পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনের পর বন্দরনগরী চট্টগ্রাম এখনও তার চিরচেনা রূপে ফিরে আসেনি। অধিকাংশ মানুষ নাড়ির টানে গ্রামের বাড়িতে থাকায় বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের রাস্তাঘাট ও অলিগলি এখনও অনেকটাই ফাঁকা। ঈদের ছুটির এই আমেজ সরাসরি প্রভাব ফেলেছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী কাঁচাবাজারগুলোতে। নগরীর বহদ্দারহাট, চকবাজার এবং কাজির দেউড়িসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অর্ধেকেরও বেশি দোকান এখনও খোলেনি।
ব্যবসায়ীদের বড় একটি অংশ ঈদ উদযাপন করতে চট্টগ্রামের বাইরে (বিভিন্ন উপজেলায় ও দেশের অন্যান্য জেলায়) থাকায় বাজারের এই সুনসান নীরবতা। আর যারা দোকান খুলে বসেছেন, তাদেরও অলস সময় পার করতে হচ্ছে।
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ঈদের পর বাজারে একদমই কাস্টমার নেই। সাধারণ মানুষ শহরমুখী না হলে বাজার জমবে না। দিনে যে দুই-চারজন আসছেন, তারাও খুবই অল্প পরিমাণে কেনাকাটা করছেন। বেচাবিক্রি না থাকায় ব্যবসায়ীদের শুধু বসে থাকতে হচ্ছে।
ক্রেতাশূন্য থাকলেও বাজারে সবজির দাম কিন্তু বেশ চড়া। সরবরাহ কম থাকার অজুহাতে অনেক সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
নগরীর বহদ্দারহাট ও চকবাজারের খুচরা বাজারগুলোতে আজ প্রতি কেজি বেগুন আশি থেকে একশ টাকা, করলা সত্তর থেকে আশি টাকা, পটল ও ঢেঁড়স ষাট থেকে আশি টাকা এবং বরবটি একশ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া কাজির দেউড়ির মতো অভিজাত এলাকার বাজারে টমেটো একশ টাকা ও কাঁচা মরিচ একশ বিশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, ঈদের কারণে দূর-দূরান্তের জেলা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকে পণ্যবাহী যানবাহন চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ বা রিয়াজউদ্দিন বাজারের আড়তগুলোতে কম আসছে। পাইকারি বাজারে মালের সংকট থাকায় দাম বেশি, যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। তবে সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, ক্রেতা কম থাকার পরেও সিন্ডিকেট করে এবং সরবরাহ সংকটের উছিলা দিয়ে বিক্রেতারা দাম বাড়িয়ে রাখছেন।
অন্যদিকে ঈদের পর সবচেয়ে বেশি ক্রেতাশূন্য অবস্থা দেখা গেছে মাছ ও মাংসের বাজারে। কোরবানি ঈদের কারণে ঘরে ঘরে মাংসের পর্যাপ্ত মজুত থাকায় বহদ্দারহাট বা চকবাজারের ব্রয়লার বা গরুর মাংসের দোকানে তেমন কোনো ভিড় নেই। বাজারে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম ঈদের আগের তুলনায় সামান্য কমলেও ক্রেতার দেখা মিলছে না বললেই চলে।
তাছাড়া ফিশারি ঘাট থেকে বাজারে সরবরাহ কম থাকায় ইলিশ, রুই, কাতলা কিংবা চাষের পাঙাশ-তেলাপিয়া সব ধরনের মাছই ঈদের আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, আগামী সপ্তাহের শুরুতে অফিস-আদালত পুরোদমে চালু হলে এবং সাধারণ মানুষ গ্রাম থেকে চট্টগ্রামে ফিরতে শুরু করলে বাজারের পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক গতিতে ফিরবে।
মুন্নি
