চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার জোড়া
বাঘ গেল রংপুরে।
সপ্তাহের মধ্যে এসে
পৌঁছাবে স্ত্রী জনহস্তী।
নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় যোগ হল নতুন প্রাণী জলহস্তী। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার জাতীয় চিড়িয়াখানা থেকে একটি পুরুষ জলহস্তী চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় আনা হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে এসে পৌঁছাবে সঙ্গী স্ত্রী জলহস্তীও জানিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা থেকে দুই বছর বয়সী এক জোড়া বাঘ পৌঁছে দেওয়া হয় রংপুর চিড়িয়াখানায়।
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ও চিকিৎসক শাহাদাৎ হোসেন বলেন, রংপুর চিড়িয়াখানাকে এক জোড়া বাঘ দেওয়ার বিপরীতে ঢাকা চিড়িয়াখানা থেকে দুটি জলহস্তী আনা হয়েছে। প্রথম দফায় আজ সকালে একটি জলহস্তী কাভার্ডভ্যানে করে আনা হয়েছে। এগুলোর ওজন বেশি হওয়ায় একসঙ্গে দুটি আনা সম্ভব হয়নি। আরেকটি ৫-৭ দিনের মধ্যে আনা হবে। তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় ১৬টি বাঘ ছিল। এরমধ্যে দুটি রংপুর পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ১৪টি বাঘ আছে। চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় নতুন জলহস্তীসহ বর্তমানে প্রাণীর সংখ্যা ৬২০।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, ২০২১ সালের শেষদিকে মন্ত্রণালয়ের কাছে জলহস্তী চেয়ে চিঠি পাঠায় চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. মোমিনুর রহমান। এ প্রক্রিয়া অগ্রসর না হওয়ায় ২০২২ সালের ২২ আগস্ট আবারও চিঠি দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয় বিনিময় হিসেবে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা থেকে রংপুরের জন্য এক জোড়া বাঘ এবং ঢাকার জন্য এক জোড়া সাম্বার হরিণ ও এক জোড়া ইন্দোনেশিয়ান আয়াম সিয়ামি মোরগ দেয়ার প্রস্তাব করেন। পাশাপাশি রংপুর চিড়িয়াখানায় বাঘ পাঠানো এবং জাতীয় চিড়িয়াখানা থেকে জলহস্তী চট্টগ্রামে আনার যাবতীয় ব্যয়ভার চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার কাছে বহন করার শর্ত দেওয়া হয়।
গত ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ রংপুরে বাঘ পাঠানো এবং ঢাকা থেকে জলহস্তী আনার ব্যয়ভার বহন করার শর্ত মেনে নিয়ে চিঠি দেয়। অন্য প্রাণীগুলো চট্টগ্রামে পর্যাপ্ত না থাকায় সেগুলো প্রজনন সাপেক্ষে পরবর্তী দেয়ার আশ্বাস দেওয়া হয় ওই চিঠিতে। এরপর গত ১৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় জলহস্তী দেয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায় মন্ত্রণালয়। এর আগে, চলতি বছর ১৬ মার্চ দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনা হয় এক জোড়া সিংহ। একই সময় আনা হয় চার জোড়া ওয়াইল্ড বিস্ট। দরপত্রের মাধ্যমে এক কোটি ৬৯ লাখ টাকায় সিংহ, ম্যাকাও, ওয়াইল্ড বিস্ট, ক্যাঙ্গারু, লামা আমদানি করা হয়।
দেখা যায়, কুমিরের আগের জায়গায় নতুন করে তৈরি করা হয়েছে নতুন অতিথি জলহস্তীর বাসস্থান। আর কুমিরের খাঁচা তৈরি করা হয়েছে পাহাড়ের পশ্চিম পাশে লেকের মধ্যে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশে। জলহস্তী স্তন্যপায়ী তৃণভোজী প্রাণী। একটি প্রাপ্তবয়স্ক জলহস্তীর ওজন গড়ে ১ হাজার ৫০০ কেজি হয়ে থাকে। এ প্রাণীর খাবার ঘাস-পাতা ও বিভিন্ন ধরনের ফলমূল। জীবনকাল ৩০ থেকে ৪০ বছর।