বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ছিল দেশকে মেধাশূন্য করার গভীর ষড়যন্ত্র: তারেক রহমান

নবযাত্রা ডেস্ক
১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকাল পৌনে পাঁচটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন এবং তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে শিক্ষক, চিকিৎসক, লেখক, সাংবাদিক, শিল্পীসহ দেশের অগ্রগণ্য বুদ্ধিজীবীরা নির্মমভাবে শহীদ হন। এই দিনটি মূলত জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করার দিন। শহীদ বুদ্ধিজীবীরা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন, স্বাধীনতার পক্ষে কলম ধরেছিলেন এবং দেশবাসীর পাশে দাঁড়িয়ে সংগ্রামে অংশ নিয়েছিলেন। তাদের জীবন ও কর্ম আজও জাতিকে অনুপ্রাণিত করে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, দেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা ছিল দেশকে পরিকল্পিতভাবে মেধাশূন্য করার গভীর চক্রান্ত। স্বাধীনতার বিজয়কে বাধাগ্রস্ত করতেই বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করা হয়, যা আজও সারা জাতিকে গভীর বেদনায় আচ্ছন্ন করে। তবে শহীদ বুদ্ধিজীবীরা যে আদর্শ রেখে গেছেন—জ্ঞান-বিজ্ঞান, মুক্তচিন্তা, ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সম্প্রীতির চেতনা—তা আজও একটি উন্নত ও প্রগতিশীল রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয় জাগিয়ে তোলে। একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণই ছিল তাদের অভিষ্ট লক্ষ্য।

তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, অর্ধশতাব্দী পার হয়ে গেলেও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। বারবার গণতন্ত্র মৃত্যুকূপে পতিত হয়েছে এবং একদলীয় দুঃশাসনের বাতাবরণ তৈরি করে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক বিকাশকে প্রতিহত করা হয়েছে। বহু রক্ত ঝরলেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, লেখা ও বলার অধিকার আজও নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

তারেক রহমান আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতনের পর যদি দেশে আইনের শাসন, স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং বহুমতের রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা যায়, তাহলেই শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আদর্শ বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে।

শোকাবহ এই দিনে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং বক্তব্য শেষ করেন ‘আল্লাহ হাফেজ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *