নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম বিভাগে ইলেক্ট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত নারী সাংবাদিকদের নিয়ে বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র চট্টগ্রাম বিভাগীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন মিডিয়ায় কর্মরত নারীদের নিয়ে ১২ সদস্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে মহানগরীর একটি রেন্টুরেন্টে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দৈনিক বাংলা চট্টগ্রাম বুরো প্রধান ডেইজি মওদুদের সভাপতিত্বে ও দীপ্ত টিভির চট্টগ্রাম বুরো প্রধান লতিফা আনসারী রুনার সঞ্চালনায় সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র (বিএনএসকে) সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি সালাউদ্দীন মোহাম্মদ রেজা, সাধারণ সম্পাদক দেব দুলাল ভৌমিক ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইসলাম।
দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, যেকোনো কাজে লেগে থাকতে হবে। তবেই সফলতা আসবে। সাংবাদিকতায়ও নারীদের লেগে থাকতে হবে। অন্যান্য সময়ের থেকে এখন অনেক হাউজে নারী সাংবাদিকের অংশগ্রহণ বেড়েছে। সেই সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে। নতুন তথ্য প্রযুক্তি আসার সাথে সাথে তা গ্রহণ করতে হবে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। না হয় যেকোন প্রতিষ্ঠান পিছিয়ে পড়বে।
নারীর অধিকার নিয়ে তিনি আরও বলেন, কেউ কাউকে অধিকার দেই না। সবাইকে নিজের অধিকার আদায় করে নিতে হয়। তার জন্য সকল নারী সাংবাদিকদের অনেক পরিশ্রম করে যোগ্য হয়ে উঠতে হবে। তাহলে কোন বাঁধা নারীকে আটকানো যাবে না।
উদ্বোধক বক্তব্যে বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র (বিএনএসকে) সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু বলেন, ‘সবাই বলছেন নারী সাংবাদিক কেন্দ্র আলাদা করে গঠন করা হয়েছে কেন। নারীপুরুষ সকলে সাংবাদিক। আমরা দেখছি অন্যান্য পেশা থেকে সাংবাদিকতা পেশার নারীর অংশগ্রহণ অনেক কম। এই ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর তাগিদ আমাদের। প্রতিটি হাউজে সেই উপস্থিতি যেন ৫০ শতাংশতে উন্নতি করতে পারি। তার প্রচেষ্টা করছে বিএনএসকে। নারী পুরুষ মিলে পরিবার সমাজ দেশ পরিচালিত হয়। তাহলে দেশের উন্নতি হবে।
এই পেশায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রতিটি প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ৩০ শতাংশ নিয়োগের দাবী আমাদের। তার জন্য সকলকে সম্পাদক মহলকে এগিয়ে আসতে হবে। তারা আন্তরিক হলে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, নারীরা এত বাঁধার মুখে তাও সব ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছেন। চট্টগ্রামের নারী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, নিয়োগে স্থানীয় প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে এগিয়ে আসার আহব্বান জানান।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক বলেন, নারী পুরুষ সাংবাদিক বলে কিছু নেই। দেশের অন্যান্য বিভাগ এর মতো চট্টগ্রামে নারী সাংবাদিক বাড়ছে। নারীরা সব ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে আরও বেশি চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। বর্তমানে নারী সাংবাদিকদের আটকানোর কেউ নেই। তবে নারী সাংবাদিকদের সহকর্মীদের সহোযোগিতাপূর্ণ আন্তরিক মনোভাবাপন্ন হতে হবে। এখন সহকর্মী আরেক সহকর্মীকে নামাতে সদা ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এটা হলে কখনো এগুনো যাবে না। তাই নারী সাংবাদিকদের এগিয়ে যেতে সহকর্মীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
এসময় বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র (বিএনএসকে)’র চট্টগ্রাম বিভাগীয় ১২ সদস্যর একটি কমিটির ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের চট্টগ্রাম বিভাগের এগারো বিশিষ্ট কার্য নির্বাহী কমিটির সভাপতি ডেইজী মউদুদ। সহসভাপতি শামীম আরা লুসি, সহসভাপতি ইয়াসমিন রীমা, সাধারণ সম্পাদক লতিফা আনসারী রুনা, যুগ্ম সম্পাদক চিংমেপ্রু মারমা, সাংগঠনিক সম্পাদক ফেরদৌস লিপি, অর্থ সম্পাদক শারমিন সুমি, প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক নিলা চাকমা। সদস্য ইয়াসমিন ইউসুফ, আসমা বিথি মরিয়ম জাহান মুন্নি ও মারজান আক্তার।