দুর্ভোগে ক্লান্ত উত্তর আগ্রাবাদে বদলের প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাঠে কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা
মরিয়ম জাহান মুন্নি
সরু রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বারবার থমকে দাঁড়াতে হয়। একটি রিকশা বা সিএনজি অটোরিকশা এলে আরেকটি যান পাশ কাটিয়ে যেতে হিমশিম খায়। কোথাও কোথাও এতটাই সংকীর্ণ রাস্তা যে দুই পাশের মানুষের গা ঘেঁষেই চলতে হয়। সকাল থেকে রাত—প্রায় সবসময়ই ছোট ছোট যানজটে আটকে থাকে পুরো এলাকা।
চট্টগ্রাম নগরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ড উত্তর আগ্রাবাদ ঘুরে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে অব্যবস্থাপনা আর বঞ্চনার চিত্র। পুরো এলাকায় শিশুদের জন্য নেই একটি খেলার মাঠ। নিরাপদ স্যানিটেশন ব্যবস্থারও ঘাটতি রয়েছে বহু জায়গায়। কোথাও কোথাও খোলা স্থানে ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায় মানববর্জ্য। সেই নোংরা পরিবেশেই বসবাস করছেন শিশু ও সাধারণ মানুষ।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ এই ওয়ার্ডটি যেন একসঙ্গে বহন করছে সম্ভাবনা ও সংকট। একদিকে আগ্রাবাদ এক্সেস রোড ঘিরে নগরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা, অন্যদিকে বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতা, ভাঙাচোরা রাস্তা, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ বাসিন্দারা। দীর্ঘদিনের সেই দুর্ভোগের মাঝেই এবার কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা দেখাচ্ছেন পরিবর্তনের স্বপ্ন।
ডবলমুরিং থানার অধীন প্রায় ৪ দশমিক ৬৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই ওয়ার্ডে এক লাখের বেশি মানুষের বসবাস। পিটিঅ্যান্ডটি কলোনি, সিডিএ আবাসিক এলাকা, গুলবাগ, শান্তিবাগ ও আশকারাবাদসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের আবাস এখানে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ২৩ হাজার মানুষের বসবাস এই এলাকায়।
কিন্তু জনসংখ্যার এই চাপের বিপরীতে নাগরিক সুবিধা বাড়েনি সেই অর্থে। একটু ভারী বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যায় সড়ক। জোয়ারের পানিতে নিচু এলাকা ডুবে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ড্রেন ও নালায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ওয়াসার স্যুয়ারেজ প্রকল্পের খোঁড়াখুঁড়িতে বহু সড়ক দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে দুর্ভোগ যেন এখানকার মানুষের নিত্যসঙ্গী।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও উদ্বেগের বড় কারণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই ও চুরির ঘটনা বেড়েছে। অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে সমস্যাগুলো আরও প্রকট হয়েছে।
এমন বাস্তবতায় সম্ভাব্য কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা নিজেদের পরিকল্পনার পাশাপাশি তুলে ধরছেন রাজনৈতিক জীবনের সংগ্রাম আর ত্যাগের কথাও।
চট্টগ্রাম মহানগর শ্রমিক দলের ডবলমুরিং থানা শাখার সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মিয়াজি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মামলা-হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বহুবার।
তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কত মামলা-হামলার শিকার হয়েছি, বলে শেষ করা যাবে না। এখন বয়স হয়েছে। রাতে ঘুমাতে গেলে সেই ব্যথাগুলো খুব ভোগায়। শরীরজুড়ে ব্যথা করে। তবুও দুঃখ নেই। কারণ আমরা যারা স্বার্থের জন্য নয়, দলকে ভালোবেসে রাজনীতি করেছি, দলের দুর্দিনেও দল ছাড়িনি, তারাই জানি দলকে ক্ষমতায় দেখতে কেমন লাগে।”
