জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ অভিযানে সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ: স্বস্তিতে দেড় লাখ মানুষ

নবযাত্রা প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দীর্ঘদিনের সন্ত্রাসী দৌরাত্ম্য ও অনিয়মের অবসান ঘটেছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
প্রশাসনের দাবি, সাম্প্রতিক যৌথ অভিযানের মাধ্যমে এলাকায় গড়ে ওঠা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর শক্ত ঘাঁটি ভেঙে দিয়ে প্রায় দেড় লাখ মানুষকে জিম্মিদশা থেকে মুক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার অভিযান-পরবর্তী পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে ‘রাষ্ট্রের ভেতরে আরেক রাষ্ট্র’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। এখানে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে পাহাড় কাটা, পরিবেশ ধ্বংস, এমনকি অবৈধ অস্ত্র তৈরি ও বেচাকেনার মতো কর্মকাণ্ড চালাত।
প্রশাসন সূত্র জানায়, ২০২১-২২ সালে একাধিক অভিযান পরিচালিত হলেও নানা প্রতিবন্ধকতায় তা পুরোপুরি সফল হয়নি। তবে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাবের ডিএডি মোতালেব সরকার নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। এরপর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গত ৯ মার্চ র্যা ব, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও সেনাবাহিনীর প্রায় চার হাজার সদস্যের অংশগ্রহণে বড় ধরনের যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রশাসনের দাবি, এ অভিযানে কোনো প্রাণহানি ছাড়াই সন্ত্রাসীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
অভিযানের পর এলাকায় একটি পুলিশ ক্যাম্প ও একটি র্যা ব ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে, যা নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে বিদ্যুৎ ও পানির অভাবসহ কিছু অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের ভোগান্তির কথাও জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক ক্যাম্পগুলো ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। মনোবল বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনি পুলিশ সদস্যদের মাঝে মিষ্টি ও তরমুজ বিতরণ করেন। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে তাদের নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থা তুলে ধরে তিনি জানান, আলীনগর সড়কের উন্নয়নে ইতোমধ্যে এলজিইডির মাধ্যমে কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা ও স্যানিটেশন সুবিধা উন্নয়নে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পরিকল্পনা। ইতোমধ্যে দুটি ডিপ টিউবওয়েলের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং বর্ষা মৌসুমের কথা বিবেচনা করে অস্থায়ী তাবুর পরিবর্তে টিনের ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অবৈধ বসতি, পাহাড় কাটা এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমের কারণে এটি ঝুঁকিপূর্ণ ও নিয়ন্ত্রণহীন অঞ্চলে পরিণত হয়েছিল। ২০২২ সালে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে কিছু অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হলেও পরবর্তীতে আবারও দখল ও সন্ত্রাসী তৎপরতা বাড়ে।
বর্তমানে প্রশাসনের সক্রিয় উপস্থিতিতে এলাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক বলেন, চট্টগ্রামের কোথাও সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য থাকতে দেওয়া হবে না। জঙ্গল সলিমপুরকে একটি নিরাপদ, উন্নত ও পরিবেশসম্মত এলাকায় রূপান্তর করতে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
পরিদর্শনকালে র্যা ব-৭, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *