নবযাত্রা ডেস্ক
ভারতীয় পণ্য আওয়ামী লীগকে বর্জন করলেই জাতির মুক্তি মিলবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগই ‘সবচেয়ে বড় ভারতীয় পণ্য’, এটা বর্জন করলেই শেষ। ভোট বর্জন করে জনগণ এ সরকারকে ইতিমধ্যে বর্জন করেছে। আওয়ামী লীগ নামক পণ্যকে এখন বর্জন করলেই জাতি বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাবে।
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অন্তরে মম শহীদ জিয়া সংগঠনের উদ্যোগে ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ও আজকের বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলে এই সভার আয়োজন করে ‘অন্তরে মম শহীদ জিয়া’ নামের একটি সংগঠন।
৭ই জানুয়ারি নির্বাচন প্রসঙ্গে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আপনি তো ভেজাল লাগালেন। বললেন, সারা বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশের লোক আমাদের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র লিপ্ত হয়েছিল, ভারত যদি পাশে না থাকতো ৭ই জানুয়ারির নির্বাচন সম্পূর্ণ করতে পারতাম না। এটা তো আমাদের দলের কেউ বলেনি। এখানে কী বুঝব? আজকে সবাই পণ্য বর্জনের কথা বলছে। তাহলে ভারতের সবচেয়ে বড় পণ্য হচ্ছে আওয়ামী লীগ (সরকার), শেখ হাসিনা (প্রধানমন্ত্রী)। এই সরকারকে বর্জন করার তো করছেই- এটা ফেলে দিলেই শেষ। এই একটা পণ্য বর্জন করলেই তো জাতি মুক্ত হয়, সব পণ্য বর্জনের প্রয়োজন হয় না।
চিকিৎসাসহ নানা কারণে প্রতিদিন বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে দশ হাজার মানুষ পাসপোর্ট জমা দেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, গড়ে ৮’শ টাকা করে হলেও প্রতিদিন ৮০ কোটি টাকা লাগে এ জন্য। যদি একটা মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করে তার প্রতিদিন খরচ গড়ে ৫ হাজার টাকা। আসার সময় আবার ৫০ হাজার টাকার বাজার করেও আনে। আরও অন্যন্য খরচ। তাহলে বছরে কতটাকা বাংলাদেশ থেকে সেদেশে যায়, হিসাব করেছেন? পণ্য বর্জন কিসের বাংলাদেশের মানুষ যদি বলে, কাল থেকে ভারত যাব না, তাহলে দিল্লী বলবে, শেখ হাসিনা তোমাকে রাখতে গেলে আমরা বাঁচতে পারবো না। বাংলাদেশের মানুুষ ভারত না গেলে দেশটির অর্থনীতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?
গয়েশ্বর বলেন, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও থিংকট্যাংক তারা আগামী এক’শ বছর পর দেশের কী হবে তা নিয়ে হিসাব কষেন। সেই অনুযায়ি তারা কাজ করে। তারা দেশের মধ্যে মাতব্বরী করে না। কিন্তু আমাদের দেশের গোয়েন্দা সংস্থা-তারা আমাদের পেছনে লেগে আছে। তারা দেশের জন্য কাজ করতে পারে না। যদি পারতো তাহলে দেশে এতো চুরি ডাকাতি হত না। ৭ই জানুয়ারির ডামি, স্বামী, সমকামী নির্বাচন কারা করছে।
ভারত পাশে ছিল বলেই বাংলাদেশের নির্বাচনে বিশ্বের বড় বড় রাষ্ট্র অশুভ হস্তক্ষেপ করতে পারেনি বলে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তাঁর ওই বক্তব্য ধরেই ভারতীয় পণ্য বর্জন নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে বলে দাবি করেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
সদ্য কারামুক্ত বিএনপি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে পাশে রেখে তিনি আরও বলেন, মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের স্বীকার করতে হয়তো কষ্ট হবে- জেলখানায় যারা (বিএনপির) গেছে, ওখান পর্যন্ত তারা (গোয়েন্দা সংস্থার লোক) গেছে। হয় কাউকে কাতুকুতু দিছে, আকার ইঙ্গিতে ভয় দেখাইছে, লোভ দেখাইছে। শাহজাহান ওমর বীরউত্তম তো কাতুকুতু দেয়ার আগেই কাত হয়ে পড়েছে। মুক্তিযুদ্ধের একজন বীরউত্তম, তার আর কিছু লাগে?
