নবযাত্রা প্রতিবেদক
চলছে বাংলা মধুমাস নামে পরিচিত জৈষ্ঠ্য মাস। মধুমাস আসার আগেই বাজার ভরে উঠেছে নানারকম ফলে। তবে এবার দামে চড়া মধুমাসের ফল। বাজারে আসা এসব ফলের দাম এখনো সাধারণ মানুষের ক্রয়সীমার বাইরে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার তরমুজ, আম, কাঁঠাল, লিচু ও জামসহ প্রায় সব ফলেরই উৎপাদন কম হয়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে পরিবহন খরচ। তাই অন্যান্য বছরের চেয়ে এবারের মধু মাসে ফলের দাম বেশি থাকতে পারে।
মধুমাস নামে পরিচিত এ মাসে বাজারে ফলের রাজা কাঁঠালসহ আম, জাম, লিচু, তরমুজ, আনারস, বাঙ্গি, লটকনসহ প্রায় সব ফলই থাকে। গত কয়েকদিন আগে থেকেই বাজারে উঠতে শুরু করেছে এসব ফল। প্রায় সব দোকানে থরে থরে সাজানো রয়েছে মধুমাসের এসব ফলগুলো। তবে দামে নেই কোনো লাগাম। বাজারে রোজার সময় আসে তরমুজ। শুরু থেকেই চড়া দামে বিক্রি হয়েছিল এ ফলটি। যা এখনো একই রয়েছে। এদিকে নতুন করে সপ্তাহ ধরে বাজারে দেখা যাচ্ছে লিচু ও পাকা আমের সমাহার। এগুলোও বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে।
ফলমন্ডি দুই নম্বর সুপার মার্কেটের মেসার্স মো. শাহাবুদ্দিন এন্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন বলেন, বাজারে এখনো রাজশাহী, নওগাঁসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের উন্নতজাতের আমগুলো আসেনি। পাবনা, রাজশাহী ও দিনাজপুরের লিচুগুলোও এখনো আসেনি। এখন বাজারে সাতক্ষীরা জেলার কিছু আম এবং বিদেশের আমদানি করা আমগুলো আসছে। বাঁশখালী ও চট্টগ্রামের পাবত্য জেলার কিছু লিচু আসতেছে। এ ফলগুলো মানের দিক থেকে এতো ভালো না। ভালো মানের লিচু, আমসহ ফলগুলো এবার বাজারে আসতে শুরু করেছে। তবে এবার সব ফলের উৎপাদনই কম হয়েছে। বিশেষ করে আম, কাঁঠাল, লিচু ও তরমুজের উৎপাদন কম হয়েছে। তাই এবার নওগাঁ, রাজশাহীর বাগানীরা বেশি দামে ফল বিক্রি করার আশা করছেন।
এসময় তিনি আরো বলেন, এখন বাজারে সাতক্ষীরার যে আমগুলো আছে এগুলো পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু এ আমগুলো বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়। আবার ভারত ও পাকিস্তান থেকে আমদানি করা আমগুলো ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে নতুন আসা কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে ২০০-৪০০ টাকার দামে।
প্রচণ্ড এ গরমে পছন্দের তালিকায় সবার আগে যে ফলটির নাম রয়েছে সেটি হচ্ছে তরমুজ। কিন্তু এবার বাজারে অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এ ফলটি। বাজারে এখনো একটি মাঝারি আকারের তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ২০০-২৫০ টাকায়। একটু বড় হলেই ৩০০-৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ মুহূর্তে ফলের বাজারে লিচুর ক্রেতাই সবচেয়ে বেশি। তবে চাহিদা অনুযায়ী এখনো বাজারে লিচু উঠেনি। তাই প্রতি ১শ’ পিস লিচু বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়।
খুচরা ফল ব্যবসায়ী মো. শহীদ বলেন, নতুন আসা ফলগুলোর দাম একটু বেশি হয়ে থাকে। তাছাড়া এখনও সব জায়গায় ফল পাঁকেনি। আবার এবার ফলও কম ধরেছে। তাই ফলের দাম একটু বেশি। আমরা আড়াত থেকে বেশি দামে কিনছি। তাই বেশি দামেই বিক্রি করছি। তবে ফলের সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে পারে।