স্পিনা রানী প্রামাণিক
অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ
মরিয়ম জাহান মুন্নী
পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীদের পিছিয়ে থাকার গল্পটা নতুন নয়। নারীদের মূলধারা থেকে পিছিয়ে রাখার কৌশলও এক ধরনের নির্যাতন। এটা নারীর কাজ নয়, কিংবা এটা সে করতে পারবে না তাকে এসব মনে করানো হয়েছে যুগের পর যুগ ধরে। সেই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি আগে বদলাতে হবে।
খবরে দেখা যায়, পিতৃতুল্য শিক্ষকের হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে নারী, সহপাঠী কর্তৃক নিগৃহীত হচ্ছে, কর্মক্ষেত্রে নারীর কর্মপরিবেশ গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পারছে না। কর্মক্ষেত্রে এখনো প্রথমেই প্রমাণ করতে হয় সে কাজটি করতে কতটা সক্ষম। আবার অনেক সময় নিজের উপার্জন করা অর্থও ব্যয় করার পূর্ণ স্বাধীনতা নারীর থাকে না। এমনকি থাকে না সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও। তাই প্রয়োজন দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন।
তিনি বলেন, আমাদের সময় পড়াশোনায় পারিবারিক সাপোর্ট নির্ভর করতো অভিভাবকের সচেতনতার উপর। আমি ভাগ্যবতী খুবই সাপোর্টিভ একটি পরিবার পেয়েছি। তবে তখনকার চেয়ে এখন অনেকটা ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। নারীরা পড়ালেখা ও ঘরে বাইরে কাজের সুযোগ পাচ্ছে। এছাড়া পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের জীবনের গল্প আলাদা। তাদের প্রতিবন্ধকতাও আলাদা। একবাক্যে বলতে গেলে ‘উইল পাওয়ার’ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে ‘আমি পারবোই’। বাকিটা আপনা আপনিই হয়ে যাবে।
আজকের এ অবস্থানে আসতে আমাকেও কম প্রতিবন্ধকতা পোহাতে হয়নি। আমি বড় হয়েছি গ্রামে। সেখানে ছিলনা উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা। স্কুল দূরে হওয়ায় বড় বোনের সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যেতাম। গ্রাম থেকে উঠে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ-ি পেরিয়ে আজ এ পর্যায়ে। সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতা জয় করতে হয়েছে। বৈষম্যের শিকার হয়েছি বারংবার। যখন একা একটি মেয়ে শহরে পড়তে এলাম, তখন নিজের নিরাপত্তা নিয়েও শংকার পড়তে হয়েছে। এমনকি কখনো কখনো অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে নিজের যোগ্যতা নিয়েও সংশয়ে পড়েছি।
উত্তরণের উপায়: নারীদের শিক্ষাক্ষেত্রে অংশগ্রহণের জন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ঘরে বাইরে নিরাপত্তা বাড়াতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতার অভিযোগগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিষ্পত্তি করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে নারীর প্রতি মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। বিভিন্ন ফোরামে নারীর অংশগ্রহণে সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। বড় কথা নারীকে শুধু নারী হিসেবে চিহ্নিত না করে একজন মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে। গ্রামীন নারীদের শিক্ষার হার শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে।