জাতীয় নির্বাচনে ফেরারি আসামিরা অযোগ্য, জামানত বেড়ে ৫০ হাজার


নবযাত্রা প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেরারি আসামিরা প্রার্থী হতে পারবেন না—এমন বিধান যোগ করে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে প্রার্থিতার জন্য জামানত ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ইসি সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, আইন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ভেটিং শেষে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

নতুন বিধানের মূল দিকগুলো:

  • আদালত কর্তৃক ফেরারি ঘোষিত কেউ প্রার্থী হতে পারবেন না।
  • মনোনয়নপত্র অনলাইনে নয়, সশরীরে রিটার্নিং অফিসার বা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে।
  • প্রার্থীদের সর্বশেষ আয়কর রিটার্ন দাখিল, দেশে-বিদেশে সম্পদের বিবরণ ও আয়ের উৎস জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
  • সরকারি চাকরিজীবী, কয়েদি ও প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হচ্ছে।
  • একক প্রার্থীর আসনে ‘না ভোট’ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। প্রার্থী হেরে গেলে পুনঃভোট হবে।
  • সমভোটের ক্ষেত্রে লটারি প্রথা বাতিল।
  • অনিয়ম হলে পুরো আসনের ভোট বাতিলের ক্ষমতা ইসিকে দেওয়া হচ্ছে।
  • ইভিএম বাদ দেওয়া হচ্ছে।
  • জোট করলেও প্রার্থীকে নিজস্ব প্রতীকে লড়তে হবে।
  • হলফনামায় মিথ্যা তথ্য প্রমাণিত হলে সংসদ সদস্যপদ বাতিল হবে।
  • আর্মি, নেভি, বিমানবাহিনী ও কোস্ট গার্ড আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় যুক্ত হচ্ছে।
  • ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে অনুদান গ্রহণের সর্বোচ্চ সীমা ২৫ লাখ টাকা নির্ধারণ।
  • পুলিশ প্রশাসনের বদলি ডিআইজি পর্যন্ত ইসির অনুমোদন সাপেক্ষে হবে।
  • দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ বা স্থগিত হলে নিবন্ধনও স্থগিত থাকবে।

ইসি কর্মকর্তাদের মতে, এসব প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণ পেরিয়ে গেলে সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে উত্থাপন করা হবে। অনুমোদন হলে অধ্যাদেশ আকারে কার্যকর হবে সংশোধিত আরপিও।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *