লেবানিজ নাট্যকার ওয়াজদী মাওয়াদের ‘ইনসেন্ডিস’ মঞ্চস্থ থিয়েটারে

নবযাত্রা প্রতিবেদক
যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি দেশ। সেখানের গ্রামে বসবাসকারি মানুষগুলোর মধ্যে নেই কোনো শিক্ষা। আবার নারীদের শুধু শিক্ষার অধিকার নেই যে তা নয়, পরিবারে তাদের কথা বলারও কোনো অধিকার নেই। এমন পরিস্থিতি থেকে একজন নারী তার দাদির উৎসাহে শিক্ষার আলোর সন্ধানে সেই গ্রাম ছেড়ে বেরিয়ে যায়। একদিন সে শিক্ষা অর্জন করেন। তারপর সেই গ্রামে ফিরে গিয়ে তার দাদীর সমাধীতে দাদির নাম লিখে দেন। তিনি দেখান গ্রামবাসিকে তাদের গ্রামটি অশিক্ষা আর কুসংস্কারে আসন্ন। এ থেকে বেরিয়ে আসতে হলে শিক্ষার দরকার। শিক্ষাই মানুষকে আলো পথ দেখায়।
আবার এক নারী ও এক পুরুষের ভালোবাসার সম্পর্কের করুণ পরিণতি এ নাটকে ফুটে উঠে। যেখানে দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী পুরুষ প্রেমের সম্পর্কে জড়ায়। সেই নারীর কোল আলো করে জন্ম নেয় এক শিশু। কিন্তু সেই সন্তানকে থাকতে দেয়া হয়না মায়ের কোলো। দিয়ে দেয়া হয় কোনো একটি শরণার্থী ক্যাম্পে। দীর্ঘ কয়েক বছর পর তার মা সেই সন্তানকে খুঁজতে ছুটে যান শরণার্থী ক্যাম্পে। তবে তিনি আর তার সন্ধান পান না। এদিকে মেয়েও খুঁজে তার মাকে।
লেবানিজ বংশভূত নাট্যকার ওয়াজদী মাওয়াদের ‘ইনসেন্ডিস’ নাটকে এমনই কিছু গল্পকাহিনী ফুটিয়ে তুলেন নাট্যকার।
গতকাল সন্ধ্যায় থিয়েটার ইনস্টিটিউটের আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের আয়োজনে ফেইম নাট্যকলা বিভাগ বিদেশী এ নাট্যকারে নাটকটি বাংলা অনুবাদ করে প্রথম মঞ্চস্থ করে। নাট্যকার ওয়াজদী মাওয়াদের ‘ইনসেন্ডিস’ নাটকের বাংলা অনুবাদ করেন অসীম দাশ ও অন্বেষা দাশ। যার নাম দেয়া হয় ‘দগ্ধ’।
৩ ঘন্টা ১৫ মিনিটের এ নাটকে লেবানিজ নাট্যকার ওয়াজদী মাওয়াদ ফুটিয়ে তুলেছেন সেখানে যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি সময়ে মানুষের মধ্যে অশিক্ষা আর কুসংস্কারের প্রভাব। আবার সমাজের কারণে ভালোবাসার পরিণতি না দেয়া। একটি শরণার্থী ক্যাম্পে কিছু শিশুর জীবন কাহিনী। নাটকে অভিনয় করেন জীশু দাশ, মুবিদুর সুজাত, কমল বড়ুয়া, দীপ্ত চক্রবর্তী, সাবিহা বিনতে জসিম, পূজা বিশ্বাস, অমিতা বড়ুয়া, নওয়াজেশ আশরাফ ঈশাদ, অরুণা দত্ত, সাগীরুল আলম, জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, মোহাম্মদ রাসেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *