নবযাত্রা প্রতিবেদক
আজ ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস। দুর্নীতির বিরুদ্ধে বৈশ্বিক লড়াইকে এগিয়ে নিতে ২০০৩ সালে জাতিসংঘ এই দিনটিকে বিশেষ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকেই বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশ এ দিন নানা আয়োজনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা জোরদার করে আসছে।
জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশন (UNCAC)–এর সদস্য দেশ হিসেবে বাংলাদেশও প্রতি বছরের মতো এবারও দিবসটি পালন করছে। চলতি বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “তারুণ্যের ঐক্য, দুর্নীতিমুক্ত ভবিষ্যৎ”।
দিবসটিকে কেন্দ্র করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দেশজুড়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করেছে। সকালে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, জাতীয় পতাকা ও দুদকের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর রাজধানীতে মানববন্ধন ও দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকার পাঠ অনুষ্ঠিত হয়।
সকালেই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হবে প্রধান আলোচনা সভা। অনুষ্ঠানে বক্তারা দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, স্বচ্ছতা এবং নাগরিক অংশগ্রহণের গুরুত্ব নিয়ে মত বিনিময় করেন। অর্থনৈতিক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশেষজ্ঞরাও আলোচনায় করেন।
রাজধানীর পাশাপাশি দেশের আট বিভাগ, ৬৪ জেলা ও প্রায় পাঁচশো উপজেলায় সরকারি–বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে র্যালি, সেমিনার, বিতর্ক, তরুণদের অংশগ্রহণমূলক কর্মসূচি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতামূলক আলোচনা ও প্রচার কার্যক্রম চলে।
অন্যদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আজকে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে, যেখানে কর্তৃত্ববাদ-পরবর্তী বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও তার স্বচ্ছতা নিয়ে বিশেষ সেশন অনুষ্ঠিত হবে।
জাতিসংঘের ঘোষণার পর থেকে বিশ্বব্যাপী দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের প্রচেষ্টা আরও শক্তিশালী হয়েছে। বাংলাদেশ ২০০৭ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি পালন শুরু করলেও সরকারি উদ্যোগে পালিত হচ্ছে ২০১৭ সাল থেকে।
সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবসকে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখে সংশ্লিষ্ট সব মহল।