ক্রেতাদের অভিযোগ- দাম
কমার বদলে বেড়ে গেছে।
অনেক বিক্রেতা সরকারের বেঁধে দেয়া
দামের কথাই জানেনা।- বিক্রেতা
মরিয়ম জাহান মুন্নী
‘আলু কত? কেজি ৫০ টাকা। দুই কেজি নিলে ৪৮ টাকা করে রাখা যাবে’।
দুই নম্বর গেট কর্ণফুলী কমপ্লেক্সের এক সবজি বিক্রেতা রাজ্জাক আলী নামের আরেক ক্রেতাকে আলুর দাম জানতে চাইলে এমন উত্তর দেন। কিন্তু দু’দিন আগেই বাজারে লাগাম টানতে আলু, ডিম ও পেঁয়াজের দাম বেঁধে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। যা গতকাল শুক্রবার থেকেই কার্যক্রর হওয়ার কথা ছিল। তবে নগরীর পাইকারি বাজার রিয়াজউদ্দিন বাজার, চাক্তাইখাতুনগঞ্জ ও খুচরা বাজার দুই নম্বর গেট কর্ণফুলী কমপ্লেক্সসহ কয়েকটি কাঁচাবাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় আলু, পেঁয়াজ ও ডিমের দাম কমেনি। উল্টো ক্রেতারা অভিযোগ করছেন, কমার বদলে দাম বেড়ে গেছে। এদিকে, আবার অনেক বিক্রেতা সরকারের বেঁধে দেয়া দামের কথা জানেই না বলে শিকার করেন। গতকাল শুক্রবার নগরীর এ তিন বাজারে তিনটি পণ্যের এমন চিত্র দেখা যায়।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্যের উৎপাদন, চাহিদা ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা শীর্ষক বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি তিন পণ্যের বেঁধে দেন। এসময় তিনি খুচরা পর্যায়ে প্রতি পিস ডিমের দাম নির্ধারন করেন সর্বোচ্চ ১২ টাকা, প্রতি কেজি আলু ৩৬ এবং দেশি পেঁয়াজ ৬৫ টাকা বিক্রির কথা বলেন।
নগরীতে সবজির পাইকারি বাজার রিয়াজউদ্দিন বাজারে এখনো প্রতি কেজি আলু ৪৬ থেকে ৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবার চাক্তাই খাতুনগঞ্জে পাইকারিতে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৬ থেকে ৫৮ টাকায়।
চাক্তাইয়ে একটি পেঁয়াজের আড়তের ম্যানেজার মনিরুল ইসলাম রিপন বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ। এখন পেঁয়াজের দাম কমার সুযোগ নেই, উল্টো বাড়তে পারে।
খুচরা বাজার দুই নম্বর গেটে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় এবং দেশী পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। আলু বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকায়। এছাড়া আকার ভেদে (মাঝারি, বড়) প্রতি ডজন ডিম এখনো বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়। খুচরায় একটি ডিম ১৩ টাকা পড়ছে। তিনটি পণ্যের দাম অলিগলির দোকানগুলোতেও একই দামে বিক্রি হতে দেখা যায়।
দুই নম্বর গেট কাঁচাবাজারে কুমিল্লা ডিমের আড়ত’র নামের দোকানের স্বাত্বাধীকারি মাসুদ রানা বলেন, আজ (গতকাল) পাহাড়তলী পাইকারি বাজার থেকে ১শ’ পিস ডিম কিনতে হয়েছে এক হাজার ২৪০ টাকায়। তাহলে কোথায় দাম কমলো। বেশি দামে কিনলেতো বেশি দামেই বিক্রি হবে। এসময় তিনি আরো বলেন, দাম কমাতে অভিযান পরিচালনা করতে হবে। তবে অবশ্যই আগে পাইকারি বাজারের আড়তগুলোতে অভিযান চালাতে হবে। তারা কমালেই খুচরায় দাম কমবে।
এখানের ব্যবসায়ীরা বলছেন, পণ্যের দাম কমলেও নতুন দামের পণ্য বাজারে আসতে দু’তিন দিন সময় দিতে হয়। পাইকারি বলেন আর খুচরায় ব্যবসায়ীদের কাছে পূর্বের দামের পণ্যগুলোতো পূর্বের দামেই বিক্রি করতে হয়। তবে নতুন দামের পণ্য আসলে অব্যশই সেই দামে বিক্রি করা হবে।
এসময় ক্রেতা রাজ্জাক আলী বলেন, গতকাল রাতে খবরে দেখেছি আলু, পেঁয়াজ ও ডিমের দাম কমিয়ে নির্দিষ্ট একটি দামে বেঁধে দিয়েছে। তাই আজতে বাজারে এসেছি এসব পণ্যগুলো কিনবো বলে। কিন্তু বাজারে এসে দেখি চিত্র উল্টো। ডিম সেই ৫০, ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবার আলুতো আরো এক কাঠি উপরে। দু’দিন আগেও আলু ৪৫ টাকায় কিনেছিলাম। এখন দাম কমার বদলে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। দাম নির্ধারন করে দেয়ার পর উল্টো আরো বেড়ে গেছে।
আরেক ক্রেতা আবদুল হকও একই কথা বলেন, তিন দিন আগেই এক কেজি পেঁয়াজ কিনেছিলাম ৫০ টাকায়। যদিও আশপাশের অন্যান্য দোকানে ৬০ টাকাও দেখেছিলাম। কিন্তু এখনতো ৬০ থেকে ৬৫ নিচে আর বিক্রি হচ্ছে না।