নবযাত্রা ডেস্ক
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নগর ভবন সংলগ্ন টাইগারপাস এলাকার বিন্না ঘাস শেডে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মাসব্যাপী বৃক্ষ পরিচর্যা কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং একটি বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে ব্যাপক সবুজায়নের কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম নগরীতে ১০ লাখ গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র বলেন, “গাছ আমাদের পরম বন্ধু। গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়, ফল দেয়, কাঠ দেয়, ওষুধ দেয় এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু আমরা গাছ থেকে শুধু নিতে জানি, গাছের পরিচর্যা করতে চাই না। বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি গাছের নিয়মিত পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি বলেন, করোনা মহামারির সময় মানুষ অক্সিজেনের গুরুত্ব নতুনভাবে উপলব্ধি করেছে। গাছ আমাদের জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে পরিবেশকে সুস্থ রাখে। তাই পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।
মেয়র আরও বলেন, “জাতীয় পর্যায়েও ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের ঘোষণা দিয়েছেন। এটি একটি দূরদর্শী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। দেশের প্রতিটি নাগরিক যদি বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় এগিয়ে আসে, তাহলে একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।”
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “আমরা একটি ক্লিন, গ্রিন, হেলদি অ্যান্ড সেফ সিটি গড়ে তুলতে চাই। নগরীর কালুরঘাট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সব মিড-আইল্যান্ডকে ফুল ও সবুজে ভরিয়ে তোলা হবে। সড়কের সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন খালি জায়গা, পার্ক ও উন্মুক্ত স্থানে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করা হবে।”
তিনি পরিচ্ছন্নতা ও উদ্যান বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, নগরীর সৌন্দর্য অনেকাংশে তাঁদের শ্রম ও আন্তরিকতার ওপর নির্ভর করে। পরিকল্পিতভাবে ফুল, ফল ও ঔষধি গাছ রোপণের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে আরও দৃষ্টিনন্দন ও পরিবেশবান্ধব নগরীতে পরিণত করা সম্ভব।
মেয়র বলেন, “চট্টগ্রাম প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরপুর একটি নগরী। এখানে সমুদ্র, পাহাড়, নদী, খাল, উপত্যকা ও জলাশয় রয়েছে। আল্লাহ আমাদের অনেক সম্পদ দিয়েছেন। কিন্তু এসব সম্পদের যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণ করতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
তিনি কর্ণফুলী ও হালদা নদীসহ নগরীর খাল ও জলাশয় রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যত্রতত্র প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বর্জ্য শেষ পর্যন্ত খাল-নদীতে গিয়ে জমা হয় এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে।
বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, জিকা ভাইরাসসহ মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করে মেয়র বলেন, “নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজ উদ্যোগে আঙ্গিনা ও আশপাশ পরিষ্কার করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই আমরা ডেঙ্গুমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর নগরী গড়ে তুলতে পারব।”
প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “প্রকৃতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করলে প্রকৃতিও তার প্রতিক্রিয়া দেখাবে। তাই পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন নিশ্চিত করতে হবে।”
বক্তব্যের শেষাংশে মেয়র ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে গাছের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, গাছেরও জীবন আছে এবং বৃক্ষরোপণ একটি মহৎ ও সওয়াবের কাজ। একটি গাছ যতদিন বেঁচে থাকে, ততদিন মানুষ ও পরিবেশের উপকার করে। তাই প্রত্যেক নাগরিককে বেশি বেশি গাছ রোপণ এবং তার পরিচর্যায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মাসব্যাপী বৃক্ষ পরিচর্যা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নগরীর বিভিন্ন জোনে পর্যায়ক্রমে বৃক্ষরোপণ, পরিচর্যা ও সবুজায়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
এই সময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা সহ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।