জিয়াউর রহমান যদি স্বাধীনতার ঘোষণার পাঠক হন, তাহলে লেখক কোথায়, সেই কাগজটি কোথায়—এ প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানই স্বাধীনতাযুদ্ধের সরাসরি আহ্বান জানিয়েছিলেন দাবি করে তিনি বলেন, ‘বড় বড় টুর্নামেন্টে যেমন সময়, স্থান, খেলোয়াড় দর্শক সব থাকে, কিন্তু রেফারি বা আম্পায়ার বাঁশি না দেওয়া পর্যন্ত খেলা শুরু হয় না। তেমনি শেখ মুজিবুর রহমান সংগ্রামের টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছেন, সবাই বাঁশের লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যার যা ছিল তাই নিয়েই দাঁড়িয়ে ছিল। মানুষের এই চেতনাবোধকে জিয়াউর রহমান অনুভব করতে পেরেছেন, বুকে সাহস নিয়ে ঘোষণা দিয়ে দিয়েছেন। জিয়াউর রহমানই সরাসরি স্বাধীনতাযুদ্ধের আহ্বান জানিয়ে ছিলেন। আজকে জিয়াউর রহমানকে ছোট করে শেখ মুজিবকে বড় করতে পারবেন না।’
জিয়াউর রহমানকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তাদের (বিএনপি) কোনো প্রচেষ্টার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেন গয়েশ্বর চন্দ্র। তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান নিজেই নিজের কর্মগুণে প্রতিষ্ঠিত জাতির অন্তরে, ইতিহাসে। জিয়াউর রহমানকে ছাড়া বাংলাদেশের ইতিহাস লেখা কখনোই সম্ভব নয়। আজকের ইতিহাস কখনোই পরিপূর্ণ ইতিহাস নয়।’
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘জিয়াউর রহমান যখন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রিভোল্ট (বিদ্রোহ) ঘোষণা করলেন, তখন তিনি মাঝারি ধরনের কর্মকর্তা, মেজর। কতটুকু সাহস থাকলে একজন মেজর একটি রেগুলার আর্মির বিরুদ্ধে, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রিভোল্ট ঘোষণা করলেন। সেটা বোঝার মতো ক্ষমতা আওয়ামী লীগের কারও নেই। এই ধরনের সাহস আওয়ামী লীগের কোনো নেতার নেই। আওয়ামী লীগের সাহস আসে ক্ষমতায় থাকলে। আর যখন ক্ষমতায় থাকে না, তখন কী অবস্থা তা বলার মতো না।’
শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে আপত্তি নেই উল্লেখ করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘তিনি (শেখ মুজিবুর রহমান) তখন বলেছেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। আমি কথাটার সঙ্গে এখনো একমত। কারণ, আমাদের মুক্তি-স্বাধীনতার সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি। আমরা সেই মুক্তির সংগ্রাম এখনো করছি। আমরা মুক্ত নই। খালেদা জিয়া বন্দী আছেন, শুধু তাঁকে নয়, পুরো দেশ-জাতিকে আমরা মুক্ত করতে চাই একটি রাহুর গ্রাসের কবল থেকে।’
আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা ঢালী আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাছের মো. রহমতুল্লাহ, রফিক সিকদার, সাবেক যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর হাওলাদার, জাতীয়তাবাদী তাঁতি দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহবায়ক কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ।