তৌফিক এবং শান্তর নামে চুয়েটে
কোনো সড়কের নামকরণ কিংবা
কোনো স্থাপনা তৈরি অনুরোধ
তাদের বাবাদের।
নবযাত্রা প্রতিবেদক
‘পিতার কাঁধে সন্তাদের লাশ’। পৃথিবীতে এরচেয়ে ভারী মনে হয় আর কিছুই নেই। যেই সন্তানের জন্য বাবা-মা অকাতরে জীবন বিলিয়ে দেন, সেই বাবা-মায়ের সামনেই সন্তানের লাশ! এমন দৃশ্যই হয়তো পৃথিবীর সবচেয়ে কষ্টদায়ক। তাইতো পুত্র শোক সইতে না পেরে অঝোরে কাঁদলেন সড়ক দুর্ঘটনায় সন্তানহারা চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) দুই শিক্ষার্থীর বাবা।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত চুয়েটের দুই ছাত্রের পরিবারকে চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এমন করুণ মুহুর্তের সৃষ্টি হয়। এসময় ছেলের কথা বলতে গিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলেন দুই বাবা। কোনো ভাবেই যেন তারা মেনে নিতে পারছিলেন না তাদের সমস্ত আশার বাতিঘর আর নেই।
শিক্ষার্থী শান্ত সাহার বাবা কাজল সাহা কথা বলার আগেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। কিছুক্ষণ থেকে আবার বলতে শুরু করেন, শান্ত আমার তৃতীয় সন্তান। আমার সন্তান নেই এটি এখনো মেনে নিতে পারি না। আমাদের খুব আশা ছিল তাকে ঘ্রীরে। কিন্তু হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে আমার পরিবার একেবারে ভেঙে পড়েছে। আজ সন্তান হারানোর জন্য টাকা পাচ্ছি। সন্তানের শোক কি আর কখনো টাকা দিয়ে পরিমাপ করা যায়। তবুও সৃষ্টিকর্তার সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নিয়েছি। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে সক্রিয় ছিল আমার ছেলে। আজ সেই সড়কে লাশ হয়ে গেল সে।
বক্তব্য দিতে গিয়ে একই অবস্থা নিহত আরেক শিক্ষার্থী তাওফিক হোসেনের বাবা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনের। তিনিও কথা বলার শুরুতেই কেঁদে বুক ভাসান। কথা বলতে গিয়ে বার বার থমকে যান। কান্না জড়িত কণ্ঠে নিহত তাওফিকের বাবা বলেন, মর্মান্তিক সেদিনের কথা ভুলতে পারছিলেন না। কিছু বলার ভাষা আমার নেই। একজন সন্তানহারা পিতা আমি। সে আমার বড় সন্তান। আমার খুব আদরের সন্তান তাওফিক। তার কোনো দাবি অপূর্ণ রাখিনি। যখন যা চেয়েছে নিজের সাধ্যের মধ্যে সবকিছুই দিয়েছি। এখন মনের মধ্যে সবসময় একটা শূন্যতা কাজ করে। এসময় দুই বাবা বলেন, আমরাতো আর ছেলেকে ফিরে পাবো না। কিন্তু আমাদের একটা ইচ্ছে তৌফিক এবং শান্তর নামে চুয়েটে যে কোনো সড়কের নামকরণ কিংবা কোনো স্থাপনা তৈরি করা হয়। এ অনুরোধ রাখছি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে। তাহলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব। ছেলেদের নামে নামকরণ করা হলে যখনই ছেলের কথা মনে পড়বে সেখানে দেখতে আসতে পারবো। এটুকুই আমাদের সান্তনা।
এসময় এমন পরিস্থিতিতে সার্বক্ষণিক খবরাখবর রাখায় দু’বাবাই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসকের কাছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, নিহত দুই শিক্ষার্থী শান্ত সাহা ও তাওফিক হোসেনের নামে এ সড়কের নামকরণ করা যায় কি না আমরা সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগকে প্রস্তাবনা পাঠাবো।