নজরুল ইসলাম বলেন, “আমি কাউন্সিলর নির্বাচন করতে চাই মূলত জনগণের সেবা করার জন্য। আমাদের মতো রাজনীতিবিদদের আর কিছু চাওয়ার নেই। কিন্তু এই ওয়ার্ড দীর্ঘদিন অবহেলিত। শিশুদের একটি খেলার মাঠ নেই, বয়স্কদের বসার পার্ক নেই। সরু রাস্তাগুলোর কারণে কোথাও আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢুকতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, “এত বড় জনবহুল ওয়ার্ডে একটি লাশ গোসলের ঘর নেই, কবরস্থান নেই। মানুষ মারা গেলে রাস্তায় জানাজা পড়াতে হয়। নির্বাচিত হলে এসব সমস্যার সমাধান করবো। এখানে কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্যও বেশি, সেটি নিয়েও কাজ করবো।”
রাজনৈতিক নির্যাতনের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অত্যাচারের কারণে আমাকে আত্মগোপন করতে সিলেটের মৌলভীবাজারে আত্মীয়ের বাড়িতে থাকতে হয়েছিল। সেখানে একটি সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কার্যক্রম দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম। রাতের মধ্যেই তারা পুরো ওয়ার্ড পরিষ্কার করে ফেলত। সকালে ঝকঝকে পরিবেশ দেখা যেত। আমি চাই, পাঁচ বছর পর আমার ওয়ার্ডও সেভাবে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর হোক।”

২৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এস এম ফরিদুল আলম বলেন, “রাজনীতি করি ভালোবাসা থেকে। এর মাধ্যমেই সমাজ ও রাষ্ট্রের মানুষের জন্য কাজ করা যায়। দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় থেকেই নির্যাতিত। এসময়ও মানুষের জন্য কাজ করেছি। সামনেতো কোনো বাধা নেই, তাই মন থেকে কাজ করবো আমারই মত নিপিড়িক মানুষের জন্য। দলের দুঃসময়ে পাশে ছিলাম, সামনেও থাকব।”
তিনি বলেন, “আমার এলাকাটি ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে বড় এবং জনবহুল। এখানে ধনী-গরিব, নিম্নবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত থেকে হতদরিদ্র মানুষের বসবাস। যদি দল আমাকে মনোনয়ন দেয় এবং নির্বাচিত হতে পারি, তাহলে সবার আগে শিক্ষিত বেকার তরুণদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব।”কর্মসংস্থানের মাধ্যমে সমাজে অনেক অন্যায় অপরাদ বন্ধ করা যায় বলে আমি মনে করি। এতে শুধু ওয়ার্ডের উন্নয়ন হবে না আমারা যারা ওয়ার্ডে বসবাস করি তাদেরও জীবন মান উন্নয়ন হবে।
ফরিদুল আলমের ভাষায়, “সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে বেকার জনশক্তিকে কর্মঠ করার উদ্যোগ নিতে চাই। পাশাপাশি কাউন্সিলর কার্যালয়ের সেবাগুলো সহজ করবো। সরু রাস্তাগুলো উন্নয়নে কাজ করবো, অপরাধপ্রবণতা কমাতে উদ্যোগ নেব। চিকিৎসা খাতেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে জনগণের স্বার্থে।”
সম্ভাব্য কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মালেক বলেন, “একজন প্রকৃত শহরবাসী হিসেবে মানুষের আইনগত সহায়তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। আমি নির্বাচিত হলে সেই অধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা করবো। সামর্থ্য অনুযায়ী দীর্ঘদিন ধরেই অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। চিকিৎসা ক্যাম্প করেছি, ওষুধ বিতরণ করেছি, গরিব মেয়েদের বিয়ের ব্যবস্থা করেছি। বিভিন্ন অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ঘরবাড়ি নির্মাণেও সহায়তা করেছি। অনেক মানুষকে মিথ্যা মামলা থেকে মুক্ত করতেও কাজ করেছি।”
