আমের মুকুলে মধুমাসের আগমনী বার্তা, ছড়াচ্ছে মৌ মৌ ঘ্রাণ

নবযাত্রা প্রতিবেদক

‘ঝড়ের দিনে মামার দেশে আম কুড়াতে সুখ, পাকা জামের মধুর রসে রঙিন করি মুখ’ পল্লীকবি জসীম উদ্দিনের কালজয়ী ‘মামার বাড়ি’ কবিতার ছন্দের বাস্তব রূপ আসবে আর কিছুদিন পরই। শীতের জড়তা কাটিয়ে কোকিলের সেই মধুময় কুহুতানে মাতাল করতে আবারও ফিরে এসেছে ঋতুরাজ বসন্ত। এরই মাঝে সর্বত্র গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে সোনালী আমের মুকুল। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে এই মুকুলের পাগল করা মৌ মৌ গন্ধ। যে সুবাস মানুষের মনকে প্রফুল্ল ও বিমোহিত করে।

গাছ ভরা সোনালী আমের মুকুল চোখ জুড়ানো সোভাবর্ধনের পাশাপাশি সংবাদ দিচ্ছে মধুমাস জ্যৈষ্ঠ সমাগত প্রায় অর্থাৎ মধুমাসের আগমনী বার্তা শোনাচ্ছে আমের মুকুল।

এ সময়ে আমের মুকুলে মৌমাছিদের আনাগুনা বৃদ্ধি পায়, তাদের গুনগুন সুর তোলা শব্দ প্রকৃতিতে যেন আবহসংগীত রচনা করে। মৌমাছিরা চিরাচরিত নিয়ম মেনে প্রতিনিয়ত তাদের মধু আহরণে ব্যস্ত থাকে। নিজেদের মধু আহরণের পাশাপাশি তারা আমের মুকুলে পরাগায়নের কাজটিও করে থাকে। মৌমাছিদের মাধ্যমে আমের মুকুলগুলি পরাগায়িত নাহলে কোনো মুকুলই আর ফলবান হবে না। ছোট পাখিরাও মুকুলে বসছে মনের আনন্দে। এমন দৃশ্যের দেখা মিলছে গ্রাম শহর সর্বত্রই।

দেশে প্রায় ৩৫ প্রজাতির আমের অস্তিত্ব বিদ্যমান। জাতভেদে আমের বাহারী নাম রয়েছে যেমন ফজলি, ল্যাংড়া, আম্রপালি, গোপালভোগ, কাঁচামিঠা, খিরসা, অরুণা, মল্লিকা, সুবর্ণরেখা, মিশ্রিদানা, নিলাম্বরী, কালীভোগ, বারোমাসি, তোতাপুরী, কারাবাউ, গোপাল খাস, সূর্যপুরী, পাহুতান, ত্রিফলা, হাঁড়িভাঙ্গা, কলাবতী ইত্যাদি। আর কিছুদিন পরই বাজারে আসবে উপরোক্ত মৌসুমী আমগুলো। আমাদের দেশে জাতীয় ফল কাঁঠাল হলেও আমের কদর সর্বমহলেই সবচেয়ে বেশি। আম কাঁঠালের মৌসুমে আম না হলে চলেই না। মৌসুমে তৈরিকৃত কচি আমের চাটনী ও আচার সারা বছরই খাওয়া যায়।

আমের পুষ্টিগুণ অপরিসীম, রয়েছে প্রচুর ঔষধী গুণও। স্বাদে পুষ্টিতে ও সুবাসে আম অতুলনীয়। যে কারণে আমকে বলা হয় ফলের রাজা।

তবে আমের ফলন নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন বাগান মালিকরা। এদিকে মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুকুলে ভরে গেছে বাগানসহ ব্যক্তি উদ্যোগে লাগানো আম গাছগুলো। তবে বড় আকারের চেয়ে ছোট ও মাঝারি আকারের গাছে বেশি মুকুল ফুটেছে। সেই মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে বাগান মালিকদের চোখে ভাসছে স্বপ্ন।

বাগান মালিকরা জানান, মুকুল আসার পর থেকেই তারা গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছেন। মুকুল রোগ বালাইয়ের আক্রমন থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ স্প্রে করছেন তারা।

বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, আমগাছে শোভা পাচ্ছে কেবলই মুকুল। এ যেন হলুদ আর সবুজের মহামিলন। মুকুলে ছেয়ে আছে গাছের প্রতিটি ডালপালা। চারদিকে ছড়াচ্ছে সেই মুকুলের সুবাসিত ঘ্রাণ। আবহাওয়া ভালো থাকলে মুকুলগুলো নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা নেই। আমের মুকুল আসার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কী কী পরিচর্যা করতে হবে সে বিষয়ে কৃষি অফিস সব সময় পরামর্শ দিয়ে আসছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *