ঈদ কেনাকাটায় জমজমাট অভিজাত এলাকার শপিংমল খুলশি টাউন সেন্টার

অভিজাতদের শপিংমলে
রয়েছে সব শ্রেণির পণ্য

খুলশি টাউন সেন্টারে প্রথম পুরস্কার
মোটরসাইকেল। প্রতি সপ্তাহে রয়েছে
এলইডি টিভিসহ আকর্ষণীয় ১০ পুরস্কার।

নিজস্ব প্রতিবেদক

শপিংমলের ভেতরে ঢুকতেই চোখ পড়ে লাল ফিতায় বাধাঁ সাজানো লাল রঙ্গের ‘নাইট রাইডার’ মোটরসাইকেলের দিকে। তার সামনেই রাখা আছে কুপন বক্স। সেখানে লেখা আছে ‘ড্র হবে প্রতিদিন। জিতে নিন মোটরসাইকেল, টিভিসহ আকর্ষণীয় পুরস্কার।’ এভাবেই ক্রেতা আকর্ষণ করছেন নগরীর অভিজাত এলাকা জাকির হোসেন রোডস্থ খুলশিতে অবস্থিক শপিংমল ‘খুলশি টাইন সেন্টার’।

ঈদকে কেন্দ্র করে বেশ জমে উঠেছে প্রায় সারাবছর নীরব থাকা শপিংমলটিও। প্রতিটি দোকানেই বেড়েছে বেচাকেনা। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে মার্কেটের কিছু কিছু ব্যবসায়ী দিয়েছেন বিশেষ মূল্য ছাড়। সেই সুযোগে জমপেশ কেনাকাটা সারছেন ক্রেতারা।

মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, মার্কেটটি শপিংমল কেন্দ্রিক ব্যস্ত জায়গাগুলো থেকে অনেকটাই আলাদা। একারণে মানুষের আনাগোনা নেই বললেই চলে। এতে সারাবছর প্রায় ক্রেতা শূণ্য থাকে। আবার এটি খুলশির মত অভিজাত এলাকায় হওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা মনে করে এ মার্কেটে জিনিসের দাম বেশি। আসলে তা মোটেই নয়। বরং উন্নত মানের দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডে যেকোনো পণ্য স্বল্প লাভে বিক্রি করে ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে শপিংমলটি ঘুরে দেখা যায়, মার্কেটের নিচ তলায় রয়েছে ছেলে-মেয়েদের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পোশাকআশাক, আতর পারফিউম, জুতা, ব্যাগসহ কিছু কসমেটিকের দোকান। এ দোকানগুলোতে তরুণ-তরুণীরা ঘুরে কিনছেন তাদের পছন্দের ঈদ কালেকশন।

এখানে ‘গুডিজ ডিল. কম’ নামের কসমেটিকের দোকানে আইসেড, ফাউন্ডেশন কিনছেন আলিফ। তিনি বলেন, এখানে বাইরের কসমেটিকের ভালো কালেকশন আছে। সেগুলো কিনলাস। দামও বেশ ভালো এছাড়া কোনো ভীড় না থাকায় কেনাকাটা করতে খুব স্বাচ্ছন্দবোধ করছি।

গেটের পাশেই ‘আল হারামাইন’ পারফিউমের আউটলেট। যদিও এখানে কোনো ক্রেতাই ছিল না সে সময়। স্টলের বিক্রয় কর্মী নারগীস আক্তার বলেন, ইফতারের পরপর হওয়ায় এখনো কাস্টমার আসেনি। একটু পরেই কাস্টমারের ভীড় বাড়বে। তিনি বলেন, এখানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বাইরে নামিদামি ব্র্যান্ডের পারফিউম আছে। এ পারফিউম এবং আতরগুলো ১ হাজার ৭৫০ থেকে ৩৯ হাজার ৮৫০ টাকা দামের পর্যন্ত আছে। জানা যায়, ৩৯ হাজার ৮৫০ টাকা দামের আতরটির নাম ‘শেইক আতর’। তবে মাঝারি দামের আতরগুলোই বেশি বিক্রি হচ্ছে।

