প্রথম রোজায় নিম্নমুখী পণ্যের দাম

অভিযান অব্যাহত রাখলে রোজায় পণ্যের দাম নাগালে ফিরবে – অভিমত ক্রেতাদের।

পণ্যের দাম বাড়ায় বিক্রি কমেছে দোকানে দোকানে, ভুগছেন ব্যবসায়ীরা – অভিমত বিক্রেতাদের।

নবযাত্রা প্রতিবেদক
রোজার কয়েক দিন আগে থেকে লাগামহীন হয়ে উঠেছিল মুরগিসহ সব পণ্যের বাজার। পণ্যের এমন দামে নাভিশ্বাস বেড়েছে সব শ্রেণী- পেশার মানুষের। কিন্তু প্রথম রোজার ইফতারের আগেই কমতে শুরু করেছে ব্রয়লার মুরগিসহ শসা, গাজর, বেগুন, লেবুসহ বিভিন্ন সবজির দাম। তবে বিপরীতে বেড়েছে ডিমের দাম। ১৩৫ টাকা ডজন থেকে বেড়ে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়।
গতকাল নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে আরো দেখা যায়, একদিনের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ১০ টাকা কমে প্রতি কেজি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকায়। আবার অলিগলির যেসব দোকানে ২৬০ টাকার উপরে বিক্রি হয়েছিল সেসব দোকানেও ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে লেয়ার ও সোনালী মুরগির দাম।
এদিকে, একদিন আগে ৭০- ৮০ টাকা কেজি দরের শসার দাম কমে গতকাল প্রথম রোজার ইফতারের আগেই বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। একইভাবে প্রতিকেজি গাজর দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। এছাড়া দাম কমেছে বিভিন্ন সবজির।
পণ্যের দাম কমার বিষয়ে ক্রেতারা বলেন, কিছু কিছু বাজারে অভিযান চলায় পণ্যের দাম কিছুটা কমেছে। এভাবে অভিযান অব্যাহত রাখলে এ রোজায় সাধারণ মানুষ খেতে পাবে। তা না হলে যেভাবে পণ্যের দাম বেড়েছে এমনও অনেক পরিবার আছে যারা পেট ভরে খেতে পাবে না। তারা লজ্জায় কারো কাছে বলতে এবং হাত পাততেও পারবে না।
বাজারের উর্ধ্বমুখী দামের বিষয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ব্যবসায়ীরা বলছেন, রোজার এ সময়গুলোতে বিক্রির জন্য দাঁড়াতে পারতাম না। এতো বিক্রি হত যে রোজার মাসকে কেন্দ্র করে দু’তিন জন বাড়টি কর্মচারিও রাখতে হত। কিন্তু পণ্যের দাম বাড়ায় যে শুধু ক্রেতারাই ভোগান্তিতে পড়েছে তা নয়, আমাদেরও বেচাবিক্রি কমে গেছে। এছাড়াও দোকানে পণ্য তুলতে হচ্ছে চড়া দামে। ব্যবসায়ীরা লোন নিয়ে দোকানে পণ্য তুলছেন। কিন্তু সে হিসেবে বিক্রি হচ্ছে না।
দুই নম্বর গেট কর্ণফুলী কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন বলেন, পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বেচা বিক্রি কম হচ্ছে। আগে যেভাবে রোজাকে উপলক্ষ করে আলাদা একটা বাজার করতো মানুষ সেটা এখন হচ্ছে না। ক্রেতারা কোনো মতে অল্প পরিমাণে কিছু পণ্য কিনে ঘরে ফিরছেন। সবারই বাজেট প্রায় দ্বিগুণ কমে গেছে। এতে আমাদেরও কম ভোগান্তি হচ্ছে না। এদিকে ম্যাজিস্ট্রেটের ভয় তো আছেই। আমরা পণ্য বেশি দামে কেনার কারণে বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। কেউ তো আর লোকসান দিয়ে ব্যবসা করে না। মাঝখানে প্রসাশনের হয়রানির শিকারও হচ্ছি আমরা। অথচ উপর মহলে যারা আছে সেই বড় বড় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করেই পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। সেদিকে প্রসাশনের কোনো নজর নেই। মূলেই যদি সমস্যা সমাধান করা যায় তবে খুচরা বাজারে স্বস্তি ফিরবে।
বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারে গতকাল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। যা এক দিন আগে বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকায়। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকায়। মরিচ কেজিতে ২০ টাকা দাম কমেছে। এছাড়া এক পিস লেবু দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ১০-১৫ টাকায়। যা একদিন আগে প্রতি পিস লেবু বিক্রি হয়েছে ২০-২৫ টাকা দরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *