খাঁচায় শুরু ‘লালপাহাড়-জলপরী’র নতুন সংসার

নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ এক মাস সঙ্গীহীন থাকার পর এবার চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় লালপাহাড় (জলহস্তী) পেল সঙ্গী। চিড়িয়াখানার খাঁচায় শুরু হল লালপাহাড়- জলপরীর (স্ত্রী জলহস্তী) নতুন সংসার।

গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৫টায় ঢাকার জাতীয় চিড়িয়াখানা থেকে চট্টগ্রামে চিড়িয়াখানায় এসে পৌঁছেছে লালপাহাড়ের সঙ্গী ‘জলপরী’। ‘প্রাণি বিনিময়’ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রংপুর চিড়িয়াখানায় এক জোড়া বাঘ পাঠিয়ে এর বিনিময়ে জাতীয় চিড়িয়াখানা থেকে এক জোড়া জলহস্তী দম্পতিকে পেয়েছে চট্টগ্রাম। সেই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় গত ২১ সেপ্টেম্বর চিড়িয়াখানায় যোগ হয় নতুন প্রাণী জলহস্তী। সেদিন একটি পুরুষ জলহস্তী চিড়িয়াখানায় আনা হলেও ওজনের কারণে স্ত্রী জলহস্তীটি আনা সম্ভব হয়নি। গতকাল সেই জোড়া প্রাণীটির স্ত্রী জলহস্তীটি এসেছে চিড়িয়াখানায়। 

সরেজমিনে দেখা যায়, লালপাহাড় সঙ্গী জলপরীকে পেয়ে বেশ আমদে আছে। দু’জনে মিলে কখনো পানিতে আবার কখনো উপরে খেলা করছে। এদিকে, উপরে খাঁচার দু’পাশ ঘীরে ভীড় জমিয়েছে দর্শনার্থীরা। এক সাথে দু’টি জলহস্ত্রী দেখে তারাও বেশ খুশি। আবার নতুন অতিথিকে নিয়ে ব্যস্ততার শেষ নেই চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের। নানারকম সবজি, ফল ও সবুজ লতাপাতার খাবার দিচ্ছেন প্রাণী দু’টিকে। তবে নতুন পরিবেশে এসে কিছুটা বিচলিত দেখা গেছে জলপরীকে। সে ঠিকভাবে খাচ্ছে না। সে বিচলিত হলেও খুশি দেখা যায় লালপাহাড়কে। মূলত নেই বেশি আনন্দ করতে দেখা যায়।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ বলেছেন, লালপাহাড়ের বয়স ১২ বছর। তার সঙ্গী স্ত্রী জলহস্তী জলপরীর বয়স ৯ বছর এবং ওজন ৯০০ কেজি।

‘আমরা চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা থেকে দুই বছর বয়সী এক জোড়া বাঘ রংপুর চিড়িয়াখানাকে দিই। বিনিময়ে ঢাকা থেকে একজোড়া জলহস্তী পেয়েছি। ঢাকা ও রংপুর চিড়িয়াখানা পরিচালনা করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। আর চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা পরিচালনা করে জেলা প্রশাসন। সেজন্য আমরা রংপুরকে বাঘ দিলেও মন্ত্রণালয় ঢাকা থেকে আমাদের জন্য জলহস্তীর ব্যবস্থা করেছে।’

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের শেষদিকে মন্ত্রণালয়ের কাছে জলহস্তী চেয়ে চিঠি দিয়েছিলেন চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. মোমিনুর রহমান। এ প্রক্রিয়া অগ্রসর না হওয়ায় ২০২২ সালের ২২ আগস্ট আবারও চিঠি দেওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় বিনিময় হিসেবে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা থেকে রংপুরের জন্য এক জোড়া বাঘ এবং ঢাকার জন্য এক জোড়া সাম্বার হরিণ ও এক জোড়া ইন্দোনেশিয়ান আয়াম সিয়ামি মোরগ দেওয়ার প্রস্তাব করেন। পাশাপাশি রংপুর চিড়িয়াখানায় বাঘ পাঠানো এবং জাতীয় চিড়িয়াখানা থেকে জলহস্তী চট্টগ্রামে আনার যাবতীয় ব্যয়ভার চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার কাছে বহন করার শর্ত দেওয়া হয়।

গত ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ রংপুরে বাঘ পাঠানো এবং ঢাকা থেকে জলহস্তী আনার ব্যয়ভার বহন করার শর্ত মেনে নিয়ে চিঠি দেয়। অন্য প্রাণিগুলো চট্টগ্রামে পর্যাপ্ত না থাকায় সেগুলো প্রজনন সাপেক্ষে পরবর্তীতে দেওয়ার আশ্বাস দেয়া হয় ওই চিঠিতে। এরপর গত ১৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় জলহস্তী দেয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায় মন্ত্রনালয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *