নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামে প্রথমবারের মত সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ৩২টি সঙ্গীত সংগঠন নিয়ে ‘চট্টগ্রাম সঙ্গীত সংগঠন মোর্চা’ আত্মপ্রকাশ করেছে
গতকাল শুক্রবার বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমির মুক্তমঞ্চে বেলুন উড়িয়ে আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত এম এ মালেক এবং নাট্যজন আহমেদ ইকবাল হায়দার।
চট্টগ্রাম সঙ্গীত সংগঠন মোর্চার আহ্বায়ক কল্পনা লালার সভাপতিত্বে ও জাবেদ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন নাট্যজন আহমেদ ইকবাল হায়দার, সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক মানস শেখর ও সদস্য সচিব শীলা দাশগুপ্তা।
নাট্যজন আহমেদ ইকবাল হায়দার বলেন, আজ একটি আনন্দের দিন। এভাবে আমরা সবাই জোটবদ্ধ হতে পেরেছি। সব আন্দোলন সংগ্রামে যাতে চট্টগ্রামের ৩২টি সংগঠন একসঙ্গে কাজ করতে পারে সেটা খেয়াল রাখতে হবে। চট্টগ্রামের শহীদ মিনার নিয়ে বলার কেউ নেই। যারা এর ডিজাইন করেছে তারা কিছু জানে না। ইচ্ছেমতো ডিজাইন করে চট্টগ্রামের মানুষের আবেগে আঘাত দিয়েছে। যে ভূলটা তারা করেছে সেটা স্বীকার করে জবাবদিহিতা করতে হবে। চট্টগ্রামের সকল সংস্কৃতি কর্মীদের এ আন্দোলনে সামনে এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা আরো বলেন, চট্টগ্রামের সঙ্গীত সংগঠনগুলো অনেকদিন ধরেই আলাদা ভাবে প্রোগ্রাম করছিল। এ মোর্চার মাধ্যমে চট্টগ্রামের সঙ্গীত সংগঠনগুলো যৌথভাবে কাজ করার একটি ক্ষেত্র পাবে। মোর্চা করতে গিয়ে মাঝে মাঝে নেতৃত্ব নিয়ে দ্বিধাদন্দের দেখা দিতে পারে। কিন্তু আমাদের সবাইকে এসব থেকে বেরিয়ে সংগঠনটিকে টিকিয়ে রাখতে হবে। আমাদের বাঙ্গালির আবহমান যে সংস্কৃতি সেটা ধরে রাখতে কিছু মানুষ ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ায়। এজন্য তারা সমাজের বিভিন্নজন থেকে নানা কটু কথাও শুনেন। তবুও তারা দমে যায় না। আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই।
আলোচনা পর্বের পর শুরুতেই মঞ্চে সঙ্গীত পরিবেশন করে সঙ্গীত ভবন, কলাবন্তী একাডেমি, স্বরলিপি সাংস্কৃতিক অঙ্গন, সারগাম সংগীত পরিষদ, রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থা, গীতধ্বনি সংগীত অঙ্গন, বিবেকানন্দ সংগীত নিকেতন, বিশ্বতান, নজরুল সংগীত শিল্পী সংস্থা ও ছন্দানন্দ সাংস্কৃতিক পরিষদ।
এরপর একে একে সঙ্গীত পরিবেশনা করে সংগীততীর্থ, অদিতি সঙ্গীত নিকেতন, রক্তকরবী, সুরধ্বনি সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ আরো ১৪টি সংগঠন।