তিনি বলেন, “এলাকার মানুষ আমাকে এতটাই ভালোবাসে যে তাদের সুখ-দুঃখে আমাকে আপনজনের মতো পাশে টেনে নেয়। দল-মত নির্বিশেষে মানুষের এই ভালোবাসাই আমার বড় শক্তি। অতীতে দুইবার কাউন্সিলর নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলাম। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারিনি। তবে এ নিয়ে আমার কোনো আক্ষেপ নেই। কারণ মানুষের ভালোবাসা সবসময় আমার সঙ্গে ছিল।”

উত্তর আগ্রাবাদের প্রধান সংকট হিসেবে জলাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে আব্দুল মালেক বলেন, “এই ওয়ার্ডের সবচেয়ে বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। এটি নিরসনে আমি মনপ্রাণ দিয়ে কাজ করতে চাই। মূলত অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও কাজের কারণেই চট্টগ্রাম শহরে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার নিয়েছে। পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের ভেতরের সড়কগুলো এতটাই ভাঙাচোরা যে এই ওয়ার্ড না দেখলে সেটি বোঝা যাবে না। এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এলাকার তরুণদের মধ্যে মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। খুব দ্রুত এটি নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন। আমি নির্বাচিত হলে নিজের জন্য নয়, পুরো ওয়ার্ডের মানুষের সমস্যা সমাধানেই কাজ করবো। কারণ এই ওয়ার্ড এতটাই জরাজীর্ণ যে এখানে ব্যক্তিগত চিন্তার সুযোগ নেই, মানুষের সমস্যা নিয়েই ভাবতে হয়।”
শিক্ষাব্যবস্থার দুরবস্থার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, “এই ওয়ার্ডে একটি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ও নেই। এটি আমার কাছে বড় কষ্টের বিষয়। এ কারণে এখানকার ছেলে-মেয়েরা শিক্ষাক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে। আমি চাই, আমি বা যিনিই নির্বাচিত হোন না কেন, এখানে অন্তত একটি সরকারি হাইস্কুল প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ নেওয়া হোক।”
তিনি বলেন, “২৪ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বা দুটি নয়, অসংখ্য সমস্যা রয়েছে। এর অন্যতম কারণ, অতীতে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের অনেকেই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন না। ফলে এলাকার প্রকৃত সমস্যা সম্পর্কে তাদের ধারণাও সীমিত ছিল। আমি মনে করি, ভোটারদের এমন মানুষকে নির্বাচিত করা উচিত, যিনি এই এলাকারই বাসিন্দা, এলাকার সমস্যাগুলো নিজে ভোগ করেন এবং মানুষের কষ্ট বোঝেন। তাহলেই প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব।”
রাস্তার সংকীর্ণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন আব্দুল মালেক। তিনি বলেন, “এখানে রাস্তাগুলো এত সরু যে হঠাৎ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে যায়। আমি নির্বাচিত হলে এসব সমস্যাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের চেষ্টা করবো। উত্তর আগ্রাবাদকে একটি মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”
অস্থায়ী বাসিন্দাদের দুর্ভোগের কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, “এই ওয়ার্ডে যারা অস্থায়ীভাবে বসবাস করেন, তাদের কবর নিয়ে বড় সমস্যায় পড়তে হয়। আমি নির্বাচিত হলে তাদের জন্য কবরের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিতে চাই। এটি দীর্ঘদিনের একটি মানবিক সংকট।’

সম্ভাব্য আরেক প্রার্থী মঈন উদ্দিন আহমেদ রাশেদ বলেন
“ওয়ার্ডের অধিকাংশ সড়ক ভাঙাচোরা। জলাবদ্ধতা ও অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। ওয়াসার প্রকল্পের কারণে রাস্তাগুলোর অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। আমি এসব রাস্তা সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেব।”
