এমপি পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, আসন শূন্য ঘোষণা

নবযাত্রা ডেস্ক

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের পর তার সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের লেজিসলেটিভ সাপোর্ট উইংয়ের আইন প্রণয়ন শাখা-২ থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পদত্যাগ করায় জাতীয় সংসদের ৩২৩ নম্বর আসন (মহিলা আসন-২৩) বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একই তারিখ থেকে শূন্য হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া স্বাক্ষর করেন। আসনটি শূন্য হওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়সহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে বিজ্ঞপ্তির অনুলিপিও পাঠানো হয়েছে।

সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ১৭৭ বিধি অনুযায়ী, কোনও সংসদ সদস্য পদত্যাগ করতে চাইলে স্পিকারকে উদ্দেশ করে নিজ স্বাক্ষরে লিখিতভাবে তা জানাতে হয়। পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে পৌঁছানোর পর সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদত্যাগ কার্যকর এবং সংশ্লিষ্ট আসন শূন্য হয়। ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদ সচিবালয় তাঁর আসন শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশের পর এমপি পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।

এর আগে আজ বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পদত্যাগপত্র জমা দেন ফেরদৌসী আহমেদ। স্পিকারকে দেওয়া পদত্যাগপত্রে ফেরদৌসী আহমেদ লিখেছেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আমি ফেরদৌসী আহমেদ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য (সংরক্ষিত মহিলা আসন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমি সম্পূর্ণ সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায় জাতীয় সংসদের সদস্য (সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৩) পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। অতএব, বিনীত প্রর্থনা এই যে আমার পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করে পদত্যাগ কার্যকর করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আপনার সদয় মর্জি হয়।’ এর বাইরে পদত্যাগপত্রে আর কিছু লেখেননি ফেরদৌসী আহমেদ।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর দিনগত রাতে রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার (মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র) গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার পর মিষ্টির পদত্যাগের সম্ভাবনার বিষয়টি সামনে এসেছে। ওইদিন মধ্যরাতে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সরকারি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। গতকাল রাতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ওই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। কমিটি বিলুপ্তির পরপরই তার দল ও সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

এদিকে স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকেরা ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের বিষয়ে প্রশ্ন করেন। তবে এর কোনো স্পষ্ট উত্তর তিনি দেননি। অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি স্পিকারের সঙ্গে কথা বলতে এসেছি, কথা বলেছি।’

এর আগে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত‍্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

উল্লেখ্য, গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার (মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র) গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। কয়েক ঘণ্টা ধরে ভাঙচুর, লুটপাটের পর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে সাইনবোর্ড ও ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামটি আলোচনায় আসে।

বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতা সমিতির কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিযোগ ওঠে। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হানিফ মিয়া, মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব মোস্তফা জগলুল পাশা ওই সমিতির সাধারণ সদস্য। ব্যবস্থাপনা কমিটি থাকলেও তারাই মূলত সব কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করেন। তারা বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত।

২০০৬ সালে শাহ আলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার ছিলেন ফেরদৌসী আহমেদ। কমিশনার থাকাকালীন ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’- এর সভাপতিও ছিলেন। তবে এখন আর সমিতির সঙ্গে যুক্ত নন বলে গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন তিনি।

এদিকে এর আগে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি ও যুবদল এবং মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার সংশ্লিষ্ট দল ও সংগঠনের পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মো. আমিনুল ইসলামকে আহ্বায়ক ও মো. মোস্তফা জামানকে সদস্যসচিব করে গঠিত ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বিদ্যমান ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *