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদারে বড় ভূমিকা রাখবে।
গুরুত্বের জায়গা
ডাকসু নির্বাচনের ইতিহাস বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এখান থেকে উঠে আসা অনেক নেতাই পরবর্তীতে জাতীয় রাজনীতির নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাই আসন্ন নির্বাচন শুধু প্রজন্ম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণেরও সম্ভাবনা রাখে।
উপসংহার
আইনি জটিলতা কাটিয়ে ডাকসু নির্বাচনের পথ এখন উন্মুক্ত। সব পক্ষ যদি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে পারে, তবে ৯ সেপ্টেম্বরের ভোট শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশের রাজনীতির জন্যও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।