তিনি আরও বলেন, “করোনার পর অনেক শিশু, বিশেষ করে মেয়েরা পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়েছে। তাদের আবার শিক্ষার মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে চাই। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আমি আগে থেকেই কাজ করছি। ওয়ার্ডের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ২২টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ক্ষমতা পেলে ওয়ার্ড উন্নয়নে মনপ্রাণ দিয়ে কাজ করবো”। নাগরিক সেবা যেগুরো ওযার্ড কাউন্সিলরকে দিতে হয় সেগুলো অবশ্যই সাধারণ মানুষের জন্য সহজলব্য করবো। মানুষের ভোগান্তি কমাতে চাই। সমাজ উন্নয়তে সাথে জড়িত সকল কর্মকান্ড শুরু করবো। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে ছিলাম। সেখান থেকেও মানুষের জন্য কাজ করেছি। এখন যদি ক্ষতমার মাধ্যমে সুযোগ পাই তবে নিজেকে উজাড় করে কাজ করবো।
ডাবলমুরিং থানা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক বজল আহমেদ বলেন, “এটি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ড। এখানে যেমন ভালো মানুষের বসবাস আছে, তেমনি অপরাধপ্রবণতাও বেশি। আমি নির্বাচিত হলে মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত একটি সমাজ গড়তে চাই। নারী শিক্ষা ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধেও কাজ করব।”
তিনি বলেন, “অনেক সময় স্থানীয় ও অস্থায়ী বাসিন্দাদের কবর নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। তাই একটি গণকবরের ব্যবস্থা করতে চাই। পাশাপাশি ‘মমতা’ মাতৃসদনকে আবার সক্রিয় করে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চাই।”জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করতে হবে, রাস্তা নালাগুলো বড় করতে চাই। যত্রতত্র মলার একটি স্থায়ী ব্যবস্থা করতে চাই।
সম্ভাব্য প্রার্থী জয়নাল আবেদিন মানিক বলেন, “উত্তর আগ্রাবাদ একটি সম্ভাবনাময় ওয়ার্ড। কিন্তু পরিকল্পনার অভাবে মানুষ কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সুবিধা পাচ্ছে না। আমি একটি মানবিক, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ ওয়ার্ড গড়ে তুলতে চাই।”আমি তরুণ, তাই ওয়ার্ডের তরুণদের জীবন মান উন্নয়নে কাজ করতে চাই।

তিনি বলেন, “এ এলাকায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার অভাব রয়েছে। নির্বাচিত হলে একটি আধুনিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণে উদ্যোগ নেব সিটি করর্পোরেশনের সহায়তায়। কারণ এটি আমার এলাকার বাসিন্দাদের অধিকার। আমি পাশে দাঁড়িয়ে এ অধিকার তাদের পাইয়ে দিতে চাই। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসন, ভাঙা রাস্তা সংস্কার, নারী শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ করব। সুষ্ঠ সুন্দর সমাজ আমার অঙ্গিকার।’ এছাড়া আমি জুলাই যোদ্ধা, দেশের মানুষকে স্বৈরাচারিতা থেকে মুক্তি দিতে মাঠে স্বকীয়ি ভূমিকা পালন করেছি। আমি আমার দেশ সমাজকে ভালোবাসি তাই আমার এলাকার সব সমস্যা সমাধানে আমি নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে কাজ করতে চাই। যাতে পাঁচ বছর পরে জনগণই আমাকে আবার তাদের প্রয়োজন মনে করে এভাবে কাজ করে যাবো।
স্থানীয়দের ভাষ্য, উত্তর আগ্রাবাদের মানুষ এখন আর শুধু প্রতিশ্রুতি শুনতে চান না। তারা দেখতে চান কার্যকর উদ্যোগ, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আর বাস্তব পরিবর্তন। কারণ বছরের পর বছর জলাবদ্ধতা, ভাঙা রাস্তা, সংকীর্ণ গলি আর নাগরিক অব্যবস্থাপনার সঙ্গে লড়াই করতে করতে এই জনপদের মানুষ এখন সত্যিকার অর্থেই বদলের অপেক্ষায়।