দ্বিতীয় তলায় উঠতেই চোখে পড়ে বড় বড় অক্ষরে লেখা ‘বনহমি’ স্টলে শাড়িতে চলছে বিশেষ ছাড়। সেখানে আরহী খান একটি পাথরে কাজ করা ইন্ডিয়ান শাড়ি কিনেন। তিনি বলেন, ১৫ শতাংশ ছাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় একটা শাড়ি কিনেছি।

এর বিপরীত পাশেই চোখ পড়ে ‘ওয়েসিস আউটফিট’র দিকে। ভেতরে ঢুকার জায়গাই পাওয়া যাচ্ছে না কাস্টমারের ভীড়ে। বিক্রয় কর্মী নিশাত বলেন, আমাদের এখানে বিভিন্ন শ্রেণির ক্রেতাদের চাহিদা মত পোশাক আছে। প্রতিটি পোশাক অন্যান্য মার্কেটের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হয়। কারণ মালিকের ইচ্ছে অল্প লাভে বেশি বিক্রি। এছাড়া কোনো ক্রেতা যদি পোশাক কেনার পরে তাদের পছন্দ না হয় তবে তারা চাইলেই সেটি আবার ফেরত দিতে পারে। আমাদের এখানে যে ক্রেতা একবার  এসেছে সে বারবারই আসে।

ওয়েসিস আউটফিটের অনার খালেদ রায়হান বলেন, মানুষ মনে করে এ মার্কেটে পণ্যের দাম বেশি। আসলে তা নয়। আমরা স্বল্প মূল্যে ভালো মানের পণ্য সেল করি। ক্রেতাদের বলবো আপনারা আসেন দেখেন তারপর অন্য মার্কেটের সাথে তুলনা করেন। এরপর না হয় কিনবেন। আমাদের এখানে কোনো ক্রেতা একবার আসলে তারা বারবার আসে এমন অভিজ্ঞতা আছে। সামনে ঈদ ছাড়াও ক্রেতাদের সমাগম হবে বলে আশা করছি।

তৃতীয় তলায় বেশিরভাগ মোবাইল ও ইলেক্ট্রনিক পণ্যের সমাহার। যদিও এখানের বিক্রেতারা অলস সময় কাটাচ্ছেন।

তবে আশপাশে রয়েছে ছেলেদের পোশাক ও পাঞ্জাবির স্টল। সেগুলোতে চলছে কেনাকাটা। বিশেষ করে ক্রেতাদের সমাগম বেশি ‘খাদি ঘর’ আউটলেটে। এখানে শপিং করতে আসেন আয়েশা সিদ্দিকা ও নাজমুল ইসলাম। তারা বলেন, শপিং করতে করতে ইফতারের সময় হয়ে যায়। তাই মার্কেটের চার তলার রেস্টুরেন্টে ইফতার সেরে নিলাম স্বামী-স্ত্রী দু’জনে। এখন খাদি ঘরে আসলাম বাবা, শ্বশুর ও ছেলে আনাফ ও  আমার জন্য। এখানের কাপড়গুলো খুবই আরামদায়ক। তাই এখানেই আসি।

খাদি ঘরের বিক্রয়কর্মী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, এখানে ১২শ’ থেকে ৪ হাজার টাকা দামের পাঞ্জাবি আছে। ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় খাদির পোশাকগুলো রয়েছে।

কনকর্ড খুলশি টাউন সেন্টারের সভাপতি সৈয়দ জালাল আহমেদ রুম্মান বলেন, ৫শ’ টাকার কেনাকাটা করলেই ড্র’তে অংশগ্রহণ করতে পারবে। প্রতি সপ্তাহে রয়েছে আকর্ষণীয় পুরস্কার। এসব পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে এলইডি টেলিভিশন, ডিনারসেট, রাইস কুকার, প্রেসার কুকার, ওভেনসহ ১০টি আকর্ষণীয় পণ্য। এছাড়াও মাসব্যাপী কেনাকাটার উপর রয়েছে প্রথম পুরস্কার একটি মোটর সাইকেল। ক্রেতাদের নিরাপত্তায় আমরা পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছি। এখানের কাস্টমার প্রায় সবই এ এলাকার এবং বিদেশী নাগরিক। তবে ক্রেতারা আসলেই বুঝতে পারবে এখানে সব শ্রেণীর মানুষের স্বাদের মধ্যেই কেনাকাটার ব্যবস্থা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *